আব্দুল আজিজ খান স্মারকগ্রন্থ: এক মহৎপ্রাণ মানুষের উপাখ্যান: কবি নিজাম উদ্দীন সালেহ


| ০৮:০১ অপরাহ্ন, জানুয়ারী ১০, ২০২০

IMG



মহৎপ্রান মানুষের জীবন ও কর্ম সর্বদাই জগতের অন্যান্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরনার উৎস। তাই তাদের জীবন ও কর্ম নিয়ে যতো আলোচনা হবে ততোই মঙ্গল। আব্দুল আজিজ খান স্মারক গ্রন্থ এমনি এক মূল্যায়নধর্মী গ্রন্থ যাতে শুধু মহৎপ্রান আব্দুল আজিজ খানের মূল্যায়নধর্মী জীবনবৃত্তান্তই তুলে ধরা হয়নি এতে তার সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনীও স্থান পেয়েছে। এটা পাঠকদের জন্য বাড়তি আকর্ষন। সাধারনের মাঝে থেকেও কর্মগুনে অসাধারন হয়ে ওঠা কীর্তিমান মানুষ আব্দুল আজিজ খানের সুদীর্ঘ জীবনের নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে আব্দুল আজিজ খান ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত এই স্মারক গ্রন্থে। ৫০০ পৃষ্ঠার এই বিশাল গ্রন্থের অধ্যায় বিন্যাসে সুধীজনদের লেখা, আপনজনদের লেখা আত্মজীবনী, মূল্যায়ন, পর্যালোচনা ইত্যাদি বিষয় স্থান পেয়েছে। গ্রন্থের শুরুতে সুধীজনদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে আব্দুল আজিজ খানের পরিচয় সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ফলে পাঠকেরা গ্রন্থের শুরুতেই তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় পেয়ে যাবেন। সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ লিখেছেন, ‘মরহুম আব্দুল আজিজ খান (১৯২৫-২০১২)-এর বর্নাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটেছে। তিনি দক্ষিণ সুরমা এলাকায় শিক্ষা বিস্তার, কুচাই ইউনিয়নের মেম্বার ও দীর্ঘ সময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে এমনকি পূর্বে ও পরে অসংখ্য জনহিতহকর কাজে আজীবন ব্যপৃত ছিলেন। বিশেষ করে অধ্যক্ষ গিরিন্দ্র দত্তের অত্যন্ত আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে বর্তমান সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। আব্দুর আজিজ খান নিজে জমি দিয়ে গোটাটিকর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। আজীবন তিনি মাদরাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আব্দুল আজিজ খান ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাগ ও পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের জন্য সলে রেফারেন্ডাম আন্দোলনে সরাসরি নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে, সেবা করে বিশেষ করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদেরর রক্ষা করতে গিয়ে পাক-হানাদার বাহিনীর অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাভোঘ করে একজন কিংবদন্তীতুল্য অসাম্প্রদায়িক মহান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আজো নির্যাতিত হিন্দু-মুসলমান পরিবার-পরিজন তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। আব্দুল আজিজ খান নারী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা সমৃদ্ধ সমন্বিত শিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন। মরহুম আব্দুল আজিজ খানের কর্ম-কীর্তিকে উপস্থাপন করে দেশের কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক, লেখক-লেখিকাদের মূল্যবান রচনা সম্বলিত স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি সূধী লেখক-লেখিকাদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। দেশ ও জাতির অগ্রসরমান চিন্তা-চেতনার