সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বেপরোয়া পরিবহন কোথায় কেউ নেই: মুস্তাফিজ সৈয়দ



সড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণ ঘাতক পরিবহন ছিনিয়ে নিচ্ছে অজস্র প্রাণ, অজস্র স্বপ্ন। কখনো মা হারাচ্ছেন তার প্রিয় সন্তানকে, কখনো স্বামী হারাচ্ছেন প্রিয়তমা স্ত্রীকে, কখনো কেউ স্বপরিবারে মারা যাচ্ছেন । মৃত্যু তো এমনি বেদনাদায়ক এরপর যদি মৃত্যুটা হয় সড়কে দূর্ঘটনায় তখন তো কষ্টের মাত্রা বেড়ে যায় দিগুন।

সম্প্রতি সিলেটে গত সোমবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে গোলাপগঞ্জের দম্পতি কায়ছান চৌধুরী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় মালনীছড়া চা বাগানের সামনে তাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী লরি। এতে গুরুতর আহত হন কায়ছান চৌধুরী, তার স্ত্রী রাফিয়া সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান মেহনাজ চৌধুরী (৮) ও শেহজাদ আহমদ চৌধুরী (৫) এবং অটোরিকশা চালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার পর কায়ছান ও তার স্ত্রী মারা যান। নিহত কায়ছান আহমদ চৌধুরী (৪২) উপজেলার ভাদেশ্বর পশ্চিমভাগ বাখরপুর গ্রামের মরহুম মঈন মিয়া চৌধুরীর ছেলে। তিনি স্ব পরিবারে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকার ভাদেশ্বর হাউজে বসবাস করে আসছিলেন।

এদিকে কায়ছান ইসলাম চৌধুরী সম্প্রতি আমেরিকার ভিসা পেয়েছিলেন । এ মাসেই কয়েকদিন পরই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় স্বপরিবারে পাড়ি দেয়ার কথা ছিল কায়ছান ইসলাম চৌধুরীর। আমেরিকার ভিসা পাওয়ার আনন্দ উদযাপনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন কায়ছান। এই বেড়ানোই তার শেষ বেড়ানো হবে কে জানতো ? বাবা হারানোর বেদনা তাদের অবুঝ মনকে অশান্ত আর বেদনাসিক্ত করে তুলেছে।

সিলেটের বিভিন্ন রোডে প্রায়ই সড়ক দূর্ঘটনা হচ্ছে। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট রোড ও জাফলং রোড চলাচল করার সময় বিভিন্ন সময় যাত্রী সাধারণ সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এদিকে দূরপাল্লার পরিবহন ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে কোন নিয়ম না মেনে। যার ফলে ঘটছে অসংখ্য দূর্ঘটনা, কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। প্রশাসনের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া নইলে দিনে দিনে বেড়ে চলবে সড়কে মৃত্যৃর মিছিল।