পেঁয়াজ সংকট, লবণ নিয়ে ধূম্রজাল, পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটঃ কিসের লক্ষ্মণ, কি সমাধান?


| ০১:১৭ অপরাহ্ন, নভেম্বর ২০, ২০১৯

IMG



প্রথমত, বানিজ্য মন্ত্রীর অদক্ষতা আর অদূরদর্শীতা- যে যাই বলি বেলাশেষে এটা মানতেই হবে৷ যাদের কাছ থেকে আমরা পেঁয়াজ আমদানি করি, তাদের সাথে আমাদের ভৌগলিক, আঞ্চলিক রাজনীতিসহ নানান ইস্যু লেগেই থাকে বারোমাস, তাই প্রাকৃতিক হউক আর মনুষ্যসৃষ্টই হউক- সংকটকালীন সময়ে যাতে অবস্থা সামাল দেয়া যায় সে ভাবনা আগেই ভেবে রাখা আর বিকল্প বন্ধু ভেবে রাখা উচিৎ ছিল যা তিনি পারেননি।তোফায়েল সাহেবের সাম্প্রতিক বক্তব্য শোনলে বুঝা যায় উনারা কেমন করে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখতেন৷ বানিজ্য মন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারতেন, অন্যদেশের মন্ত্রী হলে তাই করতেন, খুশীই হতাম উনি স্বীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলে।

প্রশ্ন থেকে যায়, বানিজ্য মন্ত্রীর পদত্যাগই কি সুষ্ঠু একটা সমাধান এনে দিত? মনে হয় না- মন্ত্রীর পর মন্ত্রী আসবেন-যাবেন, এমনকি সরকারের পর সরকার আসবে-যাবে কিন্তু সমাধান হবেনা৷ কারন সমস্যাটা আমাদের সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা, অসাধু মুনাফালোভী মানুষের ছড়াছড়ি, সর্বদলীয় সিন্ডিকেট, সহযোগীতার বদলে দোষারোপের সংস্কৃতি, জনগণকে এসবের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামানোর মত শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব, তরুণ প্রজন্মের ফেইসবুক ফ্যান্টাসি আর গঠনমূলক সমালোচনার বদলে ন্যাশনাল ইস্যুকে তামাশার খোরাক বানানোর ট্রল-ট্রেন্ড ইত্যাদি সংক্রান্ত।

এতগুলো বিষয়কে পাশ কাটিয়ে কেবল মন্ত্রী, সরকার আর একজন শেখ হাসিনাকে একবাক্যে দায়ী করা সহজ কিন্তু সমাধানে সামষ্টিক সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসাটা কঠিন। সরকার কখনোই চাইবেনা এমন অবস্থা তৈরি হউক আর তাতে সরকারের জনসমর্থন বা জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে যাক। সুতরাং এটা সহজেই অনুমেয় যে, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, উদ্ভুত একটা সমস্যা আর এর সমাধানের পথ অবশ্যই সরকারকেই ভাবতে হবে। উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টানি আমরা, এটা কি জানিনা যে- কোন সংকটে তারা কিভাবে তাদের সরকারকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহায্য করে আর সবাই মিলে সমাধানের পথে আগায়৷ আমরা উদাহরণ দেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর যেমন ইংল্যান্ড-আমেরিকার আর নাগরিক হিসেবে আমাদের মান যে কোন লেভেলের, তা নিয়ে ভাবিনা!!

এই জায়গায় সরকারের ব্যর্থতা জাস্টিফাই করছিনা, করবও না, নতুন করে ভাবুক সরকার, সামনে যাতে আর এমন না হয়৷ সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও ব্যর্থ- তারাও পারেনি জনগনের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দিয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ গড়ে তুলতে, তা পারলে ভবিষ্যতে সরকার আরো বেশি চাপে থাকত, আগাম আগাম ব্যবস্থা করে রাখত যাতে এমন আর না হয়৷ দায়সারা মিছিল-মিটিং, মিডিয়া কাভারেজ, প্রেস রিলিজ- ব্যস, বিরোধী দলের কাজ শেষ!!
তাহলে সরকার-বিরোধী দল বা সকল বিরোধী শক্তিরা এখানে একযোগে ব্যর্থ যার যার জায়গা থেকে, জনগনকে নিয়ে ভাবার সময় কার আছে, জনগন পেঁয়াজের ঝাঁজে না কাঁদুক- সর্বদলীয় মুনাফা লাভের এহেন খেলায় ফুটবল হয়ে এমনিই কেঁদে কুল পাবেনা! কার কি😎

পরিবহন মালিক-শ্রমিক বলয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে জেনেছিলাম, আওয়ামীলীগের শাহজাহান খান, বিএনপির মির্জা আব্বাস আর জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙা মিলে এক জোট!! ব্যবসায়ী বলয়গুলো নিয়ে ঘাটুন- চিত্র এমনি হবে হয়তো!!

