বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায়ের প্রাণের আকুলতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর



মানুষ সামাজিক জীব। তাহার অন্তর্নিহীত শক্তিগুলোর পূর্ণ বিকাশের জন্য সে সমাজে বাস করে। মানবকূলের সূচনা থেকে চলার পথে মানুষ হিসাবেই সে সমাজের নিকট হতে কতকগুলো সুযোগ পায় যেগুলোর সাহায্যে তাহার মনুষ্যত্ব বিকাশ সম্ভব হয়। তাই যে সকল অধিকার ব্যতিত নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং নাগরিক জীবনের যথার্থ উপলব্ধি সম্ভব হয় না তাকে মৌলিক অধিকার বলে। এক কথায়- নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে অপরিহার্য সুযোগ সুবিধাগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে অভিহিত করা হয়।

Definition of fundamental right- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি তথা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ আত্মউপলব্ধি, আত্মপ্রকাশ, চরিত্র বিকাশ ও অন্তর্নিহীত শক্তিগুলোর পূর্ণ বিকাশের জন্যে বাংলাদেশের সংবিধানে ২৭ হইতে ৪৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সাম্য, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়-নীতি ও দেশাত্ববোধের সুমহান মন্ত্রে উজ্জীবিত, অনুপ্রাণিত ও দীক্ষিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও গণমুখী রাষ্ট্রের সংবিধানে এই অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ, স্বীকৃত ও সমাদৃত হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের এই অধিকার হতে বঞ্চিত করা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাই চৎড়ভ. খধংশু যথার্থই মন্তব্য করিয়াছেন যে, ‘Every state it known by the rights that it maintains’ অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকারগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি রাষ্ট্রের পরিচয় মূর্ত হয়ে উঠে। একইভাবে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষণ করা সহ সংগঠনের স্বাধীনতা (Freedom of association)জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংগঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। অনুরূপভাবে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা (Freedom of profession or occupation) আইনের দ্বারা আরোপিত বাঁধা নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোন আইনানুগ পেশা বা বৃত্তি গ্রহণ এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রতিটি পেশাজীবিকে নিয়ন্ত্রণের জন্যে আইন প্রণয়ন ও যুগের তাগিদে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংশোধনী, আইনী কাঠামো প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বিচার বিভাগের সাথে ওতপোতভাবে জড়িত আইনজীবী সহকারীদের জন্যে তাদের কাজের পরিধি ও আইনানুগ পেশা বা বৃত্তিগ্রহণ স্বকীয় স্বীকৃতি সংগঠন রূপরেখা বর্ণনা করে আইনী কাঠামো তৈরী করে কোন স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়নি অথচ মানবকুলের সূচনালগ্ন থেকে চলার পথে অধিকার প্রশ্নটি যুক্ত হয়েছে চলমান বিকাশ ধারায়। বিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে রচিত হয়েছে মানবতার সেরা সনদ মানবাধিকার। এই সনদে সার্বজনীন মানবাধিকার এর ঘোষণার কথা বলা হয়েছে, এছাড়াও রয়েছে জাতিসংঘ, আঞ্চলিক এবং রাষ্ট্রীয় ভিত্তিতে গৃহিত অজস্র মানবাধিকার অনুকূল ব্যবস্থাদি। কিন্তু কাজের গরু শুধু কেতাবেই নয়, গোয়ালেও থাকতে হয়। ঘোষণা আছে, বাস্তবায়ন নেই, এমনি জীর্ণতা ও ভুলের বোঝা থেকে আইনজীবী সহকারীদের মুক্ত হতে হবে। তাদের দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার পৃথিবী জুড়ে স্বদেশে চলছেই নানা কায়দায়, নানা ভঙ্গির আদলে। রাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের প্রতি জন মানবের ভেতর দানব বসবাস করছে। সেই দানবকে দমিয়ে মানবিক প্রবৃত্তিকে বিকশিত করার সুযোগ অবস্থিত করাই হোক আইনজীবী সহকারীদের নিরন্তর আত্মসংগ্রাম। কিন্তু তারা পারছে কি? কথা এবং কাজের ব্যবধান স্ব স্ব ক্ষেত্রে বুঝি তা বেড়েই চলছে। এর শেষ কোথায়? ব্যাপারটি আপেক্ষিক। সবচেয়ে সবল যারা- একটি হল গভর্নমেন্ট ইন পাওয়ার, আরেকটি হল গভর্নমেন্ট ইন ওয়েটিং, এ দুয়ের গণতন্ত্র চলছে। শুধু অবহেলিত এদেশের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিক আইনজীবী সহকারীরা এদেশের নাগরিক এবং তাদের ভোটাধিকার বলে যারা নির্বাচিত হয়ে বছরের পর বছর তাদেরকে বিভিন্ন সভা সমাবেশ সেমিনার কর্মশালায় অতিথি হয়ে এসে শুধু মঞ্চে কথার