বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ইরানী তাঁতী হত্যাকান্ড: বাবলু দাসের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী



সন্দেহজনক আটক ২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে ইরানী তাঁতীর হত্যাকান্ডের ঘটনায় মূল হত্যাকারী বাবলু দাস(২৫) জ্যৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ঘটনার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধী দিয়েছে।

এ ঘটনায় সন্দেহজনক আটক আরও ২ আসামীকে ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার বিকালে মূল হত্যাকারী বাবলু দাসকে মৌলভীবাজারের জ্যৈষ্ঠ বিচারিক আদালতে তুললে একাই হত্যাকন্ড ঘটিয়েছে বলে সে জবানবন্ধী দেয়। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক ধাম জানান, সিলেট থেকে বাবলু দাসকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার সকালে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধলই চা বাগানের ধানি জমির কাঁদার নিচ থেকে পুতে রাখা খন্ডিত মস্তক বের করে দেয়। সে সময় থেকেই বাবলু দাস পুলিশের কাছে স্বীকার করেছিল সে একাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত নয়। শনিবার সকালেই আটক ধলই চা বাগানের বাবুল দাস ও দেওছড়া চা বাগানের বাবুল দাসকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ইউপি সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার বিকালে আসামী বাবলু দাসকে নিয়ে মৌলভীবাজার জ্যৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম শান্তি চন্দ্র দাসের আদালতে গেলে সে ১৬৪ ধরায় জবানবন্ধীতে জানিয়েছে ইরানী তাঁতীর সাথে তার অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কে ইরানী তাঁতী গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে।

এই গর্ভ নষ্ট করার জন্য (বাবলুর) কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে আরও ১০ হাজার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে শুক্রবার(২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ২ জনের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হলে সে (বাবলু) ইরানী তাঁতীর গলা চেপে ধরে। ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে সে মারা যায়। এর পর সে নিজ ঘর থেকে ধারালো দা এনে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে একটু দুরে ধানি জমির কাঁদার নিচে তা পুতে রাখে। উল্লেখ্য শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় ধলই চা বাগানের ১নং প্লান্টেশন এলাকা থেকে মস্তকবিহিন অবস্থায় ইরানী তাঁতী (২৫)-র লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছিল। সে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের দেব তাঁতী ও সেতু তাঁতীর মেয়ে।