সাধক আব্দুল আজিজ খানকে এভাবে তুলে ধরে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করায় আমি আব্দুল আজিজ খান ফাউন্ডেশন ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট গুণীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পরিশেষে উন্নত সমন্বিত চিন্তাধারায় স্মারকগ্রন্থের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে কেবলমাত্র প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও আদর্শিক চেতনার বলে জনহিতকর কাজের উদাহরণ সৃষ্টিকারী বিত্তহীন ব্যক্তি আব্দুল আজিজ খানকে মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে এই প্রত্যাশায় এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যে তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে স্মারকগ্রন্থটি একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে গণ্য হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সুসাহিত্যক সৈয়দ মোস্তফা কামালের ভাষায়: বাল্যবস্থায় মাতৃহারা হয়ে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে বিস্তর ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে কেটেছে আব্দুল আজিজ খানের জীবন। বিচিত্র অভিজ্ঞতায় ভরপুর মানুষের জীবন। সে জীবন যদি হয় মানব কল্যাণে নিবেদিত এবং সমাজ জীবনের বিভিন্ন বাঁক পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী, এমনি ধরনের জীবন নিয়েই লেখা হয় জীবনী। এদের কেউ কেউ নিজেও লিখে থাকেন তাদের জীবন-স্মৃতির ছিন্নপাতার কথা ইতিকথা। বাল্যাবস্থায় মাতৃহারা হয়ে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে বিস্তর ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কেটেছে আব্দুল আজিজ খানের জীবন। তাঁর স্মৃতিকথা এবং কুড়িজন লেখকের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘আব্দুল আজিজ খানের জীবন ও কর্ম’ শিরোনামের গ্রন্থটি। ধর্ম, সমাজ-সংস্কৃতি, শিক্ষা-রাজনীতি- এককথায় যা কিছুর সমন্বয়ে সমাজ জীবনের পটভূমির ধারা গড়ে ওঠে আব্দুল আজিজ খানের জীবন তার সকল ক্ষেত্রেই পরিব্যাপ্ত। একজন সংস্কারক ও সাধকের জীবন বলতে যা বুঝায় তাঁর জীবনকে তাই বলা যায়। আব্দুল আজিজ খানের মতো মর্দে মুজাহিদের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রাকশিত গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন ড. মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর আব্দুল আজিজ খানের আত্মসম্মান ও আত্ম মর্যদা বোধের কথা বুঝাতে ফরিদ আহমদ রেজা এখানে আল মাহমুদের ‘আমার মামা’ কবিতাটির অবতারনা করেছেন। সন্দেহ নেই, অত্যন্ত যথার্থ ও শৈল্পিক এই মূল্যায়ন। একজন প্রকৃত ঈমানদার কখনো তার মা’বুদ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করে না, সে সর্বদা তার মাথা উঁচু রেখে সব ঝড়ঝাপটা সহ্য করে যায। মাঝে মাঝে দু’একটা শাখা প্রশাখা ভেঙ্গে পড়লেও সে উন্নতশির নিয়ে দিগন্তের বুকে দাঁড়িয়ে থাকে। আব্দুল আজিজ খানের ব্যক্তিত্বও ছিলো এমনি- উন্নতশির মহীরুহ সদৃশ। আব্দুল আজিজ খান সম্পর্কে দৃপ্ত ও বলিষ্ট মূল্যয়ন কবি ও সুলেখক ফরিদ আহমদ রেজার। শুধু ঘনিষ্ট জন হিসেবেই নন, একজন তীক্ষè বিশ্লেকের দৃষ্টি নিয়েই তিনি লিখেছেন তার একজন ‘খাঁটি মানুষের গল্প’ শীর্ষক নিবন্ধে: আব্দুল আজিজ খানের কথা ভাবলে আল মাহমুদের আমার মাথা কবিতার কথা মনে পড়ে যায়। আব্দুস আজিজ খান আল মাহমুদের কবিতা পড়তেন কি না জানি না। