মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

২৮ তারিখ থেকে আট দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট



জাবেদ এমরান:: আট দফা দাবিতে সারাদেশে ২৮ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন। গতকাল শনিবার বিকেলে কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিভাগীয় মহা সমাবেশে ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচীর ঘোষনা দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ সংস্কার সহ শ্রমিকদের দাবি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে না মানলে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ৪৮ ঘন্টার পর পরিবহণ শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যাবেন। গাড়ি সড়কে চললে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে আর গাড়ি না চললে অর্থনীতিতে ভাটা পড়ে। রোগীকে যে ভাবে নার্স সেবা দেয় ঠিক সে ভাবে পরিবহণ শ্রমিকরা দেশের ১৬ কোটি মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

অতীতে আমাদের ৯২ জন শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যতেষ্ট সহযোগীতা করেছেন। সরকারের কিছু ব্যক্তি ও মহলের কারনে শ্রমিকদের পূর্ণ দাবি মানা হচ্ছেনা। ২২ শে অক্টোবর ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি শ্রমিকদের পেছনে লেগেছেন। ইলিয়াস কাঞ্চনকে পরিবাহনে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়েছে।

৩০২ দ্বারা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, নিয়োগপত্র ছাড়া কোন নতুন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দেয়া যাবেনা। যদি দেয়া হয় তা হলে বিআরটিএ অফিস ঘেরাও করা হবে। কিছু শ্রমিক আছেন যারা ঘুষ দিয়ে ড্রাইভিং লাইন্সেস নেন। তা থেকে সরে আসতে হবে। সিলেটের বিভাগের প্রতিটি জেলায় শ্রমিক সমাবেশ করে শ্রমিকদের দাবি আদায় করতে হবে। সারাদেশে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আইন বাতিলে সরকারকে বাধ্য করতে শ্রমিকদের আহবান জানান। সিলেটসহ সারাদেশে অবৈধ সিএনজি আছে সাড়ে ৩ লক্ষ। বিআরটিএর হিসেবে দেশে ৩৭ লাখ গাড়ি সড়কে চলে। শুধু মোটরসাইকেল চলে ২৩ লাখ। বাস্তবে সড়কে গাড়ি চলে প্রায় ১ কোটি।

ট্রাকের সংগঠন করে আবার এজেন্সির ব্যবসা করবেন না উল্লেখ করে ওসমান আলী বলেন, এক সাথে দুই ব্যবসা করবেন না। বাংলাদেশ অনেক জেলায় ট্রাক টার্মিনাল হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যাপ্ত হয় নাই। রোজগার করে যে খাবার খান তা হালাল হবে না। নিয়োগপত্র ৩৬ বছরেও আদায় করা যায়নি।

তা আদায়ের ব্যাপারে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি জাসদ করি। জীবদ্দশায় আমার দল ক্ষমতায় যাবে বলে মনে করিনা। বলেন ওসমান আলী। কে কোন দল করেণ জানিনা। দল মত নির্বিশেষে পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সকলকে পরিবহনের সেক্টরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সরকারকে আহবান জানান পরিবহণ আইন শিথিল করতে। ফাঁসির দঁড়ি গলায় নিয়ে কোন শ্রমিক গাড়ি চালাবেনা।

শ্রমিকদের আট দফা দাবি হলো:
১. সড়ক দুর্ঘটনায় সকল মামলা জামিন যোগ্য করতে হবে।
২. শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লক্ষ টাকা বাতিল করতে হবে।
৩. সড়ক দু্র্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে।
৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম শ্রেণী করতে হবে।
৫. ওয়েস্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল করতে হবে।
৬. সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৭. গাড়ী রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগ পত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. সকল জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপকহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে।

সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু ও সাদিকুর রহমান হিরু। বিভিন্ন উপ-কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ শ্রমিকরা।