বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের বিজয় দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসরের উদ্বোধন



সুলতান সুমন:: সিলেট জুড়ে ফুটবল উম্মাদনা। গ্যালারী ভর্তি দর্শক। আর জনজোয়ারের ভালোবাসা। সব মিলিয়ে লাউসকে এক গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার ছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসর ও উদ্বোধনী ম্যাচ।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। তবে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৯ মিনিটের মাথায় বিপলু আহমেদ করা একমাত্র গোল নিয়ে মাঠ ছাড়ে জেমি ডের শীর্ষরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল দুইটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ৫ অক্টোবর ফিলিপাইন বি দলের মুখোমুখি হবে।

ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশ প্রাধান্য নিয়ে খেললেও গোল আদায় করতে পারছিল না কিছুতে। আক্রমণভাগের দুই খেলোয়াড় নাবীব নেওয়াজ জীবন ও মাহবুবুর রহমান সুফিল একের পর এক সহজ সুযোগগুলো নষ্ট করায় হতাশ হয়ে উঠছিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির প্রায় ২৫ হাজার দর্শক।

বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারত ১১ মিনিটেই। ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সালের লম্বা পাস ধরে বাম দিক দিয়ে ঢুকে শট নিয়েছিলেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। বল ক্রসবারে বাতাস দিয়ে বাইরে গেলে রক্ষা পায় লাওস। ২৩ মিনিটে জীবনের ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়িয়েও বল-মাথার সংযোগ ঘটাতে পারেননি রবিউল হাসান। ২৫ মিনিটে বক্সে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শরীরের সব শক্তি প্রয়োগ করে বল বাইরে মারেন মাহবুবুর রহমান সুফিল।

৩৬ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে লাওসের বউনকংয়ের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে লুফে নেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। ৪৭ মিনিটে সুফিল আবার সহজ মিস করেন। বক্সের সামনে থেকে তিনি বল মারেন বাইরে। ৪৯ মিনিটে লাওসের সামনে সুযোগ এসেছিল। ডান দিক দিয়ে দ্রুত গতিতে ঢুকে নাথফাসুক শট নিলে ক্রসবারে বাতাস দিয়ে বাইরে চলে যায়। তবে প্রত্যাশিত গোল আসে ৫৯ মিনিটে।

জীবনের বাঁকানো শট গোলরক্ষক শট ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে শট নেন সুফিল। এবারও লাওসের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। তবে বল পোস্টের সামনেই পড়ে। বিপলুর শটে লাওসের গোলরক্ষকের পায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। কিছুক্ষণের মধ্যে বাংলাদেশ তাদের গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেলেও জীবনের হেড ফিরিয়ে দিয়ে তা হতে দেননি লাওসের গোলরক্ষক। পরে ৬১তম মিনিটে রবিউলকে তুলে জাফর ইকবাল এবং ৭১তম মিনিটে সুফিলকে তুলে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নামান কোচ জেমি ডে।

ম্যাচের বাকিটা সময়ও বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বিপলুকে তুলে নিয়ে মামুনুল ইসলামকে নামান কোচ। যোগ করা সময়ের শুরুতেই লাওসের কর্নার ফিরিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। লাওসের বিপক্ষে এই প্রথম জয় পেলো বাংলাদেশ দল। আগের দুই দেখায় লাওসের জয় ছিল একটি। অন্য ম্যাচটি ড্র হয়েছিলো।

খেলা শেষে দুই দলের কোচ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের লক্ষ ফাইনাল খেলা। তাই বাংলাদেশের সাথের ম্যাচের ভুল গুলো শুধরে আগামী ম্যাচে জয়ের লক্ষ নিয়ে মাঠে নামবে লাউস এমনটিই বলেন তাদের কোচ। আর বাংলাদেশের কোচ তার বর্তমান টিম নিয়ে রয়েছে পুরো আশাবাদী। তিনি জানান, লাউসের সাথে খেলার আগে তিনি দলে যোগ করেন স্টাইকার জীবনকে। আর তার শীর্ষরা অনেক ভালো খেলেছে। ফলে সেমিফাইনালে এই মুহুর্তে তিনি এক পা এগিয়ে রেখেছেন।
অপরদিকে, উদ্বোধনী ম্যাচে একমাত্র গোল দাতা বিপুল আহমদ জানান, তিনি সিলেটের ছেলে। আর এই স্টেডিয়াম থেকেই তার খেলা শিখা। এখানে এসে তিনি গোল করে দেশকে বিজয় এনে দিয়েছেন এটাই তার বড় প্রাপ্য।