বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জৈন্তাপুরে পাখি নিধনের উৎসব বন বিভাগ নিশ্চুপ



মো: সোহাগ আহমদ, জৈন্তাপুর থেকে:: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যের পরিচিতি রয়েছে বিশ্বব্যাপী। খাসিয়া পান-সুপারি, স্বচ্ছ পানি, চা-বাগান, সারী নদীর সৌন্দর্য, তেল-গ্যাস, শ্রীপুর পাথর কোয়ারি, পিকনিক সেন্টার, সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র গুলো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

এ ছাড়া জৈন্তাপুরে রয়েছে প্রাচীন রাজপরিবারের দর্শনীয় স্থান গুলো এবং রয়েছে অনেক বিলও হাওর। সে সব বিলে শীত মওসুমে আগমন ঘটে অতিথি পাখির। ভাদ্র মাস থেকে এখানে শীত মওসুমের পাখির আগমন শুরু হয়। ভোরে ও সোনালী সকালে দেখা মিলে কুয়াশার।

শীত মওসুমকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ তখন মেতে ওঠে অতিথি পাখি নিধনে। শীত শুরুর আগেই জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটের বিভিন্ন হাওর এলাকায় ফাঁদ পেতে মানুষের মধ্যে বন্য প্রাণী ও অতিথি পাখি শিকার উৎসব শুরু হয়। শিকারিরা পাখি শিকার করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে।

সরেজমিন জৈন্তাপুর উপজেলা দরবস্ত বাজার, হরিপুর বাজার, চিকনাগুল বাজার, চতুল বাজার, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায় অতিথি পাখি শিকার করে চোখ বেঁধে বা কানা করে বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জনের সাথে আলাপকালে জানাযায় প্রতিনিয়তই বিভিন্নভাবে তারা ফাঁদ পেতে, কিংবা ছোট মাছের মধ্যে পটাশ মিশিয়ে ঝোপ-জঙ্গলে রেখে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি শিকার করছে।

এলাকাবাসী জানান, শীত মওসুমে যখন জৈন্তার বিভিন্ন বিলে অতিথি পাখির আগমন ঘটে তখন সুযোগ সন্ধানী পাখি শিকারীরা যেন উৎসবে মেতে ওঠে। বিল এলাকায় ঘুরে কয়েক জন পাখি শিকারীর সাথে আলাপকালে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, শহর থেকে শখের নেশায় পাখি শিকার করতে আসেন তারা। শখ বলে কথা। তাই মাঝে মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঝামেলা এড়াতে কোনো না কোনোভাবে লিয়াজোঁ করে পাখি শিকার করি।

এ ছাড়া তারা আরো বলেন, স্থানীয় পাখি শিকারীদের কারণে অনেক সময় তারা পাখি শিকার করতে পারে না। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বিলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিসহ আঞ্চলিক পাখিও পাওয়া যায়। ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত, হরিপুর ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নে রয়েছে বেশ কয়েকটি হাওর।

এগুলোর মধ্যে বেদু হাওর, বড় হাওর, বুজি হাওর, ডেঙ্গার হাওর, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, চাতলারপাড় হাওর, গোয়ালজুরি, পুটিজুরি, বড়জুরি, ফাবিজুরি, গাছজুরি হাওর উল্লেখযোগ্য। শীত শুরুর আগে থেকে এই হাওরগুলোতে আগমন ঘটে বিভিন্ন প্রজাতির

অতিথি পাখির। তার মধ্যে পাতিহাঁস, বালিহাঁস, ডাউক পাখি, সাদাবক ও কানাবকের বেশি আগমন ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিপুর, চিকনাগুল ও দরবস্তের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এলাকায় বিভিন্ন উৎসবে, বিয়ে সাদিতে, এমনকি ছোট খাটো অনুষ্ঠানে পাখি না খাওয়ালে যেন উৎসবের অনন্দের ঘাটতি থেকে যায়। তাই এ অঞ্চলে পাখির চাহিদা একটু বেশি। বাজারে চাহিদা থাকায় শিকারীরা পাখি গুলো বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে এবং চড়া দামে বিক্রির জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শিকারিদের কাছ থেকে অল্প দামে পাখি সংগ্রহ করে এনে বাজারে বিক্রি করে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, সিলেটে শীতকালে মূলত পাখি শিকার হয়। আর এগুলো সিলেট মহানগরী সহ আশপাশের উপজেলার বাজার গুলোতে বিক্রি করা হয়। অনেক সময় প্রশাসনের নাকের ডগাতেই এটা করা হয়। পাখি শিকারের আইন কার্যকর করতে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। যেসব এলাকায় এসব পাখি শিকার করা হয় সেসব এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অতিথি পাখি শিকার বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।