বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

৯৪০

পর্যটকদের সমাগমনে মুখরিত সিলেটের পর্যটন স্পট

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০১৯ ২২ ১০ ৫৫  

সারিবদ্ধ চা-বাগান, উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা, ঝরনা আর সবুজের প্রাচুর্যে ভরা সিলেট। এই অঞ্চলের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যে ও সৌন্দর্যের ভা-ার। সবুজে মোড়া পাহাড়ের কোলঘেঁষা পাথুরে নদী, বন কী নেই সিলেটে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে! পর্যটন ম্পটগুলো ঘুরে এসে রিপোর্ট করছেন এ টি এম তুরাব।

সিলেটকে বলা হয় পর্যটন নগরী। আবার কারো কাছে ‘দু’টি পাতা, একটি কুঁড়ির দেশ হিসাবে পরিচিত। যে যাই বলুক প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যে ও সৌন্দর্যের ভা-ার সিলেট। এখানকার পর্যটন স্পটগুলো যেন প্রকৃতির আপন সাজে সেজেছে। তাইতো প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢল নেমেছে পর্যটক দর্শনার্থীদের। পর্যটকদের সমাগমনে যেন মুখরিত পর্যটন এলাকাগুলো। ঈদ-উল ফিতর উদযাপনের পর ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রিয় অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছেন- দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ রংয়ের দেশ খ্যাত পূন্যভূমি সিলেটে। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত মানুষদের উপচেপড়া ভিড় পর্যটন স্পটগুলোতে। আর পর্যটকদের থাকার জন্য আবাসন ব্যবস্থা ও আতিথেয়তার জন্য হোটেল-মোটেল মালিকরা ঈদের পূর্ব থেকে প্রস্তুুতি নিয়েছেন।
আর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র। পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ রাখতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও সার্বক্ষণিক উদ্ধারকারী দল প্রস্তুুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার। 
সিলেটের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যে ও সৌন্দর্যের ভা-ার। এখানকার নৈসর্গিক প্রাকৃতি খুব সহজে পর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে। প্রাকৃতিকন্যা জাফলং ও পাথরের বিছানাখ্যাত বিছনাকান্দিতে পাথরের মাঝ দিয়ে ছলাৎ ছলাৎ পানির আওয়াজ। পাহাড়ের বুক চিরে গড়িয়ে গড়িয়ে নামা ঠান্ডা পানি। লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলের আর রাতারগুলের সোয়াম ফরেস্টের মনভোলানো দৃশ্যপট দেখতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো। উঁচু উঁচু পাহাড়ে ভারত থেকে নেমে আসা মায়াবী ঝরনার পানি, খাসিয়াপুঞ্জি আর সারিবদ্ধ চা-বাগান চা-বাগানের সবুজ শ্যামল দৃশ্য উপভোগ করতেই সিলেটে ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা। ঈদের লম্বা ছুটিতে সিলেট বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই সপরিবারে ছুটে এসেছেন। তারা পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে হৈ-ই হুল্লোড় আর নেচে গেয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। আর প্রিয়জনদের এই আনন্দঘন মুহূর্তের দৃশ্যগুলো কেউ কেউ ক্যামেরাবন্ধি করছেন এমন দৃশ্য এখন পর্যটনগুলোতে গেলেই দেখা যাবে।
শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, ভিড় বেড়েছে পার্কগুলোতেও। ওসামানী শিশু উদ্যান, টিলাগড় ইকোপার্ক, অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড, জাকারিয়া সিটি, ড্রিমল্যান্ড পার্কে দুপুর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
জানা যায় এখানকার সৌন্দর্যই মানুষকে আকৃষ্ট করে। প্রাকৃতিক সবুজ সুনিবিড় সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ঈদের ছুটিতে ছুটে আসেন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দর পর্যটন স্পটে। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলংয়ের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের ¯ূÍপ পর্যটকদের টেনে আনে বার বার। নির্জন মনকাড়া লালাখানের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, দীর্ঘ নৌ-পথ ভ্রমণের সাধ যেকোন পর্যটকের কাছে এক দুুর্লভ আকর্ষণ। প্রকৃতির কন্যা হিসেবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও সুনসান নীরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখাতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে।
জাফলং, বিছনাকান্দির পাশাপাশি রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট জৈন্তাপুরের লালাখাল, জাফলং ফাটছড়া মায়াবী ঝর্ণা, পান্তÍমাই মায়াবতী ঝর্ণাধারায়ও পর্যটক দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাহাড়, টিলা, নদী, চির সবুজের মিতালী আর নিরাপত্তার জন্য দেশের অপরাপর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ন্যায় প্রকৃতির আপন সাজে সেজেছে এখানকার পর্যটন স্পটগুলো। পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য বড়ই মনোরম। এখানকার রূপলাভন্যময় সারিবদ্ধ পাহাড়ের সবুজ মিশেল প্রকৃতি ভ্রমণপ্রেয়সী আর সৌন্দর্য্য পিপাসুদের আকৃষ্ট করে সুদীর্ঘকাল থেকে। তাইতো প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢল নেমেছে পর্যটক দর্শনার্থীদের। এবারও জাফলংয়েই সবচেয়ে বেশি পর্যটক, দর্শনার্থীর উপস্থিতি। দেখলে মনে হয় প্রকৃতিকন্যা জাফলং যেন আগের মতো করেই তার আপন মাধুর্য্যতায় ঘিরে ধরেছে তার দর্শনে আসা আগন্তুকদের। জাফলং খুব সহজেই আকৃষ্ট করে ভ্রমণ পর্যটকদের। এবারও দেশের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতিও জাফলংয়ে ছিলো লক্ষনিয়।  
গত বৃহস্পতিবার পর্যটন কেন্দ্র জাফলং দেখা যায়, ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে জাফলংয়ের আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেটে এসে জাফলংয়ে না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক সহ¯্রধিক পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণায়  জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টে নুড়ি পাথর ও বালু কণার ওপর দিয়ে ভারত থেকে নেমে আসা পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারায় অনেকেই জলকেলিতে মেতে উঠেছেন। তবে পাহাড়ি ঢলে পিয়াইন নদীর পানি খানিকটা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের ঈদে সব চেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে জাফলংয়ে। ঝর্ণার স্বচ্ছ জলে গাঁ ভিজিয়ে বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস করছেন পর্যটকরা। অনেকেই নিজের সাথে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়ে ছবি তুলে ক্যামারাবন্দি করে রাখছেন স্মরণীয় মূহুর্তটি। অন্যদিকে জল আর পাথরের মিতালী পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি ও সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুলেও হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। 
এছাড়াও আধিবসী জনগোষ্ঠী খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসত ঘর, খাসিয়া জনগোষ্ঠির পান চাষ জাফলং চা বাগানসহ আশপাশের সহ¯্রাতাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে।
রাজশাহি থেকে স্ব-পরিবারে জাফলং আসা ফিরোজ আহমদ জানান, ওপারে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, পিয়াইনের স্বচ্ছ জল ও মায়াবী ঝর্ণা সব মিলিয়ে পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্য। যা আর কোথাও নেই। আর তাইতো সময় সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে জাফলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করি। এবারের ঈদের ছুটিতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
সিলেটের পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকেরা এসেছেন। তাদের নিরাপত্তায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর