বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পৃথক দুই তদন্ত কমিটি



ডেস্ক নিউজ:: স্কুলে ডেকে নিয়ে নিজের সামনে বাবা-মাকে অপমান করায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এ দুটি তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। দুই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ওই ঘটনার তদন্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক মো. ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

অন্য দুই সদস্য হলেন-মাউশির ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন ও ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ।

অন্যদিকে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, তাদের গঠিত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আতাউর রহমান (অভিভাবক প্রতিনিধি)। এ ছাড়া তিন্না খুরশীদ জাহান (নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদের অভিভাবক প্রতিনিধি) এবং ভিকারুননিসার শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, নকল করার কারণে ওই শিক্ষার্থীকে টিসি দেয়ার তথ্য সঠিক নয়।

তিনি বলেন, তবে আত্মহত্যায় অরিত্রিকে কেউ প্ররোচনা দিয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হবে।

আর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অভিভাবকরা মিছিল-টিছিল করছেন, বিষয়টি জটিল হয়ে গেল, আমি সেখানে যাচ্ছি। গতকাল শুনেই আমি যথাসম্ভব তথ্য নিয়েছি। এর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি।

তিনি বলেন, আমি তাদের বলেছি-আপনারা আইনগত দিকটি দেখেন, কারণ এর মধ্যে ক্রিমিন্যাল ব্যাপার আছে একটা। আর আমরা আমাদের বিষয়টি দেখব।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ তুলে বাবা-মাকে ডেকে অপমান ও টিসি দেয়ার কথা বলায় রাজধানীর শান্তিনগরে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী (১৫) আত্মহত্যা করেছে।

স্কুলের অধ্যক্ষ অরিত্রির বাবা-মাকে ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হবে।

এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অরিত্রি। আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে সে তার মাকে জানায়, ‘মা এ লজ্জা নিয়ে বাঁচতে চাই না।’ তার ছোট বোনও একই স্কুলে পড়ে