ফুলঝুড়িতে কয়েকটি মুখরোচক শব্দ সম্ভার ছাড়া এগুলো যে আর কিছুই নয় সেটা একটু চোখ কান খোলা রাখলেই বুঝতে পারা যায়। স্বাধীনতা লাভের প্রায় ৪৭ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমরা স্বাধীনতার পূর্ব শ্লোগান, গালভরা মিথ্যা বুলি, ভোটযুদ্ধ এবং নির্বাচন নির্বাচন নিয়ে খেলা প্রভৃতি দেখেই যাচ্ছি। না পাওয়া যাচ্ছে আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, না পাওয়া যাচ্ছে শান্তি নামক সোনার হরিণ। আমাদের দেশের নেতা নেত্রী এমপি মন্ত্রী মহোদয়গণ লোক দেখানো ভালবাসা দায়িত্বশীলতা ও নিজেদের নির্বাচনী ওয়াদার দায়বদ্ধতা বা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বার্থ সিদ্ধি হাসিলের স্বার্থে নিজেদের দাবি আদায়ের সংগ্রামে একটাই দাবি থাকে সবার চোখের আড়ালে আর সেটা হলো মসনদে বসতে পারলেই হলো। তখন আদায় না হওয়া দাবিনামা চলে যায় মসনদ ও হারানো নেতা নেত্রীর হাতে। শুরু হয় সব পেয়েছিদের দখলে। আর সাধারণ জনগণ হিসাবে উপস্থিত থাকে সব হারানো নিঃস্ব রিক্ত মানুষরা। আর ফায়দা হাসিল করে উপর ওয়ালারা পদতলে পড়ে জীবন, নিচু শ্রেণির মানুষ নামের জীবন গুলো যাদের দৈনিক পারিশ্রমিক একেবারেই নগণ্য তাদেরকে আমরা মুহুরী কিংবা আইনজীবী সহকারী বা এডভোকেট ক্লাক’র্স যাই বলিনা কেন, আইনজীবী সহকারী পদবীটিই হলো যথাযথ। শুধু লেখনি নয়, আপন মেধা কর্মনিষ্ঠা আর আইনী ফাঁকফোঁকর সম্বন্ধে নির্দিষ্ট মাত্রার জ্ঞান তাদেরকে দান করেছে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। আইনজীবী সহকারীগণ আদালত প্রাঙ্গনে যেমন কর্মব্যস্ত বিভিন্ন সেরেস্তায় দৌঁড়া দৌঁড়িতে, তেমনি তারা ব্যস্ত বিচারালয়ে অভ্যন্তরে। কখনো বা তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলন, দৈনিক কার্য তালিকা (কজ্ব লিস্ট), হাজিরা, দরখাস্ত, আবেদনপত্র, প্রমাণপত্র বা সমজাতীয় বিষয়বস্তু এগিয়ে দিচ্ছেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনরত আইনজীবীদের। অন্যদিকে একজন আইনজীবী সহকারী নিরন্তর ব্যস্ত সময় থাকছেন কখন, কোথায় ও কোন তারিখে নির্দিষ্ট মামলাটি কোন আদালতে ও কোন সময় উপস্থাপিত হবে। সে বিষয়টি জানাতে। তারা মোয়াক্কেলদের কাছে যেমন সমাদৃত, নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজনে তেমনি সমাদৃত আইনজীবীদের, বিচারকগণের কর্মযজ্ঞে উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কাছে সহায়তা প্রদানকারী হিসেবে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শহর, বিভাগীয় শহরে প্রায় লক্ষাধিক আইনজীবী সহকারীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে তাদের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে নগণ্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। আইনজীবী সহকারীগণ যে অপরিহার্য কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সেটিও বাস্তব। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল অতি প্রাচীন শহর আমার জন্মভূমি হওয়ার সুবাধে শিশুকাল থেকে শৈশব কাল ছিলাম সিলেটে। আধ্যাত্মিক রাজধানী নামে পরিচিত সিলেট শহরে দেশের বরেণ্য ব্যক্তি যেমন প্রয়াত স্পীকার হুমায়ূন রশিদ, আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ, এম. সাইফুর রহমান, খন্দকার আব্দুল মালিক, শাহ এসএম কিবরিয়া, বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত অনেকেরই পদচারণায় ধন্য সিলেট। তেমনিভাবে আউল বাউল শহর পরিচিতি রাধারমন, আরকুম শাহ, হাসন রাজা, বাউল সম্রাট আব্দুল করিম সহ অসংখ্য সুফী সাধক এবং ওলিকুল শিরমনি হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও হযরত শাহপরাণ (রহঃ) ৩৬০ আউলিয়া চৈতন্য লীলাভূমি ও দুটি পাতা একটি কুঁড়ির পূণ্যভূমি সিলেটে পদদলিত হন।

দেশে একটি প্রথা রয়েছে, সিলেট-১ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ আসন বলা হয়। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উষ্ণ হাওয়া বওয়ার পুর্ব মুহুর্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহঃ) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। বৈশ্বিকভাবে সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হন সেই দলই সরকার গঠন করে। এই ভাবে প্রিয় শহরটির পরিবর্তন শুরু হয়েছে। জেলা থেকে বিভাগে, পৌরসভা থেকে সিটি কর্র্পোরেশন দুয়ে মিলে বিশেষণে মূল্যায়িত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সিলেট শহর, পৌরসভা দুটোই বিভাগীয় শহর হিসেবে আগমণ ঘটেছে। নানা ধরণের কর্মকর্তা, কর্মচারী, নানা অফিস আদালত কার্যালয়, নানামুখী কর্মধারণ, সেই সাথে বিভিন্ন