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের কবিতা পড়তেন, তার বড় মেয়ের কাছ থেকে আমরা তা জেনেছি। তিনি মাঝে মাজে কবিতা আত্তড়াতেন। তিনি আরো লিখেছেন: আমি এখানে আল মাহমুদের কবিতার কথা উল্লেখ করছি আব্দুল আজিজ খানের ব্যক্তি চরিত্র কিছু উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। ‘আমার মাথা’ কবিতার প্রথম স্তবকটি এরকমঃ আজকাল এমন হয়যে, আমার মাথা আমি আর/ নামাতেই পারি না।/পৃথিবীর সমস্ত প্রাচীন দেয়ালের মতো শক্ত/আর উঁচু মনে হয় আমার মাথাকে।/ভৈরবের ব্রিজ ছাড়িয়ে, মেঘনার ঢেউয়ে পাল দুলিয়ে/ দক্ষিনগামী ধানের নৌকার মাঝিরা যেমন/বীরগাঁওয়ের বিশাল দেবদারু গাছ টা খোঁজে, আমার মাথাও তেমনি দিক নির্নায় বৃক্ষের মতো উঁচু হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরো লিখেনে, আত্মসম্মানের কথা, খুদীর কথা, আত্মমর্যাদার কথা, নিজেকে জানার কথা অনেক কবি-দার্শনিক বলেছেন। আল মাহমুদের ভাষায় বলিষ্টতা আছে, কিèতা সুরটা মাধুর্য মিশ্রিত। ভাষা আবেগময় ও হৃদয়স্পর্শী। এর সুর আব্দুল আজিজ খানের মেজাজের সাথে পুরোপুরি সমাঞ্জস্যপূর্ণ। ফজলুল কাদির খান যথার্থই লিখেছেন, ইংরেজ কবি ঞযড়সধং এৎধু তাঁর ‘ঊষবমু ৎিরঃঃবহ রহ পড়ঁহঃৎু পযঁৎপযমধৎফ’ নামে বিখ্যাত কবিতার এক চরণে লিখেছেন, ‘ঋধষষ সধহু ধ ভষড়বিৎ ঃড় নষঁংয পসংববহ’ বন-বাদাড়ে নাম না জানা অনেক ফুলই ফোটে। বাহারি শোভায় সুবাসে চারদিকে মোহিত করে রাখে। তাদের সুগন্ধ ছড়িয়ে এক সময় সবার অগোচরে ঝরে যায়। তাদের কেউ খোঁজ রাখে না। নবীন উষার পুষ্প সুবাস কারো নাসারন্ধ্রে গিয়ে পৌঁছায় না। অবশ্য ফুল কখনও তার নিজের জন্যে ফোটে না। অন্যকে বিমোহিত করার মধ্যে তার সার্থকতা। এমন অনেক পুরুষ আছেন, আমাদের তুলনায় তাদেরকে মহাপুরুষ বলব, তাদের অনেকেই আমাদের কাছে অচেনা অজানা। তারা কখনই নিজের নাম জাহির করে আত্মপ্রচারে নিমগড়ব হন না। তারা থাকেন নিভৃতে। সবার অলক্ষে অবস্থান করেন তারা। তারা পরার্থে কাজের প্রশংসা বা নিন্দাবাদের ধার ধারেন না। অবশ্য মহৎ প্রাণের অধিকারীদের কল্যাণমুলক কাজের জন্য কেউ তাদের স্বীকৃতি দিল কি দিল না কিংবা মর্মর পাথরে কেউ তাদের কীর্তিগাঁথা তাদের নামে গেঁথে রাখল কি না, তা নিয়ে তোয়াক্কাও করেন না তারা। কুরআন শরীফে আলাহ এক আয়াতে বলেছেন, ‘তোমাদেরকে (মানব জাতিকে) আমি সৃষ্টি করেছি পরিশ্রম আর জিহাদ করার জন্য।’ দারিদ্র্য ছিল তাঁর আজীবন সাথী। দারিদ্র্যের কারণে মাঝপথে তাঁর পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেলে, তখন তিনি অন্য দশজনের মত হতাশায় ভীত হয়ে পড়েননি। ভেঙে পড়ার মত লোক তিনি ছিলেনও না। কোন কারণে ব্যর্থতা এলে কপাল চাপড়াবার মত লোকও তিনি নন। এমন অবস্থায় জীবনের কঠিন সংগ্রামে পিছপা হননি তিনি। এখানেই জীবনের বন্ধুর পথে কোন বাধার কাছে আত্মসমর্পণ তিনি করেননি। জীবিকার জন্যে সিলেট মহিলা কলেজে প্রধান সহকারি পদে কাজ করার পর সে কাজেও ইস্তাফা দিলেন। কোন কারণে ‘জিহুযুর বলে বিনা বাক্যব্যয়ে জবু ুবু হয়ে কারো নির্দেশ পালন করার মানুষ তিনি ছিলেন না। দৈন্যদসায় পীড়িত পরিবাবোরের কথাও ভাবলেন না একবারও। আবার সেই দারিদ্র্যের আক্টোপাস তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল। ইন্সুরেন্সে ঢুকলেন। সেখানে তিনি দেখলেন এটা হচ্ছে সুদের মুনাফাভিত্তিক পরগাছা প্রতিষ্ঠান। এর অর্থনীতির উৎসই হচ্ছে হারাম। সুদ হচ্ছে ইহকাল-পরকাল বিধংসী দু’টোকেই বরবাদ করে দেয়। এটা জানার সঙ্গে সঙ্গেই সংসারের আয়ের একমাত্র উৎস এই জীবিকাÑ আগ-পাছ না ভেবেই তিনি তা বর্জন করেছেন। তার ঈমান যে কতটা মজবুত ছিল, তা ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন
