সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মাওলানা আব্দুর রহীম ছিলেন জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মানুষ =আবু সাঈদ রাউফী



নিচের ছবিটি একটু ঝাপসা দেখাচ্ছে। হ্যা, এরপরও মুখের অবয়বটিতে ভেসে উঠছে সেই চিরচেনা এক প্রিয় মানুষের মুখ। বর্তমান প্রজন্মের কেউ তাকে না চিনলেও আমাদের বয়সী সবাই তাকে এক নামেই চিনেন। খুজগীপুর (পশ্চিম গৌরিপর ইউ/পি, বালাগন্জ, সিলেট) গ্রামের মোল্লাবাড়ির মাওলানা আব্দুর রহীম সাহেব (মরহুম)। অত্যন্ত মেধাবী জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন তিনি। বাগ্মী, তার্কিক বক্তৃতায় পটু এ মানুষটি বিদেশেই কাটিয়েছেন জীবনের বেশিটা সময়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাই এ গিয়েছিলেন রুজির অন্বেষনে। ওখানে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। অনর্গল আরবিতে কথা বলতে পারতেন। সাদা তুব আর সাদা রুমাল ব্যবহার করতেন সবসময়। মনে হত তিনি এক আরবি মানুষ।
খুজগীপুরের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা আব্দুল হান্নান

নুনু মিয়া সাহেবের ক্লাসমেট মরহুম আব্দুর রহীম সাহেবের পড়াশুনা শুরু হয় পাথারিয়া মাদরাসা থেকে। পরবর্তীতে হযরত নূরুদ্দীন সাহেব গহরপুর মাদরাসা (সিলেট) প্রতিষ্ঠা করলে তিনি ওখানে ভর্তি হন এবং মিশকাত পর্যন্ত পড়েন। পারিবারিক অসুবিধার জন্য তার আর দাওরা পাস করা হয়নি।
আবদুর রহীম সাহেবের কিতাবি দখল ছিল প্রগাঢ়।
যে কোন মাসআলা মাসায়িলের জন্য তিনি ছিলেন সুপন্ডিত। এখনও তার ঘরে আলমিরা ভরতি কিতাব রয়েছে।
আব্দুর রহীম সাহেবের বাবা মরহুম মোশররফ হোসেনও ছিলেন একজন মুনশী। তখনকার যুগে আলেমদেরকে মুনশী নামে সম্বোধন করা হত।
আব্দুর রহীম সাহেবের ছয় ভাই এর মধ্যে তিনি ছিলেন পন্চম । মেজোভাই মরহুম আব্দুল ওয়াহীদ সাহেবের বড় ছেলে সিলেটের স্বনামধন্য সাংবাদিক সেলিম আউয়াল, মেজো ছেলে ফটোজার্নালিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল বাতিন ফয়সল।
দুই ছেলে এক মেয়ের জনক আব্দুর রহীম সাহেবের বড় ছেলে আব্দুল মুমিন ইমরান ও একজন উদীয়মান সাংবাদিক।
আজ তিনি নেই। তার কথা হৃদয় দর্পণে ভেসে উঠছে। সম্পর্কে তিনি আমার দাদা হন। তাই নাতি হিসেবে তিনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন।
আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করুন।