বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লাওসের হারে সেমিতে বাংলাদেশ



সুলতান সুমন:: ম্যাচ জুড়ে ফিলিপ দাপট। মুহ মুহ আক্রমণ। আর বাংলাদেশের সাথে পরাজয়ে পিছিয়ে পড়া লাওস অনেকটা চাপের মুখে ফিলিপাইনের মোকাবেলা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হার মেনে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলটি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো মাঠে নামা ফিলিপাইনের কাছে সহজেই হার মানল লাওস। ফলে সেমিতে খেলা নিশ্চিত হলো বাংলাদেশ। তাছাড়া ফিলিপাইন ও লাওসের খেলার মাধ্যমে শেষ হলো গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচ।

গতকালরে লাওস-ফিলিপদের ম্যাচের দিকে চোখ ছিল বাংলাদেশ শিবিরের। তাদের মনবাসনাও পূর্ণ হয়েছে। যদি পরাজিত হয় বা ম্যাচ ড্র করে তবে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনালে পা রাখবে বাংলাদেশ-এমনটাই ছিল সমীকরণ। অবশেষে সেই সমীকরণই বাস্তবে ধরা দিল বাংলাদেশ শিবিরে। ফিলিপাইনের কাছে ৩-১ গোলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ থেকে খালি হাতে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে লাওস। বিজয়ী ফিলিপাইন বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে গেলো সেমিতে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৫ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা লাওসের র‌্যাঙ্কিং ১৭৯ এবং ফিলিপাইনের র‌্যাঙ্কিং ১১৪।

সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে লাওস। তবে লাওসকে সাহস জোগাচ্ছিল অতীত ইতিহাস। আগের ১১ লড়াইয়ে লাওস জয় পেয়েছিল ছয়টিতে, ফিলিপাইন তিনটি ম্যাচে জয়ী হয়। আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। এগিয়ে থাকার সেই পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করতে পারেনি লাওস। বেডিক জোবিন, গায়োসো জ্যাভিয়ের অগাস্টি আর বাহাদুরান মিসাগের গোলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা। লাওসের জন্য স্বান্তনাসূচক গোলটি করেন ফিটহ্যাক।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য নিয়ে খেলে ফিলিপাইন। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রান্তদিয়ে লাওসের ডিফেন্সের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন ফিলিপাইনের ফরোয়ার্ডরা। গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হচ্ছিল প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ খেলতে আসা ফিলিপাইনরা। খেলা শুরুর ১২, ১৩, ১৪,১৭,২৮ ও ৩৬ মিনিেিট কয়েকটি আক্রমণ চালায় ফিলিপরা। এ আক্রমণগুলোতে সফল না হলেও তাদের অপেক্ষা ফুরায় ম্যাচের ৪৩ মিনিটে।

সে সময় বক্সে বাড়ানো বল ধরে গোলমুখে এগোচ্ছিলেন ফিলিপ ফরোয়ার্ড বেডিক। পা বাড়িয়ে তাকে ফেলে দেন লাওসের কাহার্ন ফেটসিভিলয়। সাথে সাথেই কাহার্নকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে পেনাল্টির সংকেত দেখান রেফারি। লাওসের গোলরক্ষক পাসেউথ নড়াচড়া শুরু করার আগেই জাল খুঁজে নেয় বেডিকের করা শট।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে অ্যাঞ্জেলস জেনভারের দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ফিলিপাইনকে ফের এগিয়ে নেন গায়োসো জ্যাভিয়ের।
৮১ মিনিটে আবারো উল্লাসে মেতে ওঠে ফিলিপাইন শিবির। নিজেদের বক্সে বল লাওসের সুকসান সুকসাভাথের হাতে লাগতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজতে দেরি হয়নি রেফারির। আবারো স্পটকিক থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন ফিলিপ অধিনায়ক বাহাদুরান মিসাগ।
ফিলিপাইনের গোলের সংখ্যা আরো বাড়তে পারতো যদি ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোল লাইনের ঠিক সামনে থেকে বল ফিরিয়ে না দিতেন লাওসের ডিফেন্ডার।

৩৬ মিনিটে বক্সে বল ছুঁয়ে দিতে ব্যর্থ হন বেডিক। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে লাওসের ফিটহ্যাককে বক্সে ফাউল করেন ফিলিপ মিনেগিশি। পেনাল্টি থেকে ফিটহ্যাক নিজেই ব্যবধান কমান। আর লাওসকে একবার ফিলিপাইন গোলরক্ষক ক্যাসাস মাইকেল, দুবার পোস্ট গোলবঞ্চিত করে।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ছানথাফুনের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ক্যাসাস। ৪৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সকচিন্দা নাটফাসুকের হেড ফিলিপাইনের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নামা কিয়েংথাভেসাকের শট ফিলিপাইনের ডান পোস্টে লাগে।
খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে লাওসের প্রধান কোচ মাইক উং মুন হেং বলেন, তার দল ভালো খেলেছে । তবে ফিলিপাইন তাদের চেয়ে বেশ শক্তিশালি ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে এসে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন, ফিলিপাইনের কোচ এন্ড্রেস গঞ্জালেস ও অধিনায়ক বাহাদুরান মিসাগ। তারা বলেন, আজকের(গতকালের) ম্যাচটা তারা দারুণ উপভোগ করেছেন। তাদের ১১ জন ভালই খেলেছে। ফলে খুব সহজেই জয় হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশের সাথে তাদের খেলা নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ভালো দল। আর তারা স্বাগতিক। এখানের আবহাওয়া ,দর্শক, মাঠ সবই তাদের অনুকুলে। তাছাড়া লাওসের সাথে বাংলাদেশের খেলাও তারা দেখেছেন। বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে। সব মিলিয়ে দেখা যাবে বাংলাদেশের সাথে কি করা যায়।
গত সোমবার (১ অক্টোবর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে আয়োজিত পঞ্চম টুর্নামেন্টের বল মাঠে গড়ায় বাংলাদেশ ও লাওস এর খেলার মধ্য দিয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচে লাওসকে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালকে ২-০ গোলে হারায় তাজিকিস্তান। আর আজ ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় খেলায় তাজিকিস্তান ও ফিলিস্তিন দল মুখোমুখি হবে। আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্তগ্রুপ পর্বের ছয়টি খেলা সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।