নেই।‘হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান’ তাকেই আলিঙ্গন করলেন দারিদ্র্যের ছোবলে আবারও তাকে ক্ষত বিক্ষত হতে হলো। শুধু ইনস্যুরেন্স বা ব্যাংক কেন, এখন গ্রামে-গঞ্জে সুদভিত্তিক ব্যক্তিগত অনেক হারাম ব্যবসা গড়ে উঠেছে। মাথা কুটলেও বিনা সুদে কারো কাছে ঋণ পাওয়া যায় না, অথচ সুদভিত্তিক হলে ঋনের অভাব নেই। এটা বললে অতিশয়োক্তি হবে না বলে আমি মনে করি, এমন সুদভিক্তিক অসুস্থ বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরূদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের গোড়াপত্তন হয়ত তিনিই করে যেতে পারতেন! অন্য কারো কথা ভেবে আমি এটা বলিনিÑ শুধু তার মত একজন দৃঢ়চেতা
সামাজিক বিপবীর কথা ভেবেই বলেছি। আজকের সামাজিক প্রেক্ষাপটে তার কথা ভাবুন একবার। আজ ঘুষ-দুর্নীতির কাছে নতজানু আমরা। শুধু ইনস্যুরেন্স কেন। সর্বত্রই ঘুষ-দুর্নীতি রাহুর মত গ্রাস করেছে আমাদের। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী ঈমান রক্ষা হবে হাতের তালুতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখার’ মত অবস্থা নতুবা জঙ্গলে অবস্থান করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার দন্ড ধরে সিংহাসনে রাজা হয়ে বসে থাকেন নি। কর্তব্য জ্ঞান ও ঈমানী জোস তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে নানা জনকল্যানমূলক জনহিতকর কাজে। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ও জনসাধারণকে উনড়বয়নের মিথ্যে ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রদত্ত ওয়াদার বাস্তবায়ন কখনও আর হয় না। জনগণের বহু আকাক্সিক্ষত সম্ভাব্য উন্নয়নের বাড়া ভাতে ছাই দেওয়ার মত মিথ্যে কথার ফুলঝুরিতে চালবাজের মত গাধাকে ভুলিয়ে মুলো দেখিয়ে বেড়ান। সব হবে, সব হবে বলে ভবিষ্যত কালের ‘হবে হবে’ কস্মিণকালে তা আর কখনও ‘হয়’ না। সেটা ভবিষ্যতেই বোঝ যায়। কখনও আর পুরাঘটিত বর্তমান ‘হয়েছে’ তা আর হয় না। আব্দুল আজিজ খান গ্রামের ইলেকসনে সবার ভোটে বিজয়ী হয়ে মেম্বার হয়েছিলেন। এদিক দিয়েও ব্যতিক্রম তিনি।ব্যতিক্রম এজন্যে বলব, এমন নিঃস্বার্থও নির্লোভ মানুষের জন্যে খাঁটি দেশসেবক কখাটা খাটে। তার কন্যা নীলু রেজার কথাতেই বলি, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর আমি দেখেছি মানুষের আমানতের প্রতি ভয়। রিলিফের চাল পাওয়ার সাথে সাথে মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া। রিলিফের মালামাল পাওয়ার উপযুক্ত কে তা খুঁজে খুঁজে বের করা, তা পৌঁছিয়ে দেয়া এবং গ্রামের মানুষের খবর নেয়া, এমন কি কোন কিছুর ঘাটতি হলে নিজের পকেট থেকে দিতে কুণ্ঠাবোধ করতে না।’ (আমার আব্বা: নীলু রেজা) এ ছাড়া রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করা ও গোটাটিকর শাহী ঈদগাহ স্থাপন করাসহ বহু উন্নয়নমূলক জনহিতকর কাজের জন্যে তিনি জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবার কাছে স্মর্তব্য। বর্তমানে জনকল্যাণ বা সমাজসেবার নামে এক অদ্ভুত প্রা চালু হয়েছে। এটাকে কি রাজনৈতিক না সামাজিক প্রথা কোনটা
