বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

একজন শেখ হাসিনা এবং আজকের বাংলাদেশ…এড. শাকী শাহ ফরিদী



সময়টা আমার বাল্যকাল, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে যখন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে টেলিভিশনে দেখতাম বিদেশের কোনো অনুষ্ঠানে বা চ্যানেলে ইংরেজিতে কথা বলছেন, তখন ভাবতাম- চলে তবে ভদ্রমহিলা স্মার্ট ইংলিশ বলতে পারেননা। না বুঝে তুলনাটা করতাম প্রিন্সেস ডায়নার কথা বলার সাথে, তাই প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশী।

দেশের প্রাচীনতম এবং সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-এর দলীয় প্রধান হিসেবে, তার চেয়েও বড় কথা একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন দেশের বাইরে যাবেন, ইংরেজি বলবেন, বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন, সেটি আরো বেশি স্মার্ট হওয়া দরকার।

ঠিক কিছুদিন পর ভাবনায় এলো, আমার মা-খালা-চাচীদের বয়স ঠিক উনার বয়সের সমান বা কিঞ্চিৎ এদিক-ওদিক এবং উনারা ইংরেজিতো দূরের কথা শুদ্ধ বাংলাও ঠিকঠাক বলতে পারেননা; বড় বড় ডিগ্রীধারীরাও পারেন না। নাবালক মনের অবুঝ ধারনাও সহসাই বদলে গেল, ভাবতে লাগলাম উনি যে স্বতঃস্ফূর্ত ইংরেজি বলেন, সেটা কয়জন পারে? সময়ের তুলনায় তাই শেখ হাসিনাকে তখন অনেক বেশি স্মার্ট-ই মনে হলো।

তারপর দেখা শুরু অন্য এক শেখ হাসিনাকে, যিনি পিছিয়ে পড়া এই দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ এক আধুনিক বাংলাদেশ বানানোর স্বপ্ন দেখেন, সেইমত কাজ করেন। তখনো তৃতীয় বিশ্বের এক দরিদ্র দেশ বলেই বাংলাদেশের পরিচয় যেখানে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে বিশাল সংখ্যক মানুষ। বঙ্গবন্ধুর কন্ঠের প্রতি দুর্বলতা আমার খুব বেশী, সেই হিসেবেই বঙ্গবন্ধুপ্রেমী মানুষ আমি ছোটবেলা থেকেই। তবুও একজন শেখ হাসিনার মুখনিঃসৃত স্বপ্নের স্বদেশ গড়ার বাণীগুলো ‘কথার কথা’ বা ‘ছেড়া কাথায় শোয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা’ কিংবা ‘নিতান্তই রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে মনে হত।

কালের পরিক্রমায় এখন ২০১৮ সাল, উন্নয়নশীল দেশ হবার প্রাথমিক ধাপে উন্নীত নতুন এক বাংলাদেশ। আমার শৈশব-কৈশোরের অবুঝ-অচেতন মনের অগোছালো-অবান্তর চিন্তাধারাকে ভূল বলে প্রমাণ করে দিলেন একজন শেখ হাসিনা। কোথায় ছিল আমার শৈশবের দেখা বাংলাদেশ আর আজ কোথায় আমার যৌবনের বাংলাদেশ।

এখন মনে হয়, আমার বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পাল্লা দিয়েই যেন বেড়ে উঠেছে আমার প্রাণের বাংলাদেশ। বেড়ে ওঠা, বড় হওয়া, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো- এ এক ভিন্ন বাংলাদেশ। কোথা হতে কোথায় এসেছি আমরা, তা সবার বোধগম্য, আরো সুন্দর ভবিষ্যৎ যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের, তাও আমাদের সবার জানা। আর যারা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন বা ঘুমের ভান করে আছেন, তাদের জাগানোর পণ্ডশ্রম না হয় নাইবা করলাম।

