সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ১০ ১৪২৬   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

সিলেট নগরের অপরাধ আস্তানাগুলোতে চলছে অভিযান

এ টি এম তুরাব:: 

ড্রীম সিলেট

প্রকাশিত : ০৯:১৮ পিএম, ১৫ জুন ২০১৯ শনিবার

নগরীতে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে মাঠে নেমেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। নজরধারীতে রাখা হয়েছে নগরের অলিতে গতি গড়ে উঠা অপরাধ আস্তানাগুলো। প্রায় প্রতিদিন নগরের কোথাও না কোথাও অপরাধ আস্তানাগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। চালছে মাদক, জুয়ার আস্তানাগুলো পুলিশী হানা ও গ্রেফতার।

পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চলছে ডিবি পুলিশের অভিযান। আর এসব অভিযানগুলোতে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে বাইরে রাখা হচ্ছে। এরপরও থেমে নেই শিলং তীর নামক জুয়া খেলা ও আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ। রমজানের শেষের দিকে মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযান শুরু করলেও ঈদের পরে অভিযানটি জোরদার করা হয়।

আর থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে অভিযান বাহিরে রাখার ফলে অভিযানের সুফল পাচ্ছে পুলিশ। গত দুই সপ্তাহের মাদক, জুয়া ও অসামাজিকতার অভিযোগে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী ও পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে নির্ধারিত মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক আসামীদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযানটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) মোঃ জেদান আল মুছা।  
গত কয়েকদিন আগে বেশ নগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মেট্রোপলিটন পুলিশ নড়েচড়ে বসে। এ নিয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায়ও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। এরপর থেকে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অপরাধ আস্তানাগুলোতে এ্যাকশন নিতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীর পার পাওয়ার সুযোগ নেই-এই নীতিকে সামনে রেখে প্রায় প্রতিদিন নগরের কোথাও না কোথাও অভিযান চলছে।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে লাক্কাতোড়া চা বাগান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৯ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছে মজুমদারি এলাকার উজ্জ্বল, মোহাম্মদ আলী, বাগবাড়ি এলাকার বাবুল, ওসমানী মেডিকেল এলাকার মঞ্জু রাম কর, নিহার দাস, হোসাইন, সানাই মিয়া, জমির আলী ও মকুল।

৯ জুন সোমবার দক্ষিণ সুরমা থেকে ইয়াবাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। স্থানীয় খোজারখলা দুলালের কলোনির সিরাজুল ইসলাম সেলিমের ভাড়া ঘরের সামনে থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম সেলিনা আক্তার। একই দিন শহরতলীর শিবেরবাজারে অভিযান চালিয়ে লোকমান মিয়া নামের এক চিহৃত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এসময় তার বসতঘর থেকে ৪৪ বোতল ভারতীয় অফিসার চয়েস মদ উদ্ধার করা হয়।
১১ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর কাজিরবাজারের আলোচিত জাহাঙ্গীরের জুয়ার আসর থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় ৬ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো মোঃ কাউসার আহমদ, মোঃ কাজল মিয়া, আবুল কাশেম, মোঃ কেরানী, ডালিম মিয়া, দেলোয়ার হোসেন। এসময় তাদের কাজ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অপর দিকে সোমবার বিকালে ওই জুয়ার বোর্ড থেকে অভিযানকালে জুয়া বোর্ডের পরিচালক জুনেদসহ ১২ জনকে আটক করা হয়। জুনেদের বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় আরো তিনটি মামলা রয়েছে। অভিযানে তিনটি রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো মো. মুছাব্বিরের পুত্র মো. জুনায়েদ আহম্মেদ, মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র মো. বাহার উদ্দিন, মৃনাল সরকার, মো. নাসির উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, মো. সালমান, দিলাল খান, মো. উজ্জ্বল মিয়া, মো. তানভীর হোসেন। তাদের কাছ থেকে নগদ ২৫৯০ টাকা, ৮টি মোবাইল, তীর খেলায় বোর্ড, ১টি মোটরসাইকেল, হিসাব রাখার রশিদ ১০০ পাতাসহ জুয়া খেলায় ব্যবহৃত সারঞ্জাম।
এ দিকে নগরের দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারী ও পুরুষসহ ২১জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৮জুন দুপুরে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলাস্থ বাবনা পয়েন্টে হোটেল আকাশে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১১জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতরা হলো ছালেহ আহমদ, বাবুল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া, ইলিয়াস আলী, মোঃ রফিক, জাকির আহমদ, লিটন বিশ্বাস, লিমা, বাবলি আক্তার, কুলসুমা বেগম, তানিয়া। গত ১২ জুন রাত সাড়ে ৮টায় লালদিঘীরপাড়ে হোটেল সুপার অভিযান চালিয়ে ৭ নারী ও ৩ পুরুষকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন পিংকী, পান্না বেগম, কবিতা, বৃষ্টি, রিমি আক্তার, রাবেয়া, খাদিজা, নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার মো. সুলতান আহমদ, আব্দুর কুদ্দুস, আব্দুল বাছিত। 
অপর দিকে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে অভিযান চালিয়ে শহরতলির আটকিয়ারী গ্রামস্থ আল্লাহর দান মায়ের দোয়া মোটরস দোকানের সামনে থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলো গোয়াইনঘাট উপজেলার খাইরাইজুতির গ্রামের মৃত সাজ্জাদুর রহমানের  ছেলে মো. মফিজ আলী ও একই উপজেলার কান্দিগ্রাম গ্রামের মৃত সোয়াব আলীর ছেলে মহিবুর রহমান। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেপ্তারকৃতদের সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বারখলাস্থ জয়নালের কলোনীতে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এসময় তার হেফাজতে থাকা ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। সে দক্ষিণ সুরমা জালালপুর রায়খাইলের মৃত বাচ্চু মিয়ার পুত্র। 
সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) মোঃ জেদান আল মুছা দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, মাদক, জুয়া ও অসামাজিকতার বিরুদ্ধে এসএমপি পুলিশের জিরো টলারেন্স। পূণ্যভূমি সিলেট নগরীতে অপরাধীদের জায়গা নেই। যে যতো বড় প্রভাবশালী হোক, কোন অবস্থাতে অপরাধীদের ছাড় দিবে না পুলিশ।