বলব। ট্রেনে বা বাসে কোথাও সফরে গেলে নানা জায়গায় শ্বেত পাথরে নির্মিত ভিত্তি প্রস্তর নজরে আসে, বছরের পর বছর গড়িয়ে গেলেও সেখানে কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না। গরু-ছাগল চরা আর প্রাকৃতিক কর্ম ছাড়া কোন কাজ সেখানে হয় না। এক সরকারের আমলে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) দেশের বিভিনড়ব জায়গা থেকে আনীত ......... উঁচু স্তূপীকৃত  ভত্তিপ্রস্তরগুলোর প্রদর্শনী হয়েছিল স্টেডিয়ামে এবং তৎক্ষণাৎ তা টিভিতে প্রচারিতও হয়েছিল। এসব হলো মিথ্যের বেসাতি। আমি বললব, এগুলো হলো মেঘের উপর প্রাসাদ নির্মাণ। এগুলো হলো অদৃশ্য সেবা। এসব নেতা (অভিনেতা) হচ্ছেন এক ধরনের নির্ভীক লোক। দুর্নামের ভয় তাদের নেই, গালি-গালাজের তোয়াক্কা তারা করেন না, তাদের প্রতি জুতা নিক্ষিপ্ত হলেও হিপোপটমাসের মতো গায়ে লাগা কাদা ধুয়ে ফেলেন সহজে। এরা জনগণ নিন্দিত আর হাত-পা বিশিষ্ট দেশসেবার সীলমারা নেতা।আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি; এমন কোন পার্থিব মোহ বা সস্তা নামের কাঙাল আব্দুল আজিজ খান ছিলেন না। যা কিছু করেছেন তিনি, আলাহর সন্তুষ্টির জন্যে করেছেন। মরহুমের সন্তান আব্দুল কাহের খান পিতার স্মৃতিচারন করতে গিয়ে লিখেছেন, বাবা মায়ের ব্যাপারে সবারই মনের মাঝে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভালোলাগার একটা স্থান থাকে। সবার মা বাবা তার নিজের কাছে সবার থেকে আলাদা। সব চেয়ে ভালো। সবার থেকে শ্রেষ্ঠ। মা বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা চিরাচরিত একটা ব্যাপার। একথা ঠিক যে, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ঢেউ আমাদের সমাজে আঘাত হানার কারণে বাবা মায়ের প্রতি কিছু মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে জন্যে আমাদের দেশেও বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। অথচ মুসলিম সমাজে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। যাহোক, বাবা, এমন একটি মহৎ চরিত্র যার ইচ্ছা, অনিচ্ছা, সাধ-আহ্লাদ, স্বপ্ন, ভালোলাগা, মন্দলাগা সবকিছু তার ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারা জীবন
হাজার হাজার টাকা উপার্জন করে তা একমাত্র সন্তানের সুখের জন্য বাবা অকাতরে ব্যয় করে থাকেন। নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন বাবা। সন্তানকে মানুষ করার জন্য প্রণান্তকর পরিশ্রম করেন বাবা। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশ পাঠান সন্তান একটু ভালো থাকবে সেজন্য। এসব কারণে বাবার প্রতি অন্যরকম একটা আলাদা টান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সন্তানের মনকে অচ্ছন্ন করে রাখে সব সময়। আমার আব্বাও আমার কাছে অনেক অনেক শ্রদ্ধার পাত্র। আমার আব্বাকে নিয়ে অনেকে খুব সুন্দর সুন্দর কথা লিখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ! হয়তো কারো কারো কাছে কিছু কিছু বিষয় অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। কিন্তু সম্মানিত লেখকদের অসম্ভব রকমের আন্তরিক ভালোবাসার ছোঁয়া আছে লেখাগুলোতে। আমরা মনে করি, সবাই মনের মাধুরী মিশিয়ে আমার বাবার জন্য শ্রেষ্ঠ লেখাটা লিখেছেন। তাই কোন লেখকের লেখা কাটছাট করা মানে একজন লেখককে অসম্মানিত করা, তাকে ছোট করা, খাটো করা। ভালোলাগা, মন্দলাগার বিষয়টা একেকজনের কাছে একেক রকম। একটি বিষয় হয়তো একজনের কাছে ভালো লাগতে পারে আবার সেই বিষয়টিই অন্যজনের কাছে খুব খারাপ লাগতে পারে। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। অতএব, আমাদের আব্বাকে নিয়ে যে যা লিখেছেন তা মহামূল্যবান আমাদের কাছে। আমরা আমাদের আব্বাকে উপস্থাপন করেছি জাতির সামনে। ভালো লাগা না লাগা পাঠকের নিজস্ব বিষয়, এটা নিয়ে বাছ-বিচার করা চলে না। এই স্মারকের লেখা পাঠ করে কারো যদি ভালো লাগে আলহামদুলিল্লাহ, না ভালো লাগলেও আলহামদুলিল্লহ! কারণ সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমি মনে করি, প্রত্যেকেরই উচিত নিজের বাবা মাকে উচ্চকিত করা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক আবদুল হামিদ মানিক বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। কথাটি সহজ এবং বহুল উচ্চারিত। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যের কল্যাণে কাজ করবে। এটাই মানবতার দাবি। মনে করা হয় অপরের কল্যাণ বা জনসেবার জন্য দরকার অর্থ-বিত্তের। কিন্তু বিত্তসম্পদ না থাকলেও জনসেবা করা যায়। সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র হওয়া যায়। এর উজ্বল দৃষ্টান্ত দক্ষিণ সুরমার পাঠান পাড়ার আব্দুল আজিজ খান। জনকল্যাণে অকৃত্রিম আন্তরিকতা এবং জনসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনাই ছিল তাঁর পুঁজি। সামাজিক, পারিবারিক এবং ব্যক্তি জীবনে এ জন্যই তিনি সাফল্য অর্জন করে রেখে গেছেন প্রেরণাসঞ্চারী উদাহরণ। আব্দুল আজিজ খান সহজ সরল প্রকৃতির একজন সাদা মনের মানুষ। বিন¤্র স্বভাবের ধীরস্থির এই মানুষটির পাশে যারা গেছেন তারা এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে, তিনি ছিলেন নিখাদ জনদরদী একজন মানুষ। দেশের খ্যাতিমান কবি আল মাহমুদ লিখেছেন, সকলেই জানেন আমি বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছি। বয়সের ভারে অচল। বলা যায় নিজের কাজটুকুও নিজে করতে পারি না। চোখে তেমন একটা দেখি না। কানেও শুনি কম। তবে আমি আমার চারপাশের পরিবেশকে সব সময় অনুভব করতে পারি। আমার পরিবারের সদস্যদের নড়াচড়া টের পাই। তাদের গতিবিধি আমাকে আন্দোলিত করে। তাদের শরীরে গন্ধে বুঝতে পারি কে এসেছে। এমনই আমার অনেক সুহৃদ আছে যাদের আগমনে আমার ইন্দ্রিয়সমূহ জাগ্রত হয়। তাদের মধ্যে একজন হলো তৌহিদ। তাকে দেখলেই আমার তালিব ভাইয়ের কথা মনে হয়। আমি জীবনে কিছু সময় তৌহিদের সাথে পার করেছি। তার সাথে অনেক স্মৃতি আছে আমার। সে অসম্ভব রকমের অতিথিপরায়ণ। তোহিদ একা কয়েকবার বলা যায় একরকম ঘাড়ে করেই আমাকে কানের ডাক্তারের কছে নিয়ে গিয়ে লক্ষাধিক টাকা একটা কানে শোনার যন্ত্র কিনে দিয়েছে, যা মাঝে মাঝে আমি ব্যবহার করি। সে আর তালিব ভাই আমাকে এক সময় সাহিত্য পরিষদে বসার সুযোগ করো দয়েছিল। তারা আমার অনেক আবদার মিটিয়েছে। সে ঋণ আমি জীবনে কখনো শোধ করতে পারবো না। তবে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কখনো কার্পণ্য করি না। তৌহিদ যখন আমার কাছে কোন আবদার নিয়ে আসে তখন আমি তা পূরণ করার চেষ্টা করি। যা হোক, এখন সব বিষয় শুনে মনে রাখা আমার জন্য কষ্টকর। আব্দুল আজিজ খান সাহেব সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য তৌহিদ আমাকে কয়েকবার বলেছে। প্রথমে আমি বিষয়টা হালকাভাবে নিয়েছিলাম। এর প্রধান কারণ বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, তার ওপর প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখার অনুরোধ আমি পেয়ে থাকি, যা আমাকে পূরণ করতে হয়। এরপরেও তৌহিদের অনুরোধে আমি আব্দুল আজিজ খান সম্পর্কে দু’একটি কথা লেখার বিষয়ে ভেবেছি। সিলেটের এক অনুষ্ঠানে আব্দুল আজিজ খান সাহেবের সাথে আমার দেখা