একবার ভাবুন, এইটুকু পথ আসার পেছনে যে বা যারা সবচেয়ে বেশী সাহসী ভূমিকা রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন, যারা সময়ের সাথে যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে বিগত দিনগুলোতে কাজ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন দিবারাত্র, বলার অপেক্ষা রাখেনা জননেত্রী শেখ হাসিনার নাম-ই সেই তালিকায় সবার উপরে থাকবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনার নিরলস কাজের মাধ্যমে এদেশের আপামর জনতার আস্থা, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের জায়গাটা দখল করে নিয়েছেন নীরবে। নেতৃত্বগুণ, বিচক্ষণতা, সময়োপযোগী সাহসী আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারার ক্ষমতা, কঠোর পরিশ্রম, স্বপ্ন দেখা আর তার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করা- ইত্যাদি গুণগুলো কালের বিবেচনায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

ছোটবেলা দেখতাম বড় বড় তারকা প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্বনেতাদের সাথে পরিচিত হবার আর বাংলাদেশ সফর করার আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে সুযোগ খোজতেন আমাদের শীর্ষস্থানীয়রা আর বদনাম ছিল আমরা সুযোগ পেলেই বিদেশী সাহায্যের জন্যে হাত পাতি। আর আজ? অনেক বিশ্বনেতাকেই দেখি শতশত তারকা নেতাদের ভীড়েও খোজে বের করে হাত মেলান আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীও আহ্বান জানান- সাহায্য নয় আসুন বিনিয়োগ করুন আমাদের দেশে, বড় গলায় বলতে পারেন আমার দেশের ষোল কোটি মানুষ দুবেলা দুমুঠো খেতে পারলে ইনশাআল্লাহ আশ্রিত দশ লক্ষ রোহিঙ্গাদেরও আমরা খাওয়াতে পারব ভালোমতই। তাই বলি, বটবৃক্ষ হয়ে একজন শেখ হাসিনা আগলে রেখেছেন প্রিয় এই দেশটাকে, হাজারো শকুনের ভয়াল থাবা থেকে।

হ্যাঁ উন্নয়ন উনি একা করেননি, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, প্রায় সকল সরকারের আমলেই কম অথবা বেশী উন্নয়ন হয়ে থাকে, সেটাই সিস্টেম। এ দেশকে এগিয়ে নেয়ার পথে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় ভুমিকা আছে বিগত অনেক সরকারের-ই।

তবে নুয়ে পড়া- মাঝ দরিয়ায় আটকে পড়া নৌকার আশাহত যাত্রীদেরকে তীরে টেনে তুলার গুরু দায়িত্ব কাধে নিয়ে, জাতিকে কোমর শক্ত আর মাথা উঁচু করে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়ে আর তার যথাসাধ্য বাস্তবায়নে একজন শেখ হাসিনাই যে স্বদেশ-নৌকার যোগ্যতম মাঝি হিসেবে সর্বাধিক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন, এটি বুঝতে আহামরি কোনো পান্ডিত্যের প্রয়োজন নেই; হিতাহিত জ্ঞান-ই যথেষ্ট। যারা বুঝেন এইটুকু, সাধুবাদ আপনাদের।

দাত থাকতে দাতের মর্যাদা না বুঝার বদনাম আমাদের পুরনো- অধম আমরা, হয়তো যেদিন শেখ হাসিনা থাকবেননা, সেদিন অনুভব করব এই দেশের জন্যে একজন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কতটুকু প্রয়োজন ছিল। বদনাম ঘুচানোর পালা এবার, চলুন সমস্বরে আওয়াজ তুলি- যতদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবেনা বাংলাদেশ।

শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা। শতায়ু হউন, সুস্থ্য থাকুন, বেচে থাকুন প্রিয় এই দেশটাকে আরো খানিকটা এগিয়ে দিয়ে যাওয়ার জন্যে। আমরা বড় হচ্ছি- আপনি বৃদ্ধ হচ্ছেন, আপনি কর্মঠ- আপনি বেচে থাকুন কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়। আরো কিছূটা উন্নয়ন দিয়ে যান আমাদের, বাকীটা আমরা সামলে নেব, আমরাই বাংলাদেশ। চলো বাংলাদেশ…

—-এডভোকেট শাকী শাহ ফরিদী
সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সিলেট জেলা।