বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে র‌্যালি 



ডেস্ক নিউজ:: মুক্ত সমাজের জন্য উত্তম আইন : টেকসই উন্নয়নে তথ্যে অভিগমন’ এ শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে ‘তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্য প্রদানে প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বশীল ভূমিকা’ – সিলেটে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে র‌্যালি পূর্ব আলোচনা সভায় এ বক্তব্য উঠে আসে।

আজ রোববার দিবসটি উদযাপনে জেলা প্রশাসন, সিলেট, টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেট এবং আইডিয়া, সিলেট এর যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সনাক সভাপতি আজিজ আহমেদ সেলিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি ) আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম , বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সন্দ্বীপ কুমার সিংহ।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয় । র‌্যালি পূর্ব আলোচনা সভায় সনাক সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ ইরফানুজ্জামান চৌধুরী তথ্য অধিকার আইন কার্যকর বাস্তবায়নে টিআইবি’র দাবীসমূহ উপস্থাপন করেন:

১. তথ্য অধিকার আইনে ব্যবসা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২. তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে; যেমন – ব্যতিক্রম বলে চিহ্নিত সবগুলো ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনার বিধান যোগ করতে হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
৩. সুুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তথ্য অধিকার আইনে অনুরোধকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের বিবরণ প্রদানের বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে অনুরোধকারী ব্যক্তি প্রদত্ত নির্দিষ্ট যে কোন ঠিকানায় তথ্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিতে হবে।
৪. তথ্য অধিকার আইনে অনুরোধকারীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিধান করতে হবে।
৫. তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থ’ী বিদ্যমান আইনসমূহ সংস্কার বা কোন কোন ক্ষেত্রে বাতিল করতে হবে, যেমন: সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ৩২ ধারাসহ বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী অন্যান্য ধারা বাতিল করতে হবে।
৬. কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তির সঠিক আবেদন তৈরিতে সহায়তার জন্য সরকার কর্তৃক জনসাধারণের জন্য ‘তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক’ বা অনলাইন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
৭. সকল কর্তৃপক্ষকে আইনের ধারা ৫ ও সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা, ২০১০ অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণ এবং স্ব-উদ্যোগে তথ্য প্রকাশের নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। তথ্য সংরক্ষণের সহায়ক হিসেবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত আবেদনপত্রও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
৮. তথ্য প্রদানে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য প্রদানে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জনে বিভিন্ন কারিগরী ও অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
৯. তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও আইন বাস্তবায়নের গতি, তথ্য প্রদানে কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও সংগতি পর্যবেক্ষণে তথ্য কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। মনিটরিং কার্যক্রমে সুশীল সমাজ ও জনগণেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
১০. তথ্য কমিশনের নেতৃত্বে সবার সক্রিয় সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন মেয়াদে পর্যায়ক্রমে কৌশলগত কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নে বার্ষিক জাতীয় বাজেটে অর্থ-বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে সরকারি উন্নয়ন কর্মকা- সম্পর্কিত বিশদ তথ্য জনগণকে জানানোর মধ্য দিয়ে দুর্নীতি হ্রাস করা সম্ভব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথ্য জানানো ও তথ্য জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশ করার বিধান রয়েছে আবার কিছু তথ্য আছে যা জানার জন্য আবেদন করতে হয়। তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে কিভাবে তথ্যের জন্য আবেদন করতে হয় এটি জনগণকে জানতে হবে; পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে এ আইন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।