বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিজিবির ছিনিয়ে নেয়া গরু উদ্ধারে প্রশাসন ও বিজিবির উর্ধ্বতন মহলের সাহায্য কামনা



সিলেটের জকিগঞ্জের বিয়াবাইল বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি’র জোয়ানরা কানাইঘাটের আলা উদ্দিনের গোয়াল ঘর থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া ১১টি গরু ফেরত আনতে বিজিবি হেড কোয়ার্টার, বিজিবি সদর দপ্তর সেক্টর কমান্ডার ও সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের সাহায্য কামনা করে পৃথক পৃথক আবেদন করেছেন গরুর মালিক আলা উদ্দিন।

তিনি সোমবার (১২ নভেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ডকেট নং- ৭৭, ৭৮ ও ৭৯, তারিখ: ১২.১০.২০১৮ এর মুলে আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ৪ নভেম্বর মৃত নাজির আলীর পুত্র জনৈক সাহাব উদ্দিন করিডোরের মাধ্যমে চাক্কা মার্কা যুক্ত বিভিন্ন রংয়ের ১৫টি বলদ গরু প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি ৫ নভেম্বর বর্ণিত গরুগুলো হাটবাজারে বিক্রয় করার জন্য হাজী আব্দুর রহমানের পুত্র আলী আহমদকে অনুমতিপত্র দেন। এর প্রেক্ষিতে আলা উদ্দিন ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সিলেটের জৈন্তাপুর থানার হরিপুর বাজারের ইজারাদার মো. আব্দুর রশিদ হতে গরু বিক্রেতা আলী আহমদের কাছ থেকে ৬১৫৪ ও ৬১৫৫ নং চালানের মাধ্যমে বিভিন্ন রংয়ের ১১টি গরু ক্রয় করেন। কিন্তু গত ৭ নভেম্বর বুধবার ভোর রাতে বিয়াবাইল বিওপি ক্যাম্পের বিজিবিগণ আলা উদ্দিনের গোয়াল ঘর থেকে উক্ত ১১টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে যান। বিজিবি সদস্যগণ গরুগুলো অবৈধ বলে জোরপূর্বক গোয়ালঘর থেকে ছিনিয়ে নেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসময় আলা উদ্দিন ক্রয়কৃত গরুর চালান দেখালেও রক্ষা পাননি।

পরে গরুগুলো ফিরিয়ে দিতে মহামান্য হাইকোর্টের ৪৪ ডিএলআর (এডি) পৃষ্ঠা নং-২১৯ এর ক্ষমতাবলে বিজিবি ১৯-ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক বরাবরে ৭ নভেম্বর নোটিশ প্রদান করেন আলা উদ্দিনের পক্ষে সিলেট জজ কোর্টের এডভোকেট মো. মঈনুল ইসলাম বুলবুল। নোটিশে ৫ দিনের মধ্যে গরু ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আজ ছয়দিন হয়ে গেলেও বিজিবি কর্তৃপক্ষ গরু ফেরত দেননি।

আলা উদ্দিন গত ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে ও ১১ নভেম্বর রোববার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরেও ক্রয়কৃত গরুগুলো ফেরত চেয়ে পৃথক পৃথক আবেদন করেন।

গরুগুলো না পাওয়ায় গরুর ক্রয়কৃত মালিক কানাইঘাটের সড়কের বাজার দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের মৃত ফরিদ আলীর পুত্র আলা উদ্দিন বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া তিনি বিজিবির পক্ষ থেকে মামলার ভয় নিয়েও চলাফেরা করছেন বলে জানান।