চাঁদা না পেয়ে সড়ক সংস্কার কাজে বাধা দিলেন সাবেক ইউপি সদস্য রাহেল!


বিশেষ প্রতিনিধি :: | ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

IMG



সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুরে চারিকাটা ইউনিয়নের আঞ্জাগ্রাম। এ গ্রামের মসজিদে যাওয়ার পথটি ছিলো কাঁচা। সম্প্রতি স্থানীয় ইটাখাল ছাতকির বাড়ি থেকে ওই মসজিদ পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসে। এজন্য প্রকল্প কমিটিও গঠন করা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আহমদ দুলালকে এ কমিটির সভাপতি করা হয়।

টিআর খাত থেকে অর্থ বরাদ্ধ পেয়ে যথারিতী সড়ক সিসি ঢালাই কাজ শুরু করতে চান তিনি। তবে তাতে বাদ সাধেন স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা রাহেল আহমদ। তিনি চাঁদা দাবি করে বসেন পিআইসি সভাপতি দুলালের কাছে। দুলাল চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি দলবল নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

সর্বশেষ বুধবার সকালেও কাজ করতে গেলেও বাধার মুখে পড়েন দুলাল। ফলে কাজ না করেই মাল-পত্র নিয়ে সেখান থেকে ফেরত আসেন তার লোকজন। পরে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেন। 

তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, "যথাসময়ে কাজ শুরু না করায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করেছেন। এজন্য তারা ইউএনও বরাবরে অভিযোগও করেছিলেন।"

কিন্তু তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে ইমরান আহমদ দুলাল দাবি করেন, "তিনি বরাদ্দকৃত অর্থ পাওয়ার পরপরই যথাসময়ে কাজ শুরু করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই সাবেক ইউপি সদস্য রাহেল আহমদের বাধার মুখে পড়েন। ফলে তিনি কাজ শুরু করতে পারেননি।"

বুধবার দুলালের পক্ষে কাজ তদারকিতে থাকা বাহার উদ্দিন বলেন, আমরা কাজ শুরু করার জন্য ট্রলি করে বালু-পাথর ইত্যাদি নিয়ে সেখানে যাই। যাওয়ার পর আমাদের কর্মীরা সড়কের মাটি সমান করার কাজও শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরে দু'জন লোক এসে কাজ বন্ধ রাখতে বলে। পরে রাহেলও সেখানে আসেন, আমাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশও দেন। পরে আমরা সেখান থেকে ফেরত আসি।"

এদিকে ইউএনও বরাবরে করা আবেদনে দুলাল বলেন, "ইটাখাল ছাতকির বাড়ীর সামনা হইতে আঞ্জাগ্রাম জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইর কাজ বিগত অর্থ বছরে টিআর খাতে বরাদ্দকৃত উক্ত প্রকল্পের কাজ আমি যথাসময়ে ১১/০৫/২০১৯ ইং তারিখে শুরু করি। বরাদ্দ অনুমোদনের পর থেকেই আঞ্জাগ্রাম নিবাসী রাহেল আহমদ চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি হুমকি দেন ও কাজ করতে দিবেননা। আমি হুমকি উপেক্ষা করে উল্লেখিত তারিখে কাজ শুরু করি, কাজ শুরু করার কয়েক ঘন্টা পর রাহেল আহমদ তার সহযোগী নিয়ে এসে কাজে বাঁধা দেয়ায় আমি কাজ বন্ধ করে চলে আসি। পরবর্তিতে আমি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান সাহেবকে অবগত করি।"

"চেয়ারম্যান আমাকে ও রাহেল আহমেদসহ এলাকার গন্যমান্য মুরব্বিয়ান সহ ইউনিয়ন পরিষদে শালিস বৈঠকে বসে সিধান্ত গ্রহণ করেন যে, কাজটি তিনি নিজের তত্বাবধানে করে দিবেন, উক্ত প্রস্তাবে আমি রাজি হয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে তৎক্ষানিক ২০ হাজার টাকা প্রদান করি। পরবর্তিতে ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন ও আমাকে নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ কার্য দিবসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করে অদ্য ৩০/১০/২০১৯ ইং তারিখে পুনরায় কাজ শুরু করিলে আবারও রাহেল আহমদ ও তার সহযোগীদের নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।"

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাহেল আহমদ বলেন, "চাঁদা দাবির কোন ঘটনা নয় বরং যথাসময়ে কাজ শুরু না করায় স্থানীয় লোকজনই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।"

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিম বলেন, "কাজে বাধা প্রদানের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে তদারকি করতে বলা হয়েছে।"




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন