সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন: পুরনোতে আস্থা না পরিবর্তন?


এমদাদুল হক মান্না:: | ০৭:০৮ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

IMG



দীর্ঘ ৮ বছর পর হতে যাওয়া সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা পরিবর্তনের দাবি থাকলেও তেমন বড় কোন পরিবর্তন নাও আসতে পারে এমন আশংকা জোড়ালো হচ্ছে দিন দিন। তবে পরিবর্তন নাকি পুরনো বৃত্তেই আবর্তন এ নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন এখন সিলেটের আওয়ামী ঘরনায়। তৃণমূল নেতারা পরিবর্তন চাইলেও অবশেষে কতটুকু পরিবর্তন আসছে কমিটিতে এমন অপেক্ষায় এখন তৃণমূলের নেতাকর্মিরা। তবুও নতুন পদ প্রত্যাশীরা চালিয়ে যাচ্ছেন জোড়সোর তদবির। কমিটির শীর্ষ পদে আসতে আলোচনায় আছেন ১৪জন পদপ্রত্যাশী নেতা। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে ৬ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮জন।

জানা গেছে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয় ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালে। কিন্তু পরবর্তীতে আর নতুন করে সম্মেলন বা কমিটি গঠন হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই এখন অবধি দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রের কঠোর হুঁশিয়ারি পেয়ে সম্মেলনের তোড়জোড় শুরু করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিন পর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে ৫ ডিসেম্বর। সম্মেলনে কাউন্সিল না সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হবে, বিষয়টি এখনও খোলাসা হয়নি। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হওয়ার পাল্লাই ভারী বলে জানা গেছে। সম্মেলনের পর ঢাকা থেকেই নাম ঘোষণা করা হতে পারে, এমন আভাসও দিয়েছেন পদপ্রত্যাশীদের অনেকে। এতে করে শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন না আসার তেমন সম্ভবনা নেই বলে মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও। থাকতে পারে আগের কমিটি গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে এমন, তবে সম্মেলন সামনে রেখে তৎপর রয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। 
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে এক ডজনের বেশি নেতা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্য সভাপতি পদে কামরান এগিয়ে থাকলে ও তিনি একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদটি হারাতে পারেন এমন আশংকাও কম নয়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন তিনি। কামরানকে সভাপতি আর আসাদকে সাধারন সম্পাদক রেখে আগের কমিটি থাকবে এমন গুঞ্জন বেশিই শুনা যাচ্ছে নেতাকর্মিদের কাছ থেকে। তবে আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে রয়েছে গত সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির বিষয়টি। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ওই পরাজয়কে দেখা হয় সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবে। এ অবস্থায় মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার যে কোনো একজন পদবঞ্চিত হতে পারেন।
সভাপতি পদ পরিবর্তন হলে আসাদ ছাড়াও এ পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফুর আলী ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর আবদুল খালিক। যুগ্ম-সম্পাদক সাবেক সিটি কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার আলাওরের নামও আলোচনায় আছে। এখানে এডভোকেট রাজ উদ্দিন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এ শাখায় সহসভাপতি পদে থাকা নেতাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। ২০০৪ সালে নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন রাজ উদ্দিন। এখনও তার শরীরে বেশ কিছু স্পিøন্টার রয়ে গেছে। প্রায় ১০ বছর তিনি জেলা জজ কোর্টের ভিপিজিপি ছিলেন। অবশ্য এসব নেতাদের কেউই সরাসরি সভাপদি পদে আসার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না। 
এ প্রসঙ্গে জানাতে চাইলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান শুভপ্রতিদিনকে জানান, নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে চান। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। সংগঠনের প্রয়োজনে তিনি যেখানে রাখবেন সেখানেই থাকব।
এ ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক, বিসিবির পরিচালক, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাস, শিক্ষা সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী। 
আসাদ উদ্দিন আহমদ শুভপ্রতিদিনকে জানান, সম্মেলনের শেষ মূহুর্তে প্রস্তুতি চলছে এখন। কমিটি কাউন্সিলে না মতামতের ভিত্তিতে হবে, তা নির্ধারণ করবেন দলীয় সভানত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ। 
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব। সবচেয়ে তৎপর হয়ে ওঠেছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। শীর্ষ দুই পদপ্রত্যাশী নেতাদের সমর্থনে নগরজুড়ে বিলবোর্ড-প্ল¬্যাকার্ডে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কারা আসছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এমন প্রশ্ন সর্বত্র। পুরনো না নতুন নেতৃত্ব- এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে নেতাদের প্রায় সকলেই জানিয়েছেন, শেষপর্যন্ত নির্বাচন নয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের ইচ্ছায় মনোনীত করা হবে শীর্ষ নেতৃত্ব। মূলত দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছেতেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হবে।
দলীয় সভানেত্রীই শীর্ষ দুই নেতা বাছাই করে নেবেন, সকলেই এমনটি ধারণা করলেও বসে নেই পদপ্রত্যাশী নেতারা। জোরেশোরেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পদপ্রত্যাশীদের ছবি শোভা পাচ্ছে এখন নগরীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে। সম্মেলনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসতে শুরু হয়েছে পদপ্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাপ। ওয়ার্ড কমিটির কাউন্সিলারদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টার পাশাপাশি চলছে কেন্দ্রে লবিং। সম্মেলন ঘনিয়ে আসায় শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের ‘আমলনামা’ এখন আলোচিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে বিগত সিটি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব পদপ্রত্যাশীদের ভূমিকা। 
 




সম্পর্কিত খবর -----------------------------






লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন




পুরানো খবর দেখুন