বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কানাইঘাটে কারিতাসের টিউবওয়েল বসানোর জেরে হামলা, আহত ১



ডেস্ক রিপোর্ট:: কানাইঘাটে কারিতাসের রিং টিউবওয়েল বসানোর স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে লোহাজুড়ি বিদ্যানিকেতন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুস ছালামের উপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। গত ২১ নভেম্বর সকাল ৯টায় উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের লোহাজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আব্দুস ছালাম গুরুতর আহত হলে তাকে তাৎক্ষণিক কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতের অবস্থা আশংকাজন হওয়ায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৯নং ওয়ার্ডে অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে পরদিন ২২ নভেম্বর আহত আব্দুস ছালামের স্ত্রী মোছাঃ রুমি আক্তার লাকি সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে ও ৫নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নং- ৩৬৭/১৮। মামলার প্রেক্ষিতে ওই দিন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান ভুঁঞা কানাইঘাট থানায় এফআইআর’র জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কানাইঘাট থানায় মামলা নং-১৫, (২৬.১১.২০১৮ইং), জিআর মামলা নং- ২৫৭/১৮।

মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন, কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মিকিরপাড়া গ্রামের মৃত হাছন রাজার পুত্র আবুল কালাম, আবুল কালামের পুত্র রাসেল আহমদ, কালা মিয়ার পুত্র সেলিম উদ্দিন, এরালিগুল গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র শামীম আহমদ, মিকিরপাড়া গ্রামের মৃত হাছন রাজার স্ত্রী এখন বিবি, আবুল কালামের স্ত্রী হাজিরা বেগম ও রিনা বেগম, আবু শহিদের স্ত্রী সুমনা বেগম। এছাড়া ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত ও মুখোশধারী ৩ জনকে আসামী করা হয়।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর সকাল ৮টায় কারিতাস সংস্থা ওই এলাকায় একটি রিং টিউবওয়েল স্থাপন করার উদ্যোগ নেন। এলাকার সর্বসাধারণের পানীয় সুবিধা দিতে সবার সুবিধাজনক স্থানে টিউবওয়েল স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মামলার প্রধান আসামী আবুল কালাম তার বাড়িতেই ওই টিউবওয়ের বসানোর কথা বলেন। এতে হামলায় আহত আব্দুস ছালাম ও এলাকার জনসাধারণ আবুল কালামের বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর সিদ্ধান্তে সাড়া দেয়নি। যার কারণে আব্দুস ছালামের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন সকাল ১০টায় আবুল কালাম ও তার সঙ্গীয় ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার উপর হামলা করে। ধারালো দা, রড, রুল, ডেগার দিয়ে অতর্কিতভাবে আব্দুছ সালামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথায় দুটি গুরুতর কোপ, বাম হাতে একটি কোপ, ডান হাতের তালুতে দুটি কোপ, বাম হাতের কনুর নিচে একাধিক কোপ, হাড় ভাঙ্গা ও রড কেটে দেয় হামলাকারী সন্ত্রাসীরা। তাদের উপযুপরী আঘাতে আব্দুছ সালাম মাঠিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তখন পকেট থেকে তার ব্যবহৃত স্যামসং মোবাইল নিয়ে যায় (যার বাজার মূল্য ৩০ হাজার টাকা)। মাটিয়ে পড়ে গেলে হামলাকারী আব্দুছ সালামের মৃত নিশ্চিত করতে বেধরক মারধর করে। একপর্যায়ে তারা আব্দুছ সালামকে মৃত ভেবে চলে যায়।

উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার আশংকাজন হওয়ায় তাৎক্ষণিক ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে আব্দুস ছালামের উপর হামলার ঘটনায় লোহাজুড়ি বিদ্যানিকেতন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে লোহাজুড়ি ক্লাবের সকল সাধারণ সদস্য ও এলাকাবাসী এ ঘটনার নিন্দা ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।