শনিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০ ২০
জাতীয় ডেস্ক
৫ নভেম্বর ২০ ২০
১:১৪ অপরাহ্ণ
উপসচিব পদে ২৭ ব্যাচের পদোন্নতি
বহু প্রতীক্ষিত এসএসবির বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ

উপসচিব পদে পদোন্নতির বিষয়ে আজ থেকে এসএসবির (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) বৈঠক শুরু হচ্ছে। যথারীতি লাইনপোস্টের নির্ধারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও বহু প্রতীক্ষিত ২৭তম ব্যাচের পদোন্নতি বিবেচনাও বিবিধ তালিকায় এজেন্ডাভুক্ত হয়েছে। এমনটিই জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিভিন্ন ক্যাডারের লাইনপোস্টের পদোন্নতি নিয়ে ৫টি এজেন্ডা নির্ধারিত আছে। এর মধ্যে গ্রেড-১ এর পদোন্নতি প্রস্তাবও রয়েছে। তবে আজকের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উপসচিব পদে পদোন্নতিকে ঘিরে। কেননা, সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও ২৭ ব্যাচের পদোন্নতি প্রক্রিয়া ফেব্রুয়ারি থেকে নানা কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। সিনিয়র স্কেলের বাইরে চাকরি জীবনে পদোন্নতি বলতে এটিই প্রথম ধাপ। এজন্য এ পদোন্নতি নিয়ে ব্যাচটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কোনো কমতি নেই। কবে এসএসবির সুপারিশ চূড়ান্ত হয়ে তাদের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হবে, তা নিয়ে হালনাগাদ সঠিক তথ্য জানতেই তারা বেশি আগ্রহী। অনেকে পদোন্নতি পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী থাকলেও কেউ কেউ ‘যদি’র মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন।

এদিকে প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে বাড়তি চাপ হিসেবে এবার যুক্ত হয়েছে বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের ৩৯ কর্মকর্তার নাম। ইতোমধ্যে এ ক্যাডার থেকে ২৫তম ব্যাচ পর্যন্ত ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে কয়েকশ’ কর্মকর্তাকে মার্জ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাচগুলোকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে ধাপে ধাপে পদোন্নতি দিয়ে মার্জ পর্বের ইতি টানা হবে। সূত্র জানিয়েছে, উল্লিখিত কর্মকর্তাদের মধ্যে সবার পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।

এমনকি এর মধ্যে স্পর্শকাতর মামলাও আছে। যা বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। যদিও প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ কেউ যে কোনো মূল্যে পদোন্নতি পেতে সব চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এর বাইরে রয়েছে ইতিপূর্বে উপসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত লেফটআউট কর্মকর্তাদের প্রবল চাপ। যাদের অনেকেই পদোন্নতিযোগ্য।

এ যখন অবস্থা তখন উপসচিব পদে ওই অর্থে শূন্যপদ আদৌ অবশিষ্ট আছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ৪৩০টি সুপারনিউমারি পদ ধরেও হিসাব মেলানো কঠিন হবে। তবু পদোন্নতি জট কমাতে যেভাবে গত কয়েক বছর ধরে পদোন্নতি হয়ে আসছে এবারও সেভাবে হবে। মোদ্দাকথা, এবার ত্রিমুখী সংকট ফেস করে এসএসবিকে একটি ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য পদোন্নতির পথ তালাশ করতে হবে। অনেকে বলছেন, প্রশাসন পিরামিড একটি স্বস্তিদায়ক কাঠামোতে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতির চলমান ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

এবার নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিবেচনায় আসা প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের দু’শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় আসছেন। ২০০৮ সালে এ ব্যাচের ২৭৭ কর্মকর্তা নিয়োগ পান। তবে সবাই যোগ দেননি। এর মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন। আরও কয়েকজন ক্যাডার পরিবর্তন করেছেন। বর্তমানে ২৪২ জন কর্মরত আছেন। ব্যাচের ১৪০ কর্মকর্তা সিনিয়র স্কেল পান ২০১৪ সালের পহেলা জুন। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অবশিষ্ট ১০২ জন সিনিয়র স্কেল লাভ করেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পদোন্নতির জন্য ফিট ছিলেন ১৮৬ জন। পরে ফিট তালিকায় আরও বেশ কিছুসংখ্যক যুক্ত হন।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য