মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

বাড়তি প্রণোদনা চায় বস্ত্র ও পোশাক খাত

ড্রীম সিলেট

প্রকাশিত : ০২:২৯ পিএম, ২৯ মে ২০১৯ বুধবার

ডেস্ক নিউজ:: নগদ সহায়তাসহ একগুচ্ছ নীতি সহায়তা চায় বস্ত্র ও পোশাক খাত। এর মধ্যে সব রফতানি বাজারে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে এ দুই খাতের চার সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও ইএবি। আসন্ন বাজেট সামনে রেখে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন এসব সংগঠনের নেতারা।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও একটা ক্রান্তিকাল পার করছে পোশাক খাত। প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে। গত এক মাসে ২২ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট ও মাঝারি মানের আরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বেতন-বোনাস পরিশোধে সংকটে আছে অনেক কারখানা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী বাজেটে কার্যকর করার জন্য এসব প্রণোদনা চাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চার সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহমেদ এবং ইএবির প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এসব সংগঠনের অন্য নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, নতুন কাঠামোয় মজুরি পরিশোধ, সংস্কারে কারখানাপ্রতি পাঁচ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের চাপ ও পোশাকের ন্যায্য দর না পাওয়ার কারণে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে পোশাক খাত। প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে। এ অবস্থা শিল্প, শ্রমিক এবং দেশের অর্থনীতি কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়। এ কারণে এবার বাজেটে বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী বাজেটে সব বাজারে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা চান পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। এতে মোট ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিদ্যমান নগদ সহায়তার অতিরিক্ত ১১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেটের কাছে এ অর্থ এমন কিছু নয়। তবে এর বেশি কয়েকগুণ মুনাফা পাবে দেশ। আগামী পাঁচ বছরে এ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হলে পোশাক খাত ফের ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।

রুবানা হক দাবি করেন, ডলারের সঙ্গে বিনিময়ে টাকার মান অন্তত আরও পাঁচ টাকা বাড়াতে হবে। এ রকম হলে রফতানি সক্ষমতা ৬ শতাংশ বাড়বে। মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশের মুদ্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টাকার মান নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া রয়েছে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের মেয়াদ দ্বিগুণ করা, ভ্যাট থেকে তৈরি পোশাকের সব সেবাকে অব্যাহতি দেওয়া, উৎসে কর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে অব্যাহত রাখা, উৎসে করকে চূড়ান্ত দায় হিসেবে গণ্য করা ও করপোরেট কর ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা ইত্যাদি। এর বাইরে শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবিও করেন তিনি।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, পোশাক খাত ভালো না থাকলে বস্ত্র খাত ভালো থাকবে না। এজন্য পোশাক খাতের রফতানিতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে ধার্য করা ১৬ শতাংশ শুল্ক্ক হারে নগদ সহায়তার দাবিও তার। তিনি বলেন, বস্ত্র খাতে ব্যবহূত গ্যাসের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হলে সুতার মূল্য কেজিতে ১০ টাকা বাড়বে। এতে দেশি বস্ত্র খাত আরেক দফা দুর্বল হয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি করেন তিনি। বন্ড লাইসেন্সের অপব্যবহারে মাধ্যমে শুল্ক্কমুক্ত অবৈধ সুতা-কাপড় আমদানির কারণে দেশের বস্ত্র খাত সবচেয়ে বড় সংকটে আছে বলে জানান তিনি। এ খাতের অন্যান্য সমস্যা তুলে ধরেন মোহাম্মদ আলী খোকন।

পোশাকের খাত নিয়ে বিজিএমইএর সভাপতির বক্তব্যের অতিরিক্ত হিসেবে বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর তাদের কথা শোনে, তবে বাস্তবায়ন করা হয় না। পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সমাধান আনতে হয়। তিনি বলেন, এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।

ইএবির প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রণোদনা পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত। রফতানির পাঁচ বছর পরও হাতে প্রণোদনার অর্থ আসে না। ভ্যাট নিয়ে আছে হয়রানি।