মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

৫৭৭

ময়নাতদন্ত তিন ছবির 

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৯ ১৮ ০৬ ১০  

বিনোদন ডেস্ক ::পাসওয়ার্ড’ ছবির একটি গানের দৃশ্যে শাকিব খান ও বুবলীঈদের আনন্দ উদযাপনের এখন অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নতুন ছবি দেখা। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে চিত্রপুরিতে থাকে বাড়তি প্রস্তুতি। এ সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতেও থাকে ঈদের আনন্দমুখর আবহ। ঝাঁকানাকা নাচ আর গল্পে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়ার নানা প্রচেষ্টা নিয়েই মুক্তি পায় ঈদের ছবিগুলো। ব্যতিক্রম হয়নি এবারের ঈদেও। এবারের ঈদের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেযেছে তিন ছবি ‘পাসওয়ার্ড’, ‘নোলক’ ও ‘আবার বসন্ত’। কেমন হলো  এবারের ঈদের ছবি সে বিষয় নিয়েই এ আয়োজন...

পাসওয়ার্ড নয় পেনড্রাইভের গল্প

প্রায়ই অভিযোগ ওঠে শাকিব খান থাকলে অন্য নায়ক অভিনীত দৃশ্য সম্পাদনা করে ফেলে দেওয়া হয়। তবে 'পাসওয়ার্ড' ছবিতে শাকিব যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ইমনও ঠিক ততটাই। বরং ইমনের কাছে পেনড্রাইভ আসার পর থেকে মূল গল্প শুরু হয়। এই গল্পের প্যাকেজিং শাকিব খানের আর দশটা ছবি থেকে আলাদা হলেও, প্রযোজক যেহেতু শাকিব খান, বাজেটও বেশ চড়া। মুক্তির আগে যেহেতু বলা হয়েছে ছবিটি বিশ্বমানের- স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশার পাল্লাও বেড়ে গিয়েছিল দর্শকদের। এটা ঠিক, পরিচালক মালেক আফসারী ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিটে দর্শকদের বিনোদনমূলক একটি গল্প উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আবদুল্লাহ জহির বাবুর গল্পে গতিও ছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই গল্পটিও শাকিবের প্রথম প্রযোজিত 'হিরো দ্য সুপারস্টার' [তেলেগু ছবি 'রেবেল']-এর নকল, মৌলিক নয়। শাকিবের 'পাসওয়ার্ড' ফ্রেঞ্চ ছবি 'পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক' ও কোরিয়ান ছবি 'দ্য টার্গেট'-এর কাট-কপি-পেস্ট।

যদিও শাকিব খান ধারকৃত কাহিনীর বাংলায় চিত্রায়ণের পেছনে টাকার সঠিক ব্যবহার করেছেন। সিংহভাগ অংশের শুটিং বিএফডিসিতে না করে সত্যিকারের হাসপাতাল, শিশুমেলা, শপিং মলসহ বাস্তবিক লোকেশনে চিত্রধারণ হয়েছে। ছবির গল্পে মূল নায়কের পেশা এড়িয়ে যাওয়া, বাড়িওয়ালা তার নিজের মেয়েকে ছোটবেলা থেকে চেনেন না অথচ মৃত্যুর পর তাকে হুট করে শনাক্ত করা, নায়িকার চরিত্রের  ব্যক্তিত্ব কমিয়ে আইটেম গানের সংযুক্তি, একজন ডাক্তারের যুক্তি ছাড়াই নায়কের প্রেমে পড়া এবং পরে নায়ক-নায়িকার জন্য মন পাগল হওয়াসহ আরও বেশকিছু অসঙ্গতি রয়েছে ছবিতে। তাছাড়া বিশ্বমান দাবি করা একটি চলচ্চিত্রে গুলির ভিএফএক্স ও শব্দ এখনও বেশ সেকেলে। থ্রিলার-অ্যাকশন ছবির অ্যাকশন বিশ্বমানের হবে প্রত্যাশা করেও ফল পাইনি। অহেতুক 'কমেডি' পর্ব কমিয়ে ক্ষুরধার করা যেত ছবিটিকে। 

তবে এসব সীমাবদ্ধতাকেই শাকিব খান তার পর্দায় উপস্থিতি দিয়ে দূর করে দিয়েছেন। 'রুদ্র' চরিত্রে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। 'পাসওয়ার্ড দিয়েছি, কিন্তু ক্যাশ করতে পারবি না'- শাকিব খানের এই সংলাপ বলার ধরন মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। অন্য চরিত্রদের অভিনয় করার জায়গা দেওয়ার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ পাবেন তিনি। বিশেষ করে ইমনের সঙ্গে তার 'ভাই-ভাই জুটি' ভবিষ্যতে আরও দেখতে চাই। ইমন এ ছবির বিস্ময়। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রে কাজ করলেও 'পাসওয়ার্ড' ছবিতে ইমন দশে দশ। তাকে যে চরিত্রে নির্বাচন করা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইমনকে ধন্যবাদ, একজন নায়ক হয়েও এ ধরনের চরিত্র নির্বাচন করে নিজের সেরাটুকু দেওয়ার জন্য। নায়িকা বুবলীও এ ছবিতে ভীষণরকম সাবলীল। গানের দৃশ্যে মুগ্ধ না করলেও পুরো ছবিতে বুবলী অতীতের সব পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় করেছেন। এমনকি অ্যাকশন দৃশ্যেও বেশ সাবলীল তিনি। মিশা সওদাগর এ ছবির আরেকজন সফল তারকা। তার চরিত্রটি যেভাবে শুরু হয়েছে কিংবা তার ম্যানারিজম/ কথা বলার স্টাইল/ মাটিতে বসে পড়ার স্টাইল কিংবা কিছু সংলাপ প্রক্ষেপণের ধরন [আমি টাকা পেলে তোর কী? / এই দুনিয়ায় সবাই অসুস্থ/ রুশো, তুমি ভালো আছো? কিছু খাবে তুমি? / আমার মাথায় চুল কম, ভুলও কম/ আই হ্যাভ নো ফিয়ার, ভিক্টর ইজ হেয়ার] দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। 

আরেকটি বিষয়ে ধন্যবাদ না দিলেই নয়, অ্যাকশন-থ্রিলার ছবিতে গানের আধিক্য ছিল না। তবে কোনাল 'আগুন লাগাইলো' দারুণ গাইলেও বিরতির আগে এ ধরনের অযৌক্তিক গান বুবলীর চিকিৎসক চরিত্রের ব্যক্তিত্ব খর্ব করেছে। 

'পাসওয়ার্ড' ছবির আবহ সঙ্গীতে ইমন সাহা তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শিল্প নির্দেশনা আরও অত্যাধুনিক হতে পারত [বিশেষ করে গাড়ি নিয়ে সেট ভেঙে ফেলার দৃশ্য]। রঙ বিন্যাস ঢাকাই ছবির তুলনায় বেশ ভালো : ঝকঝকে, চকচকে। সর্বোপরি, মালেক আফসারী পরিচালিত ঈদের ছবি 'পাসওয়ার্ড' শাকিব খানের সাম্প্রতিক সময়ের দেশীয় প্রযোজনার তুলনায় মোটামুটি উপভোগ্য হলেও দিন শেষে একটি 'নকল চলচ্চিত্র' হিসেবেই স্বীকৃতি পেল। শাকিব খান চাইলে তো সবই সম্ভব। নকল গল্প নিয়ে ধারাবাহিকভাবে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করা কি খুব জরুরি? 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর