মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নির্দিষ্ট সময়ে দাবী পূরণ না হওয়ায় তালা ঝুলছে কমলগঞ্জের ৩টি চা বাগানের প্রধান ফটকে



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: তিন মাস পূর্বে দেওয়া দুই দফা দাবী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ না হওয়ায় মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতিতে নেমেছে তিনটি চা বাগানে ১৪০৭ জন শ্রমিক।

৪ জন শ্রমিক সন্তানকে শিক্ষানবিস হিসাবে কাজ করার সুযোগ দান,দৈনিক হাজিরা প্রাপ্ত মজুর সর্দারকে স্থায়ী নিয়োগদান, ২০১৫-১৬ সালের মাটির দেয়াল নির্মাণের বিল পরিশোধ করা ও চা শ্রমিকদের গ্রেচ্যুয়েটি প্রদান করাসহ আরও দু‘দফাসহ মোট ৪দফা দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ন্যাশনাল টি কোম্পানীর(এনটিসি) মালিকানাধীণ কুরমা, বাঘাছড়া ও কুরুঞ্জী ৩টি চা বাগানের ১৪০৭ জন চা শ্রমিক কাজে যোগদান না করে শনিবার(২০ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে।

কুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশি, বাঘাছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি রাখাল গোয়ালা ও কুরুঞ্জী চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শিমন্ত মুন্ডা জানান, গত ৪ আগস্ট এই তিন বাগানে মাত্র দুটি দাবি নিয়ে চা শ্রমিকরা টানা ৪ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেছিল।

তখন কুরমা চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক তিনটি চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির নেতৃবৃন্দের কাছে আশ্বাস দিয়েছিলেন দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। এই আশ্বাসে কুরমা,বাঘাছড়া ও কুরঞ্জী চা বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে ঐদিন বিকাল থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিল।

কুরমা চা বাগান ব্যবস্থাপকের আশ্বাস প্রদানের প্রায় তিন মাসের মধ্যেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে ৪টি দফা আদায়ের দাবিতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে আবার তিন বাগানের ১৪০৭ জন চা শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে।
তিন চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু সম্পর্কে কুরমা চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক মো: শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী, সহ-সভাপতি গায়ত্রী রানী দাস ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা এই তিন বাগানে অনির্দিষ্টকালে কর্মবিরতির সত্যতা নিশ্চিত করেন। কর্মবিরতির কথা শুনেই তারা কুরমা চা বাগানে এসেছিলেন চা বাগান ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলতে।

কুরমা চা বাগান ব্যবস্থাপক মো.শফিকুর রহমান চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভ্যালি নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলতে চাননি বলে তারা জানান। তবে কুরমা,বাঘাছড়া ও কুরঞ্জী চা বাগানের পঞ্চাযেত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে চা বাগান ব্যবস্থাপক কথা বলতে চাইছেন বলে ভ্যালি কমিটির নেতৃবৃন্দরা জানান।
মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনটি চা বাগানের চা শ্রমিকের কর্মবিরতি পালন সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনা তিনি জানেন না। তাছাড়া কুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপকও তাকে কিছু জানাননি।