হয়েছিলে ১৯৯৩ সালের দিকে। আরও অনেকবারই দেখা হয় থাকতে পারে। তবে আজ সবকিছু স্মরণ করতে পারছি না। আমি দেখেছি সিলেটের মানুষ বরাবরই অতিথিপরায়ণ। আমার আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই সিলেটি। তা ছাড়া সিলেটকে বলা হয় রতœগর্ভা। অনেক লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিকে, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী সিলেটে জন্ম নিয়েছেন। আর তাদের অনেকের সাথেই আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যাদের অনেকে আমার জন্যে অন্তরে দরদ অনুভব করেন। আমি জেনেছি আব্দুল আজিজ খান সাহেব ছিলেন একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনদরদী একজন মানুষ। তাঁর নিজের লেখা আত্মজীবনী থেকে যতটুকু পাঠ শুনলাম এতে আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি ছিলেন জীবনযুদ্ধের ময়দানে একজন সংগ্রামী মানুষ। একাধারে তিনি ছিলেন সমাজসেবক জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ মেম্বার ও
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, অন্যদিকে তিনি দীর্ঘদিন সিলেট মহিলা কলেজে চাকরি করেছেন, চাকরি ছেড়ে দিয়ে হয়েছেন ইন্সুরেন্স কর্মর্কতা তারপর প্রতিষ্ঠা করেছেন মাদরাসা। একই সাথে এত বিচিত্র পেশার মানুষ সচরাচর দেখা যায় না। আমি আব্দুল
আজিজ খান সাহেবের জীবনী শুনে হতবাক হয়েছি এজন্য যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁকে অসম্ভব রকমের সংগ্রাম ও সাধনা করতে হয়েছে। দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র আদর্শের কারণে তাঁকে বারবার পেশার পরিবর্তন করতে হয়েছে। তাঁর লেখা থেকে উল্লেখ করছি, ‘আমাকে এক পর্যায়ে ওহংঁৎধহপব- এর কারবার ছাড়িতে হইল। তাও আদর্শিক অবস্থানের কারনে। আমাদের জানা উচিত আদর্শ ছাড়া মানুষ টিকে থাকতে পারে না। আব্দুল আজিজ খান সাহেবের পক্ষে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়া সহজ হয়েছে একটা কারণেই, আর তা হলো দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শের পাবন্দ ছিলেন তিনি। মনে রাখতে হবে
আদর্শ আপনাকে একটা লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেই। তাই সবাইকে দুনিয়ার কল্যাণ আর আখেরাতের মুক্তির উদ্দেশ্যে আদর্শকে আন্তরিকভাবে ধারন করা উচিত। এদেশে আর্থিক কারনে বা প্রলোভনে পড়ে যখন মানুষ অনেক অনৈতিক কাজ করতে দ্বিধান্বিত হয় না, আদর্শের সাথে সংঘর্ষিক পেশা গ্রহন করে আবলীলায় এবং তোষামোদীকে গ্রহন করে আর্থিক ফায়দা হাসিলের পুঁজি হিসেবে, তখন আব্দুর আজিজ খান সাহেবের ক্ষেত্রে আমরা কী দেখি? তিনি সুদভিত্তিক বীমা ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছন তার আদর্শ ও বিশ্বাসের বিরোধী হওয়ার কারনে। অভাব অনটল স্বত্বেও তিনি আদর্শ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অন্যায় ও নীতিহীনতার সাথে কখনো আপোষ করেননি। এমন মানুষ আজকাল সত্যিই বিরল। স্মারক গ্রন্থে উপস্থাপিত প্রথম সংকলনের সম্পাদকীয় লিখেছেন ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট ডিগ্রী কলেজ এবং যশোর ক্যাপ্টনমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা: মো: হুমায়ূন কবীর। দ্বিতীয় সংকলেনের সম্পাদকীয়র লেখক নীলুফার খানম এবং স্মারক গ্রন্থের সম্পাদকীয় লিখেছেন ডা: মো: হুমায়ূন কবীর। সহকারী সম্পাদক কবি ও কথাশিল্পী তৌহিদুর রহমান, সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল আজিজ খান ফাউন্ডেশন, সিলেট-এর নির্বাহী সদস্য সচিব লন্ডন প্রবাসী আব্দুল কাহের খান সাফি। স্মারকগ্রন্থের প্রকাশক আব্দুল আজিজ খান ফাউন্ডেশন গোটাটিকর পাঠানপাড়া, কদমতলী, সিলেট। স্মারক গ্রন্থের উপদেষ্ঠা পরিষদে প্রধান উপদেষ্ঠা দেশ বিখ্যাত কবি আল মাহমুদ, উপদেষ্ঠাবৃন্দ দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আব্দুল আসাদ, মুহাম্মদ মতিউর রহমান, অধ্যাপক