শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০ ২০
৯:০ ০ অপরাহ্ণ
মাইজাল হাওরে গানের সুরে বাজনার তালে ঐতিহ্যে’র “নৌকা বাইচ”

শেখ আব্দুল মজিদ:: “কোন মিস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূর পংখী নায়” ঐতিয্যবাহি গানের তালে “নৌকা বাইচ“। বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীমার্তৃক বাংলাদেশের নদী, হাওর ও খাল, বিলের ভরা যৌবনে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মাইজাল হাওরে সিলেট বিভাগের ৪ জেলার রং বেরং এর ২০ টি নৌকার অংশগ্রহণ ও কয়েক হাজার দর্শণার্থীর আগমনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমকালো আয়োজনের নৌকা বাইচ।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকা বাইচের প্রথম দৌড় অনুষ্ঠিত হয় বিকেল ৩টায়। বাংলার বাঘ, বাংলার রকেট, উড়াল পবন, বাংলার পবনসহ বিভিন্ন এলাকা ও সংঘের নামে নামকরণ করা প্রায় ২০টি নৌকা মধ্যে প্রথম দৌড় অনুষ্ঠিত হয় ৩টি ময়ূর পঙ্খী নৌকা দিয়ে। ২য় রাউন্ডে ৪ পর্বের বাছাই প্রতিযোগিতায় ৩টি করে নৌকা অংশগ্রহন করে। প্রতি বাইচ পর্ব থেকে একটি করে বিজয়ী নৌকা নিয়ে ফাইনাল নৌকা দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। 
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ময়ূর পঙ্খীসহ রং-বেরংয়ের নৌকার বৈঠার তালে ও বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের “কোন মিস্তরি নাও বানাইল কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূল পঙ্খী নায়” করতাল (বাজনা) শব্দে, বিখ্যাত গানে হাজার হাজার দর্শকে মূখর ছিল বালাগঞ্জ উপজেলার ৪নং পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নের হরিশ্যামের পর্বে মাইজাল হাওর। রং, বেরংয়ের নৌকা, নানান নামের নৌকায় বিভিন্ন ধরনের জার্সি পরিহিত নৌকায় থাকা বৈঠা হাতে মাঝি-বাল্লাদের রঙ্গে মাতোয়ারা ছিল কয়েক কিলোমিটার জায়গা ভর্তি উৎসুক দর্শক। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুপুর থেকে শুরু হওয়া ‘মাইজাল হাওর‘ সিলেট বিভিন্ন উপজেলা থেকে শিশু, বনিতা, বৃদ্ধ নৌকার হাজার হাজার সমর্থকরা জড়ো হোন বালাগঞ্জের মাইজাল হাওরে। দুপুর ১২ থেকে শুরু হওয়া নৌকাবাইছ চলে বিকেল সাড়ে ৩টায় গিয়ে থামে। দুপুর ১টা থেকে -২টার মধ্যে হাজার হাজার দর্শকে পরিনত হয় নৌকা বাইচের এলাকা। 
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শণার্থীরা জানান, প্রাচীণ ঐতিহ্য হচ্ছে নৌকা বাইচ। কিন্তু যুগের তালে হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্যবাহি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। ফলে ওই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।  
সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে আগত নৌকার মাঝি-বাল্লারা জানান, যে জায়গায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার খবর শুনেন, সেখানেই তা অংশগ্রহণ করেন। তবে আগর দিনের মতো এখন আর তেমন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হয় না।
উল্লেখ্য, হরিশ্যাম যুবসমাজ আয়োজন করে বিশাল নৌকা বাইচ। শনিবারে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা একদিনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ফাইনাল পর্বে বাইচে একটি নৌকা অনিয়মের কারণে দৌড়ের তলা থেকে ফিরে আসে। যার কারণে দৌড় শেষ হওয়ার পর দদ্বে থেমে যায় ফাইনাল দৌড়ের পুরস্কার বিতরণ। কমিটির সিন্ধান্ত অনুযায়ী ৫টি নৌকার ফাইনাল দৌড় পিছেয়ে দেয়া হয়। আয়োজক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, রোববার ৫টি নৌকার দৌড় প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু নৌকা মালিকদের অনুরোধে তা পিছিয়ে দেয়া হবে। চলতে মাসের যে কোন একদিন আবারও ৫টি নৌকার দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। নৌকা বাইচের প্রথম একটি গরু, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি ভেড়া, ৩য় পুরস্কার একটি রঙ্গিন টিলিভিশন রয়েছে। 


 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য