মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করলেন মিসবাহ সিরাজ



আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। মঙ্গলবার বেলা ১টায় ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযান শুরু করেন।
এ লক্ষ্যে বেলা ১টার দিকে দরগাহ প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগি সকল সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমবেত হন। দরগাহ মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের পর নেতাকর্মীদের নিয়ে শাহ জালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এর পর তিনি দরগাহের প্রধান ফটকে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। পরে দরগাহ এলাকা থেকে নগরীর চৌহাট্টা পর্যন্ত সরকারের উন্নয়ন প্রচারাভিযানের লিফলেট বিতরণ করেন মিসবাহ সিরাজ।
বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ এর পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী।
সমাবেশে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সমবেত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রচারাভিযান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশে সামগ্রিকভাবে যে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে সেই বার্তা জনগণের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন সে বার্তা জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানোর মাধ্যমে জনগণ আরো উজ্জীবিত করতে চাই। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সিলেটের সর্বত্রে দলীয় নেতাকর্মীরা এ অভিযান অব্যাহত রাখবেন।
তিনি দেশে নবগঠিত রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’-এর সমালোচনা করে বলেন, জনবিচ্ছিন্ন ও প্রত্যাখ্যাত খুনি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজরা একত্রিত হয়ে এ জোট গঠন করেছেন। এরা ব্যর্থ রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতীতে যেমন তাদের গ্রহণযোগ্য ছিলো না, ভবিষ্যতেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। কারণ, দেশের জনগণ এদের বিশ্বাস করে না।
মিসবাহ সিরাজ নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিয়ে নিজের জন্ম ও কর্মস্থল সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে আমি সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জানাবো। দল আমাকে প্রার্থী হিসেবে যেখানে মনোনয়ন দেবে সেখান থেকে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অভিজ্ঞতা থেকে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আমার আশা-আকাক্সক্ষা ও ভরসার প্রতীক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ সবসময় আমার পাশে ছিলো, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ দলীয় সভানেত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সকলের কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধির ধারা সমুন্নত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা পুনরায় নির্বাচিত হলে এদেশে গরিব মানুষ থাকবে না, দেশের মানুষের সকল চাহিদা পূরণ হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উদীয়মান সিংহ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
এ জন্য সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির করার জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এসময় নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, মহানগর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে হুমায়ুন ইসলাম কামাল, জুবের খান, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, তপন মিত্র, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ দাস, অ্যাডভোকেট ফারুক আহমদ, অ্যাডভোকেট খোকন দত্ত, অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, এমাদ উদ্দিন মানিক, মোস্তাক আহমদ পলাশ, অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী, আব্দুল বাসিত টুটুল, ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডা. নাজরা চৌধুরী, আইনজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সামিউল আলম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস, জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট খাদিমুল মিল্লাত জালাল, অ্যাডভোকেট রুহুল হুদা, অ্যাডভোকেট হুসেন আহমদ, সিলেট ল’ কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মোস্তফা শাহীন চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, জগন্নাথপুর পৌর মেয়র আব্দুল মনাফ, ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়র রাবেল আহমদ, সিলেট সিটি কাউন্সিলর আজম খান, মখলিছুর রহমান কামরান, আকবর হোসেন খান, তারেক উদ্দিন তাজ, রকিবুল ইসলাম ঝলক, বিক্রম কর স¤্রাট, জেলা পরিষদ সদস্য এজেড জেবিন রুবা, নুরুল ইসলাম ইছন, মোহাম্মদ শাহনূর, লোকন মিয়া, সোয়েদ আহমদ, আলমাস আহমদ, হাসিনা বেগম, হেনা বেগম, সাজনা সুলতানা চৌধুরী, মোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম শায়েস্তা, কলেজ শিক্ষক সমিতি নেতা অধ্যাপক ফয়েজ আহমদ বাবর, অধ্যাপক কাশ্মির রেজা, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম, কৃষক লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, আঙ্গুর মিয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের সিলেট মহানগর সভাপতি এম শাহরিয়ার কবির সেলিম, জেলা সাধারণ সম্পাদক শামীম রশিদ চৌধুরী, মকবুল হোসেন খান, জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসীন কামরান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুয়েল আহমদ, মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুদীপ দে, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক যুবলীগ নেতা এমএ হান্নান, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফছর আজিজ, মহানগর সভাপতি আফতাব হোসেন খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম, মহানগর সহ-সভাপতি পিযুষ কান্তি দে, জেলার সহ-সভাপতি মুহিব উস সালাম রিজভী, জি কে মাসুক, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, একেএম মাহমুদুল হাসান সানি, মহানগর কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল হোসেন লিমন প্রমুখ।