শাহেদ মোশারফ থেকে কটাই মিয়া হওয়ার গল্প


শিপন আহমদ:: | ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

IMG



সিলেটের নাট্য অঙ্গনে আলোচিত একটি নাম কটাই মিয়া। শক্তিশালী এই অভিনেতার প্রকৃত নাম শাহেদ মোশারফ। দীর্ঘ ২১ বছর থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যার সরব পদচারনা সেই শাহেদ মোশারফ ওরফে কটাই মিয়া জীবনে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। কিন্ত কোন বাধাই তার পথচলা রোধ করতে পারেনি। নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে এগিয়ে চলা শাহেদ মোশারফ-এর জন্ম ১৫ মে ১৯৮০ ইংরেজী। বাড়ী সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে। পিতা মৃত মোশারফ আলী, মাতা মোছাম্মত বেগম বিবি। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে শাহেদ মোশারফ ৪র্থ। বিবাহিত জীবনে এক কন্যা সন্তানের জনক তিনি। টানা ১৯ বছর ধরে অভিনয় করে চলেছেন সিলেটের নাটক পাড়ায়। পেয়েছেন জনপ্রিয়তাও। কমেডি চরিত্রে শাহেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে। সম্প্রতি একটি শুটিং স্পটে তার সাথে দীর্ঘ সময় কাটাই। তিনি আলাপচারিতায় জানান অনেক অজানা গল্প। তিনি বলেন, অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তো এই পথ চলা। অভিনয় করতে চাই সব মাধ্যমে। আমি মনে করি একজন অভিনেতা সব মাধ্যমের জন্যই অভিনেতা। মঞ্চ, টিভি এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় গুণেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। শাহেদ মোশারফের অভিনয়ের পথচলার শুরু ২০০০ সাল থেকে। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া শাহেদ মোশারফ প্রাইমারী স্কুলে পড়ালেখার সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতেন  সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হবার। আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত। তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শুধু সিলেটে নয়, ইউরোপ আমেরিকায়ও কটাই মিয়া সুপরিচিত। হাইস্কুলে গিয়ে মাত্র ৮ দিন ক্লাস করার পর তিনি লেখা পড়া বন্ধ করে দেন। তার একটাই চিন্তা, তিনি প্রতিষ্ঠিত হতে চান। ১৯৯৮ সালে তার মনে গান শেখার আগ্রহ জাগে।  তখন তিনি বিভিন্ন বাউল গানের আসরে যেতেন। সেই যাওয়ার সুবাদে বাউল শিল্পীদের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ১৯৯৯ সালের দিকে  কনসার্ট কর্ণারের ব্যানারে “স্মৃতির মালা” নামের একটি অডিও এ্যালবাম বের করেন। প্রায় দুই বছর গান শিখার পর দেখেন তার উচ্চারনে সমস্যা। তাকে দিয়ে গান হবেনা। তখন তিনি গানের নেশা ছেড়ে অভিনয়ের চিন্তা করেন।

২০০০ সালে তিন বন্ধু মিলে ‘চোখের জল’ নামে একটি নাটক বানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সিলেটের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং করেন। সিলেট রেল ষ্টেশনে শুটিং এর সময় চোখে পড়েন সিলেটের প্রবীণ নাট্যকার চম্পক সরকারের। তখন শাহেদ মোশারফকে উৎসাহ প্রদান করেন তিনি। দূর্ভাগ্যবশতঃ নাটকটির এডিটিং করতে পারেননি। আর এডিট না করার কারণে সেই নাটকটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ২০০১ সালের দিকে চম্পক সরকার ‘সুরমা নদীর তীরে’ নামে একটি নাটক নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন। তখন তিনি শাহেদ মোশারফকে খবর দিয়ে এনে তার নাটকে অভিনয় করার কথা বলেন।  শাহেদ মোশারফ এক কথায় রাজি হয়ে যান। কারণ,  তখন তিনি নাটক করার নেশায় পাগল। “সুরমা নদীর তীরে” নাটকটি প্রযোজনা করেন সিলেটের জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক খান কয়েছ  (তেরা মিয়া), শহিদুল ইসলাম সৈয়দ (কনা মিয়া)।
সে সময় অভিনয়ের পাশাপাশি শাহেদ মোশারফ সিলেট ষ্টেশন রোডে আনন্দ ফার্ণিচারে চাকরী করতেন। ২০০২ সালে ‘বোকার ভাগ্য’ নামে একটি নাটক নির্মাণ করেন শাহেদ মোশারফ । এই নাটকটি প্রযোজনা করে আনন্দ ফার্ণিচার। প্রায় তিন বছর চম্পক সরকারে ৪টি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। আনন্দ ফার্ণিচারের সত্বাধিকারী আব্দুর রউফ আর্থিকভাবে অনেক সহযোগিতা করেছেন শাহেদ মোশারফকে। শুধু আর্থিক নয় অভিনয়েও উৎসাহিত করেছেন তিনি।
২০০৬ সালের দিকে অভিনেতা নাগর মিঠুর ‘মামু বশির’, ২০০৭ সালের দিকে অভিনেতা জুয়েল আহমদ ( চান মিয়ার ) ‘তিন নাটা সিলেটে’, ২০০৮ সালের দিকে অভিনেতা জয়নাল আবেদিন পলাশ (বুড়– মিয়া)-এর  নাটক ‘আইয়া ঠেকি গেছি’ সিলেটে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তখন তিনিও চিন্তা করেন একক একটি চরিত্র নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে। সেই চিন্তা থেকে ২০১০ সালের দিকে রাসেল হামিদের রচনা ও পরিচালনায় ‘বাঁচতে গাউ ছাড়ো’ নাটকে শাহেদ মোশারফ কটাই মিয়া চরিত্রে অভিনয় করেন। এই নাটকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকে কটাই মিয়ার পথচলা শুরু। একে একে কটাই চরিত্রে ‘বাঁচতে টাউন ছাড়ো’, ‘ইলা আর কয়দিন খাইবায়’, ‘ধর্ম ডাকাতি’, ‘বিবেক ছাড়া মানুষ’সহ প্রায় ৩ শত নাটকে অভিনয় করেছেন। ২০১৫ সালে এনটিভির নাটক ‘নীলাকার’, ২০১৭ সালে বৈশাখী টেলিভিশনের ‘কাঁচা’ নাটকে অভিনয় করেন শাহেদ মোশারফ । বর্তমানে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করার প্রস্তাব পেলেও সিডিউল দিতে পারছেন না। এই অভিনেতা বর্তমানে সিলেটে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অভিনয় করতে গিয়ে চলার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও থেমে থাকেননি শাহেদ মোশারফ। তিনি বলেন, মনের মধ্যে ইচ্ছা শক্তি ও সাহস রাখতে হয়। তখন তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে। কোন বাধা তোমাকে দমিয়ে রাখতে পারবেনা। আল্লাহ চাইলে সব পারেন, তোমায় চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে  তিনি বলেন, আমি ভবিষ্যতে সিনেমার প্রডিউসার ও ভালো একজন ব্যবসায়ী হতে চাই। 




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন