সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

নতুন পোশাক কিনতে কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী

ড্রীম সিলেট

প্রকাশিত : ০৬:১৮ পিএম, ৩১ মে ২০১৯ শুক্রবার

এ টি এম তুরাব:: সন্নিকটেই ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানেই খুশি। রমজান শেষ হলেই ঈদ আনন্দে ভাসবেন মুসলমানরা। আর সাজসজ্জা ছাড়া কি ঈদ আনন্দ হয়?  এই খুশির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায় নতুন পোশাকে। সাধ ও সাধ্যের মিশেল ঘটিয়ে সবাই চেষ্টা করেন নতুন পোশাক কিনতে। আর ক্রেতাদের পছন্দ আর দামের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে বিক্রেতারা। ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে, শপিংমল গুলোতে বেচাকেনা ততই বাড়ছে। নতুন পোশাক কিনতে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ ।
শপিংমলে কেউ আসছে আবার কেউ বের হচ্ছে। হাতে হাতে ব্যাগ। আর শপিংমলের ভেতরে বিক্রেতাদের দেখা গেছে ক্রেতাদের পণ্য বিষয়ে ধারণা দিতে। কেউ কিনেছেন পোশাক, কেউ জুতো, কেউ প্রসাধনী। কেউ বা সব কিছুই। সকাল থেকে রাত অবধি একই চিত্র। যে দিকে তাকানো যায় সে দিকেই শুধু মানুষ আর মানুষ। 
এবার ঈদে মেয়েদের পোশাকে এসেছে চমক। মোগল আমলের পোশাকসহ ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের সিরিয়ালের কিরণমালা, অপরাধী, শিমুল, বকুলসহ বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকগুলো ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য বার্বি ডলের গায়ে সাঁটিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন কিনছেন তাদের পছন্দ মতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে হরদম কেনাকাটা। নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। ব্যবসায়ীরা বলছেন আরো তিন থেকে চার দিন পরে মার্কেটগুলোতে পা ফেলার জায়গা পাওয়া যাবে না। ক্রেতাদের ভিড় আরো কয়েকগুণ বাড়বে। জমবে বেচাকেনার উৎসব।
তবে এবার মেয়েদের পোশাকে নতুন চমক নিয়ে এসেছে ‘গারারা’। মোগল আমলের এই পোশাকটি ভারতীয় উপমহাদেশের একটি পোশাক। সময়ের বিবর্তনে ‘গারারা’ যোগ হয়েছে হাল ফ্যাশনে। এই পোশাকটির কামিজের দৈর্ঘ্য হাঁটু অব্দি। সঙ্গে থাকে সালোয়ার। সালোয়ারটি খানিকটা লম্বা তবে হাঁটুর কাছে এসে কুচি দেয়া। কুচি পরে বেশি ঘের হয়ে নিচের অংশ নেমে গেছে। রংয়েও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চমক। পোশাকগুলো সাধারণত জর্জেট, সিল্ক, কটন ও নেট কাপড়ের তৈরি। ‘গারারা’ ছাড়াও গাউন, বাবরি গাউন, কোটি সিস্টেম গাউনসহ নানান ধরনের পোশাক দোকানে সাজিয়ে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। ‘গারারা’ পোশাকটি বাজারে অনেক সারা ফেলেছে। তবে বাচ্চাদের পোশাকেও দেখা মেলে ভিন্নতা।
ঈদ এলো মাস্তানি, দিলওয়ালে, ওবামা, মোদি কোট, মাসাককালি, বাজরাঙ্গি, পাখি, ওয়েস্টার্ন ক্যাপ্রিসহ বাহারি সব নাম ফিরে আসে পোশাকের বাজারে। ছোটদের পোশাকের এসব নাম নিয়ে তেমন শোরগোল কিংবা বিতর্ক দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের কিরণমালা, অপরাধী, শিমুল, বকুল, সাতভাই চম্পাসহ পোশাকের নামগুলো বেশ হইচই দেখা গেছে। এ নিয়ে নানা মাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে বিস্তর।
তবে এবার পেছনের সব সমালোচনাকে ছাপিয়ে ঈদ বাজারে এসেছে মেয়েদের পোশাক ‘পরকীয়া’। নগরীর অভিজাত মার্কেটগুলোয় ক্রেতা আকর্ষণের জন্য বার্বি ডলের গায়ে সাঁটিয়ে রাখা হয়েছে এ পোশাকটি। দামের বাজারে অনেক এগিয়ে নতুন নামের এ পোশাকটির দাম হাঁকানো হয়েছে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত। এ নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় পোশাকের এমন নামকরণ বেহায়াপনার সুড়সুড়ি বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচনাকারীরা।
শুকরিয়া মার্কেটের মেয়েদের সালোয়ার-কামিজের বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই কেনাকাটার চেয়ে দেখাদেখি ও দর-দামের প্রতি বেশি আগ্রহী। তবে যারা কিনছেন, তাদের বেশির ভাগই কিনছেন শিশু-কিশোরদের পোশাক।