মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র: পুলিশ-জনগন মিলেই সমাজে অপরাধ প্রবনতা দুর করতে হবে



আব্দুস সালাম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র বলেছেন, পুলিশ এখন আগের চেয়ে অকে বেশি জনবান্ধব। এক সময় মানুষের মনে পুলিশকে নিয়ে অনেক ভিতু ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে পুলিশ এখন সবচেয়ে বেশি জনবান্ধ। পুলিশের সাথে মানুষের সম্পর্ক এখন গভীর।

পুলিশ শুধু অপরাধ দমন করেনা-মানুষের যে কোন দূর্যোগে পাশে দাঁড়ায়। তাই পুলিশকে নিয়ে ভীতির কোন কারন নেই। পুশিল আমাদের সমাজেরই একটি অংশ। তাই পুলিশ এবং সমাজ সচেতন লোকজন মিলেই সমাজের অপরাধ দুর করতে হবে। তিনি আরো বলেন যেসকল এলাকায় অপরাধ কর্মকান্ড বেশী হয়ে থাকে, সেসব এলাকার কোননা কোন লোক জড়িত থাকেন।

অতএব এলাকার জনগণ সচেতন থাকলেই ওই এলাকার ক্রাইম অনেকটা কমে আসবে। পুলিশ প্রশাসনকে আমরা গণমুখী করে গড়ে তোলার চেষ্ঠা করছি, যাতে করে সাধারণ মানুষ সহযেই পুলিশের সেবা পান এবং পুলিশের কোন সদস্য অপরাধের সাথে জড়িত হলে সেটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনগণ সহযেই জানাতে পারেন। মাদক-জঙ্গিবাদ মুক্ত সমাজ বিনির্মানে সর্বস্তরের জনসাধারণকে প্রতিবাদী হতে হবে এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তির তথ্য পুলিশকে দিয়ে সহযোগীতা করতে হবে।

তিনি আজ শনিবার বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আশুগঞ্জ বাজারে পুলিশ আয়োজিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথাগুলো বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করার লক্ষে পুলিশ সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

মাদকের সাথে কেউ জড়িত থাকলে সেই তথ্য পুলিশকে দেন। মাদকের সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে কোন অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে কেয়ারটেকারের অধিনে থাকা প্রবাসীদের বিশাল অট্টলিকাগুলোতে কোন অপরাধ প্রবনতা চলচ্ছে কিনা না কিংবা সেগুলোতে অবস্থান নিয়ে কোন জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

ওপেন হাউজ ডে’তে দ্রুত সময়ে বিশ্বনাথে সংঘটিত হওয়া একাধিক হত্যাকান্ডের তথ্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ছিনতাইকারী দলের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার, অগ্নিদগ্ধ করে একটি পরিবারকে হত্যা করার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করার জন্য থানা পুলিশকে অভিনন্দন জানান বক্তারা। এসময় উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রী ও নওধার পাড়া গ্রামের আহমদ আলী ওরফে সাবাল শাহর কন্যা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রতি সপ্তাহে তার সৎ ভাই জনৈক সুহেল আহমদের নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন। এতে বাঁধা দেওয়ায় তারা কলেজ ছাত্রীকে মারধর করেছে।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম’র সভাপতিত্বে ও তদন্ত ওসি দুলাল আকন্দের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল হক, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী, রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর, ইউপি মেম্বার জামাল আহমদ, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সারোয়ার হোসেন চেরাগ, হলি চাউল্ড স্কুলের পরিচালক আতিকুর রহমান আতিক, যুগান্তর সাংবাদিক আশিক আলী, দোহাল গ্রামের পীর সিরাজুল ইসলাম, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল হামিদ, আনোয়ার হোসেন সৈকত, গোলচন্দ বাজার সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন ছমির।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জবেদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক বশির আহমদ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সিতার মিয়া, বিশ্বনাথ একাংশের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাধারণ সম্পাদক রোহেল উদ্দিন, সাংবাদিক কামাল মুন্না, নবীন সোহেল, আবদুস সালাম,
সংগঠক ফজল খান প্রমুখ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয়াংশের সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সাংবাদিক এমদাদুর রহমান মিলাদ, মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সদস্য আব্বাস হোসেন ইমরান, পাবেল সামাদ প্রমুখ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যারা অভিযোগ করেছেন তারা হলেন, উপজেলার রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী জিতু মিয়া একই গ্রামের প্রতিবন্ধি লিয়াকত আলী সহ আরা অনেকেই।