ধরণের বাণিজ্যিক কর্মকান্ড কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আগমণ ঘটেছে অহরহ। বৈশ্বিকভাবে লোক সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে এবং আগমণ সহ নানা সমস্যারও ব্যাপ্তি ঘটেছে। যে কোন ধরণের নতুনত্ব প্রধানত আকর্ষণ করে তরুণ বা যুব সমাজকে। নগর কেন্দ্রীক নানা পরিবর্তন, নানামুখী জীবন ধারা দ্রুত তাদের জীবন পাল্টে দিতে পারে। এই বিষয়টি অনুমান বা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সিলেটে জুডিশিয়ারীতে কর্মরত এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হৃদয়বান ব্যক্তি সিলেটের মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। তিনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যুগের প্রয়োজনে প্রান্তিক অনগ্রসর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায়দেরকে সামাজিক সুরক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা ও কর্মসংস্থান ও পুণর্বাসন সর্বোপরী আদালত প্রাঙ্গণকে সৌন্দর্য বর্ধিত করার লক্ষ্যে ০৩ (তিন) শতক জায়গা বরাদ্ধ করে জরাজীর্ণ প্রতিকুল পরিবেশ থেকে আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায়কে স্থান দিয়ে মর্যাদা দিয়েছেন। আইনজীবী সহকারীরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রত্যেক সদস্যগণের নিকট থেকে চাঁদা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আজকে তারা ০৫ (পাঁচ তলা) বিশিষ্ট ভবনের ৪র্থ তলা ভবনের কাজ সম্পন্ন করে ছাদের নিচে বসে দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. গোলাম মতুর্জা মজুমদার মহোদয় এর মত ব্যক্তিগণ মানুষের কল্যাণে, জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে না আসলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায় কখনো পরিপূর্ণ হত না এবং এর জবাবদিহীতা সচেতন মানুষকেই দিতে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অদ্যাবধি এই সম্প্রদায় মানুষগুলোর জন্যে ৩১ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোন স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত হয়নি। আইনজীবীরা সহকারীদের আইনী কাঠামোর মধ্য এনে তাদের কাজের পরিধি নির্ণয় করে বা সংগঠনের স্বীকৃতি প্রদান করলে বা সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র আইন মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে আইন প্রণয়ন করলে কার কি ক্ষতি হবে এই বিষয়টি কারও বোধগম্য নহে। অনেক আইনজীবী সহকারী বা তাদের সাথে যুক্ত শিক্ষানবীস আইনজীবী সহকারীরাও তাদের প্রজন্ম, পরবর্তী প্রজন্ম এবং পরিবার সকলেই আশা নিরাশার দোলাচলে বুক বেঁধে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় আর্তনাদ করে দিনাতিপাত করছেন। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমি সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি কামনা করি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ আনন্দ উৎসবে আমরা আইনজীবী সহকারীরাও সহযাত্রী। ব্যক্তি পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি ১৯৯৭-৯৮ সালে দেশে প্রথম বয়ষ্কভাতা চালু করেন, ১৯৯৮-৯৯ সালে বিধবাভাতা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, সম্মানী ভাতা সহ প্রধামন্ত্রীর নিজ উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে চা শ্রমিক সহ আর্থিক সহায়তা প্রতিবন্ধি মানুষের ‘প্রতিবন্ধি আইন-২০১১’, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল ভবঘুরে ও নিরাশ্রম ব্যক্তিদের জন্য ‘পূণর্বাসন আইন ২০১১’, শিশু আইন ২০১৩, পিতামাতা ভরণপোষন আইন-২০১৩, প্রতিবন্ধি ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, নিউরো ডেভেলপমন্টে প্রতিবন্ধি সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ প্রণয়ন সহ বিভিন্ন আইনের সংস্কার করে বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রাণের আকুলতা আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায় জনগোষ্ঠীদের জন্য প্রণীত স্বতন্ত্র আইনটি মাননীয় আইন ও বিচার সংসদ মন্ত্রলাণলয়ের ওয়েব সাইটে সংরক্ষিত (www.lc.gov.bd, report on providing a legal framework for established a statutory association for the Advocate’s Clarks SI-60 & 61). মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে বিলটি অন্যান্য আইনের ন্যায় পাস করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

লেখক : শাকিল আহমদ
সহ সভাপতি, বাংলাদেশ আইনজীবী সহকারী সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।