ক্যাসিনো সহ নানান দূর্নীতি বিরোধী অভিযান যখন শেখ হাসিনাকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত করছে আর তিনি যখন বলছেন- ঘর থেকে শুরু করলাম পর্যায়ক্রমে সব দূর্নীতিবাজকেই ধরব, ঠিক তখনই শেখ হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সর্বদলীয় দূর্নীতিবাজরাই একাট্টা হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সাইলেন্ট থ্রেট করছে কি না কে জানে, যাতে দূর্নীতি বিরোধী অভিযানের এখানেই সলিল সমাধি স্থাপিত হয় আর আবারো চিরাচরিত হরিলুট উৎসব শুরু হয়, যা সকল সরকারের আমলেই কমন চিত্র ছিল আর আছে, হয়তো থাকবেও!!

এভাবে একটা দেশ উঠতে পারেনা, আগাতে পারেনা- যেখানে সমন্বিত প্রয়াস নেই, তা যে কোন ক্ষেত্রেই হউক না কেন। সরকারের কৃপা আর সরকারের মন্ত্রী ম্যানেজ করে মন্ত্রী-চর্কায় তেল ঢালতে ঢালতে তেলের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়া মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো সিলেটের মাননীয় মেয়রকেও দেখলাম লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনতে, যার দুর্দিনে সরকার সদা পাশে উন্নয়নের স্বার্থে- আজ সরকারকে একটু অসুবিধায় পেয়ে এহেন পাবলিসিটি স্টান্ট নিয়ে তিনি অনেক বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন!! তার চেয়ে বড় মনের পরিচয় দিয়েছে খোদ পেঁয়াজওয়ালা- সেও তেল মারতে কম যায় না, মাননীয় মেয়রের ব্যাগে দেখলাম পেঁয়াজের সাথে সাথে উনার দেয়া টাকার নোটটাও ঢুকিয়ে দিল😆। মাননীয় মেয়র, আপনার কাজের মাধ্যমে আপনি অনেক জনপ্রিয়, এমন সস্তা স্টান্ট আপনার দরকার ছিল কি, এমনকি প্রতীকী প্রতিবাদ হলেও এমনটি মানানসই নয়৷ আপনার অনেক কাজই আপনাকে প্রশংসিত করছে, আশেপাশের তেলবাজদের সস্থা তেলে ভাসমান হয়ে এমন সস্তা স্টান্ট আপনার জন্যে নয় অন্তত৷ অনেকে এটির সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টিকিট কেটে চোখের ডাক্তার দেখানোর ব্যাপারটি টানছেন- সিস্টেম এন্ড রুলস এর প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল করার প্রচারণা, রুপক এ্যাকশন আর চিপ পাব্লিসিটি স্টান্ট এক নয়, জেনেশোনে জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন- সুতরাং কিল-ঘুষি-লাত্থি দিয়েও ঘুম ভাঙানো যাবেনা এটাই স্বাভাবিক। ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রধানমন্ত্রীর টিকেট কেটে চোখের ডাক্তার দেখানোর নিউজটি যারা ফলাও করে প্রচার করেছেন, তাদেরকেও নিরুৎসাহিত করেছি কারন ভুল ব্যাখ্যায় বা অতি-তেলে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বাড়বেনা বৈ কমবে।

প্রতিদিন বস্তা বস্তা পেঁয়াজ গেললেও আমাদের ঝাঁজ এমন আহামরি বাড়বেনা যে তা দিয়ে সরকারের চোখের জল আর নাকের জল এক করে দিব, আবার কয়েকদিন লবণ না গিললেও আমরা এত মিষ্টি হবোনা যে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে সব চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করব🤔। নুন আনতে পান্তা ফুরানো জাতি থেকে ইটিং আউট কালচারের দিকে অগ্রসরমান জাতি আমরা, ওভার নাইট বাংলাদেশ লন্ডন হয়ে যাবে এমন আকাশকুসুম চিন্তা আমাদের না করাই উত্তম।

তরুণ প্রজন্মের সমালোচনা গুলো শুধু ট্রলভিত্তিক না হয়ে আরেকটু গঠনমুলক হলে ভালো লাগবে। ফেইসবুক ব্যবহারে- হুজুগ বা গুজবে নয়, বাস্তবিক চিত্র দেখেই হুলস্থুল অথবা স্থির থাকবে হবে। সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে একটা সাসটেইনেবল সিস্টেম দাড় করাতে হবে৷ সরকারকে সর্বাবস্থায় বিকল্প ভেবে রিস্ক রিকোভারি ফর্মুলা রেডি রাখতে হবে। আর অসাধুদের এসব সাইলেন্ট থ্রেট প্রশ্রয় না দিয়ে শুদ্ধি অভিযান চলুক- চোরের দশ দিন আর শেখ হাসিনার একদিন, সেন দা'কে মনে পড়ছে- বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েনা-- সুতরাং ইনশাআল্লাহ আলো আসবেই☺।

🇧🇩দেশটা সবার, সুখে-দুখে আসুন মিলেমিশে পথ চলি।
সবকিছু দ্রুতই ঠিক হবে, আগুন নিভবে বাজারে- শান্তি আসবে বন্দরে, সুখ আসবে ঘরেঘরে, সেই প্রত্যাশায়...

🚩
অ্যাডভোকেট শাকী শাহ ফরিদী
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এবং জজ কোর্ট, সিলেট।




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন