সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ধর্ষণের শিকার হলো মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নারী !



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ এলাকায় মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নারী (২৭) ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ঘটনাটি ঘটে সোমবার বেলা ১টায় মধ্যভাগ কবরস্থান সংলগ্ন একটি ঝুঁপড়ি বসত ঘরে ।

ধর্ষিতা নারী এক অসহায় কৃষকের ( ইমাম বক্সের-৭৫) কন্যা। ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণকারী আদমপুর ইউনিয়নের সাবেক এক ইউপি সদস্য সিদ্দেক আলীর ভাই নওয়াব আলী (৫০)। সে এলাকায় নিয়মিতই নানা অসামাজিক কাজ করে। তার দ্বারা এ এলাকায় অনেক গৃহবধূ সম্ভ্রম হারিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় ।

ধর্ষিতার ভাই হাবিব বক্স সোমবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে এ প্রতিনিধিকে জানান, মধ্যভাগ কবরস্থানের পাশে নওয়াব আলীর কিছু জমি রয়েছে। সেখানে সে একটি ছোট ঝুঁপড়ি করে থাকে। এদিন দুপুরে তার প্রতিবন্ধী বোনকে একা পেয়ে এই ঝুঁপড়ি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে নওয়াব আলী।

ঘটনার পর ধর্ষণকারী এলাকা ত্যাগ করার পর ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাবিব বক্স অভিযোগ করে আরও বলেন, ধর্ষণকারী প্রভাবশালী বলে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করে না। সে এই এলাকায় এ ধরণের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, এ ধরনের ঘটনা তারা শুনেননি। তারা শুনেছেন টমেটো খেত নিয়ে দুই পক্ষের ঝগড়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তবে অভিযুক্ত নওয়াব আলী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এক খন্ড জমি ক্রয় নিয়ে গ্রামের একটি পক্ষের সাথে তার বিরোধ চলছে। এ বিরোধে তাকে ধর্ষণকারী বানিয়ে এই নারীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে হেলাল ও কামাল নামের দুই ব্যক্তি। তিনি প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাদের নামে মানহানির মামলা করারও কথা জানান।

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি জগন্য কাজ। নারীটি মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ভাতাভুক্ত। তিনিও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. পলাশ রায় বলেন. নির্যাতনের শিকার হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এক প্রতিবন্ধী নারী সোমবার ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীণ থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেন।