ডিজিটাল বিভাগ নিয়ে বিভাগীয় কমিশনানেরর সংবাদ সম্মেলন


স্টাফ রিপোর্ট:: | ১০:২১ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

IMG



সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো: মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ বলেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব শ্রেণির মানুষের মাঝে সরকারি সেবা ও তথ্য পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যেই ‘সরকারি তথ্য ও সেবা সব সময়’ স্লোগান নিয়ে ৩৩৩ নম্বর চালু করা হয়েছে। সিলেটসহ বাংলাদেশের যেকোনো মোবাইল বা টেলিফোন থেকে ৩৩৩ নম্বরে ডায়াল করে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে ৬৪টি জেলায় অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়, সরকারি বিভিন্ন তথ্য সেবা, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রতিকার, সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য, এবং জেলা ও পর্যটন সম্পর্কিত তথ্য পাবেন নাগরিকরা। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান করার ব্যাপারেও সাহায্য চাইতে পারবেন। এই হেল্পলাইন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা ও সপ্তাহে ৭ দিনই ব্যবহার করা যাবে। 

মঙ্গলবার ডিজিটাল বিভাগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য তিনি এসব কথা বলেন, বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সিলেট বিভাগ থেকে প্রথম শুরু হলো ৩৩৩ নাম্বারে কল করে ভূমি, কৃষি, বনসহ সরকারী ৫০টি সেবা প্রাপ্তি কার্যক্রম। এখন থেকে দেশের নাগরিকেরা ৩৩৩ নম্বরে কল করে সরকারি সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতি, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য, বিভিন্ন এলাকার পর্যটনের স্থানসমূহ এবং বিভিন্ন জেলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।  তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে সিলেট  বিভাগ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়ন-অগ্রতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।এই কর্মসূচি প্রথম যখন ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন তা নিয়ে কেই কেই হাসি-তামাশা করেছিল। কিন্তু সাধারণ জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে গেছে।  

বিভাগীয় কমিশনার বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়ে সাজানো ৩৩৩ হেল্পলাইনে ডায়াল করে  অন্যান্য সেবা  তুলে ধরে বলেন, ৩৩৩ নম্বর এখান থেকে আপনি জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও এই বিষয়ক বিভিন্ন নাগরিক তথ্য পাবেন। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানকল্পে অভিযোগও জানাতে পারবেন। পাশাপাশি সরকারি সেবা সম্পর্কিত আপনার মতামতও গ্রহণ করা হবে। ভূমি সম্পর্কিত ও ভূমি অফিসের যাবতীয় নাগরিক তথ্য এই কল সেন্টার থেকেই পাবেন। ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত বিষয়, যেমন ভেজাল পণ্য উৎপাদন/বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগ করতে পারবেন ও তথ্য দিতে পারবেন। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভ টিজিং ইত্যাদি সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণের সমাধান চাইতে পারবেন কিংবা আপনার এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখলে তথ্য দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি সেবা যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজনও পেতে পারে। তার জন্যই আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তুলেছি, থ্রী-জি এবং ফোর-জি চালু করেছি। দেশের মানুষকে আর সেবার জন্য সরকারি অফিসে দৌঁড়াতে হবে না। সেবাই তাদের হাতের মুঠোয় চলে যাবে। এখন আমাদের টার্গেট হলো ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করার।

বিভাগীয় কমিশনার অনুষ্ঠানে ৩৩৩ নম্বরে সরাসরি কল করে প্রজেক্টের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, সরকারি সব সেবা জনগণের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দেয়ার লক্ষে চালু হয়েছে  ৫০ টি সরকারি সব সেবা একই প্লাটফর্মে। সম্প্রতি চালু হওয়া সেবাগুলো হচ্ছে একসেবা, একপে এবং একশপ। প্রায় সব সেবা এক জায়গাতেই দেয়া হবে এসব প্লাটফর্মের মাধ্যমে। মূলত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদান, এক জায়গায় সকল সমাধান’ এই লক্ষকে সামনে রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ওয়েবসাইট ও স্মার্টফোন ভিত্তিক অ্যাপসের মাধ্যমে এসব প্লাটফর্মে। থেকে সেবা নিতে পারবেন নাগরিকেরা। 

তিনি বলেন,এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই একসেবা, একপে এবং একশপ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আগামি ১০ জানুয়ারী মুজিববর্ষে সিলেট বিভাগকে পুরোপুরি ডিজিটাল বিভাগ ঘোষনা করা হবে। একটা অবিশ্বাস্যভাবে কৃষিভিত্তিক একটি দেশকে এভাবে এতো দ্রুত এগিয়ে নেয়া সত্যিই অনেক কঠিন ছিল। ৩৩৩-এর মাধ্যমে তথ্য ও সেবা কার্যক্রম এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। ‘সরকারি তথ্য ও সেবা সবসময়’ এমন স্লোগানকে সামনে নিয়ে চালু হলো কল সেন্টার ৩৩৩। দেশের সকল নাগরিক কল করে সরকারি সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতি, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগের তথ্য, বিভিন্ন এলাকার পর্যটনের স্থানসমূহ এবং বিভিন্ন জেলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। এ ছাড়াও কল সেন্টারের মাধ্যমে নাগরিকগণ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে প্রতিকারের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তথ্য প্রদান ও অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেই অনেক সেবা পেতে হবে জনগণকে। এইসব কেন্দ্রের প্রতি গ্রামের সাধারণ মানুষদের আস্থা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। সার্বিকভাবে জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখন পর্যন্ত ডিজিটালাইজেশনের সুবিধাগুলো গ্রহণে অভ্যস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদেরকে এইসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত।

এসময় অন্যান্যর মাঝে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার এর বক্তব্যের পর মুক্ত আলোচনা করেন সাংবাদিকবৃন্দ এসময় সিলেটের প্রেস ক্লাব ,সিলেট জেলা প্রেস ক্লাব সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। 
প্রশ্নোত্তরর্পর্বে বিভাগীয় কমিশনার জানান, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)-এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত স্কিলস পোর্টালের মাধ্যমে (ংশরষষং.মড়া.নফ) বেকার যুবকদের রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সকল প্রতিষ্ঠান সমূহের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে রেজিস্ট্রেশনকৃত যুবকদের বিভিন্ন ট্রেডে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তিনি আরো জানান, সিলেট বিভাগের শিল্পকারখানার চাহিদা নিরূপণ করা ও চাহিদা মোতাবেক বেকার যুবকদের দক্ষতা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন