বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে নিজ প্রার্থীতা সম্পর্কে এমরান চৌধুরীর বিবৃতি



আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট -৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়া প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী এক বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন দীর্ঘ প্রায় ১৬ বৎসর থেকে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের জনগনের সুখ দুঃখের সাথে মিশে আছি।

দেশনায়ক তারেক রহমান দুই দুইবার দুটি উপজেলাতেই আমার অনুরোধেই এসে ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে বিশাল বিশাল ৪ টি সমাবেশে বক্তব্যে এই এলাকার জনগনের সামনে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, সিলেটের কৃতি সন্তান এম. ইলিয়াছ আলীকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য আমাকে গাইড করার জন্য বলেছিলেন, যা আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত স্মরণীয় ঘটনা।

বি. এন. পি সরকারের সময়ে এই এলাকায় অনেক উন্নয়ন আমার মাধ্যমে হয়েছে। বিশেষ করে চন্দরপুর সেতু, বসন্তপুর- কটলীপাড়া রাস্তার উন্নয়নসহ অন্তত ১০ টি স্কুল ভবন তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ভাইয়ের মাধ্যমে করেছিলাম। এছাড়াও প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সিলেটের কৃতি সন্তান এম. সাইফুর রহমানের মাধ্যমে করেছিলাম।

মনোনয়নের জন্য এইবার নিয়ে ৩ বার ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হয়েছিলাম। যা আমার কোন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর দ্বারা সম্ভব হয় নি। প্রথমবার ২০০৬ সাল ইন্টারভিউর সময় আমার নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন তোমার আরেকটু বয়স হউক পরবর্তীতে তোমাকে মূল্যায়ন করা হবে।

এরপর ২০০৮ সালে দেশনেত্রী বলেছিলেন ১/১১ সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে তোমাদেরকে সেকরিফাইস করতে হবে। আর এইবার ২০১৮ তে ইন্টারভিউর সময় দেশনেত্রীকে না দেখে মনটা খুবই খারাপ লাগছিল। দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আমরা শপথ করলাম দল, জোট এবং ঐক্যের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা তার সাথে থাকব এবং সেটা অবশ্যই ধানের শীষ হবে। নমিনেশন ঘোষনার দিন রাতে নীতি নির্ধারনী একজন সিনিয়র নেতা জানালেন তোমাদের আসনটি জোটকে দেওয়া হয়ে গেছে। তুমি চিঠি নিয়ে নমিনেশন দাখিল করতে পার।

কিন্তু মনোনয়ন পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমি বললাম এইবার বি. এন. পি থেকে যারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ছিল, জেল জুলুম হুলিয়া নিয়ে জীবনবাজী রেখে লড়াই করেছে তাদের মধ্য থেকে যে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমরা এই আসনটি দেশনেত্রীকে উপহার দিতে পারব।

তাই দেশনায়ক তারেক রহমানকে দেওয়া ওয়াদা রক্ষার জন্য নমিনেশনের চিঠি নিয়ে এসে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের বি. এন. পি পরিবারকে আর বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলা উচিত নয় বিধায়, জাতির এই দুঃসময়ে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে, দেশনায়ক তারেক রহমানের দেশে আসার স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত, আর সেজন্যই আমি মনোনয়ন পত্র দাখিল থেকে বিরত থাকি। আমার জানামতে আরো ২ প্রার্থীও দলীয় মনোনয়ন পেয়েও জমা দেন নাই। আমি চাই না গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজারের বি. এন. পি পরিবার আর দ্বিধা-দ্বন্ধের শিকার হোক। দল, জোট, ঐক্য যাকেই ধানের শীষের একক প্রার্থী মনোনীত করবে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাকে বিজয়ী করার আহবান জানাচ্ছি। -বিজ্ঞপ্তি