ফজলুর রহমান, প্রফেসর ড: আব্দুর রব ও ফরিদ আহমদ রেজা। উপদেষ্ঠাদের সবাই দেশের সুখ্যাত ব্যক্তিত্ব। সুধীবজনদের লেখা অধ্যায়ে যাদের লেখা স্থান পেয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কবি আল মাহমুদ (মরহুম), ডা: পারেশ দাস, মুহাম্মদ মতিউর রহমান, প্রফেসর ডা: মোহাম্মদ আব্দুর রব, ডা: সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ফজলুর রহমান, ফরীদ আহমদ রেজা, মরহুম সৈয়দ মোস্তফা কামাল, মো: সাইস্তা মিয়া, আব্দুল হামিদ মানিক, ফজলুল কাদির, মুকুল চৌধুরী, মো: আব্দুল মুজিব, হাসান আলীম, শরীফ আব্দুল গোফরান, নাসির হেলাল, তৌহিদুর রহমান, সৈয়দ মবনু, হারুন ইবনে শাহাদাত, বেদুইন মোস্তা, ওমর বিশ্বাস, শাহ নজরুল ইসলাম, হাফিজ মাওলানা আবু সায়ীদ, মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো: রফিকুল হক, আমিন আল আসাদ, সাঈদ চৌধুরী, মোসাম্মাৎ সামসুন নাহার, আবু তাইয়্যিব সৎপুরী, মো: রেজাউল করিম মাওলানা মো: জমিরুদ্দীন, মাওলাণা মো: আব্দুল জব্বার, শেখ আব্দুস শুকুর, আবু মালিহা, শাহিদুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুর রহীম, আব্দুল কাদির সালেহ, মো: সুজন খান। আব্দুল আজিজ খান স্মারক গ্রন্থ’টি তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মহিমায় যাদের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন সেই অবহেলিত জাতিধর্ম নির্বিশেষে নিপীড়িত, বঞ্চিত নারী-পুরুষ সাধারন মানুষ এবং দ্বীনি আদর্শিক ও আধুনিক সমন্বিত শিক্ষার কারিগর ও তার প্রত্যাশিত স্বপ্নের অসংখ্য শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। ‘আব্দুল আজিজ খান স্মারকগ্রন্থ’ সম্পাদনার কাজে অধ্যক্ষ ডা: মো: হুমায়ূন কবীরের দক্ষতা অনস্বীকার্য, এটা যে কতোটুকু শ্রম সাপেক্ষ তা এধরনের কাজে জড়িত ব্যক্তিরাই শুধু উপলব্ধি করতে পারবেন। সম্পাদকীয়, বিষয় বিন্যাস, উপস্থাপনা, শ্রেণীকরন ও লেখকদের যথাযথ স্থান প্রদানে তার দক্ষতা ফুটে ওঠেছে গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠায়। এপ্রসঙ্গে গ্রন্থের সহকারী সম্পাদক তৌহিদুর রহমানের দক্ষতা ও শ্রমের বিষয়টিও স্মরণযোগ্য। স্মারকগ্রন্থটির রূপায়নে তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন বলে আমাকে জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে মরহুমের কন্যা নীলুফার খানমের অবদান ও অনস্বীকার্য। মরহুম পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও আবেগের যে প্রকাশ ঘটেছে, তা অসাধারন বলা যায়। এছাড়া তার অন্যান্য সন্তানের লেখাতেও একই আবেগ ও ভালোবাসা লক্ষণীয়। একজন মানুষের মূল্যায়নে নিকটজনদের লেখা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ, এক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সর্বোপরি ‘আব্দুল আজিজ খান স্মারকগ্রন্থ’ একটি সুসম্পাদিত সংকলন, যাতে আছে গ্রন্থের মূল ব্যক্তিত্ব মরহুম আব্দুল আজিজ খানের আত্মজীবনী, তার সম্পর্কে বিভিন্ন জ্ঞানীগুনী মানুষের স্মৃতিচারণ, মরহুমের সন্তানগন ও নিকটাত্মীয় এবং পরিচিতজনদের আবেগ অনুভূতি। স্মারকগ্রন্থটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেই ষাটের ও সত্তুরের দশকের এমনকি তারও আগের এই দীর্ঘ সময়কে ধারণ করে আছে স্মারকগ্রন্থটি, ধারণ করে আছে সেই সময়ের অনেক বিষয়, ঘটনা ও ইতিহাস। স্মারকগ্রন্থের যে কোন পাঠককে সেই ইতিহাসে অবগাহন করতে যে সহায়তা করবে এই মূল্যবান গ্রন্থটি, এতে কোন সন্দেহ নেই।




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন