হৃদয়ের গহীনে - জুনায়েদ জামশেদ


| ০৮:০৫ অপরাহ্ন, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

IMG



জুনায়েদ জমশেদ নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় হাতে গীটার পড়নে সুট কুট গানের মন্ছে নিত্য
একের পর এক গান জনতা মুগ্ধ।
সেই জুনায়েদ জমশেদ চলে আসলেন ইসলামের কোমল পরশে দ্বীনের খেজমতে।

পৌর নাম জুনায়েদ জামশেদ খান
জন্ম ০৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪
মৃত্যু ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬ঃবয়স ৫২
জন্ম ভুমি পাকিস্তান তিনি ছিলেন রেকর্ডিং শিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন ডিজাইনার, অনিয়মিত অভিনেতা, এবং গায়ক-গীতিকার। অতপর তিনি UET Lahore থেকে প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রী নেয়ার পর, বাদ্যযন্ত্র কর্মজীবন উপর মনোযোগ নিবদ্ধের আগে জামশেদ সংক্ষিপ্তভাবে একটি বেসামরিক PAF ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন।

জুনায়েদ জমশেদ প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন একজন পপ-তারকা ছিলেন। তিনি মিউজিক-ইন্ডাষ্ট্রি Vitalsings -এর গান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। তার অ্যালবাম পাকিস্তানের সঙ্গীত চ্যানেলচার্টে শীর্ষস্থানে। ২০০২-এর পর তার মধ্যে পরিবর্তন আসে এবং মিউজিক-এর প্রতিষ্ঠিত জগৎ ছেড়ে তিনি চলে আসেন ইসলামী ভুবনে। সম্পূর্ণ ইসলামী বেশভূষা অবলম্বন করেন এবং উলামা-সুলাহার  সাহচর্য গ্রহণ করেন। ইসলামি সংগীত হামদ-নাত ও ইসলামী নাশীদের ভুবনেও তিনি ব্যাপক সমাদৃত হন। লাভ করেন কোটি মুসলিমের হৃদয়-নিংড়ানো ভালবাসা। তাঁর দরদী কণ্ঠের ‘মুহাম্মাদ কা রাওযা কারীব আ রাহা হ্যায়’ কত আশেকে রাসূলকে আকুল করেছে! তাঁর কণ্ঠের ‘ইলাহী তেরে চৌখট পর’ কত খোদাপ্রেমিকের অশ্রু ঝরিয়েছে 'মেরা দিল বাদালদে' সহ অনেক অনেক নাশিদ করেছেন জুনায়েদ জমশেদ
এবং বাংলাদেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গজল 'নবী মোর পরশমণি'
বাংলা ভাষায় গেয়েছেন এই প্রিয় তারকা।

বিগত ৭ই ডিসেম্বর ২০১৬ পি আই এ ফ্লাইট  দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ সময়ের বিখ্যাত জনপ্রিয় জননন্দিত তারকা জুনায়েদ জমশেদ।
একটি দ্বীনী দাওয়াতের কাজ শেষে তিনি ঐ বিমানে চিত্রাল থেকে ইসলামাবাদে ফিরছিলেন। বিমানটিতে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। বিমানটির ৪৭ যাত্রীর কেউই বেঁচে নেই। আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে জান্নাত নসীব করুন এবং তাদের উত্তরসূরীদের সবদিক থেকে উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ করুন

তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী লক্ষ-কোটি মুসলিমের হৃদয় শোকার্ত হয়েছে এবং চোখ থেকে অশ্রু ঝরেছে। পাকিস্তানের  কে. কে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাযায় হয়েছিল লাখো মানুষের সমাবেশ। সামরিক-বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তাগণসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও দাঈগণ। শেষে তার অসীয়ত অনুসারে তাকে দাফন করা হয় পাকিস্তানের বিখ্যাত দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম করাচির কবরস্থানে।

জুনায়েদ জামশেদ একটি দৃষ্টান্ত। মিউজিক, শোবিজ অঙ্গনে জড়িত হয়ে যারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গিয়েছেন তাদের জন্য তিনি একটি দৃষ্টান্ত। যে সকল অঙ্গনের  লোকজনের ব্যাপারে সাধারণত প্রত্যাবর্তনের চিন্তা করা হয় না, গায়ক, নায়ক, গীতিকার, নাট্যকার, গল্পকার, কবি, উপন্যাসিক যাই হোন না কেন আল্লাহর রহমত তাদের জন্যও উন্মুক্ত, যদি তারা তা গ্রহণ করেন।  লেখক- শিহাবখান




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন