বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ: কমলগঞ্জে মস্তকবিহীন লাশের পরিচয় মিললো ছয় দিন পর,ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগান এলাকা থেকে গত শনিবার দুপুরে মস্তকবিহীন এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ৭ জনকে আটক করলেও একজনে সন্দেহ জনক জবানবন্দী দিলে পুলিশ তাকে মৌলভীবাজার কারাগারে প্রেরন করে বাকী ছয়জন কে চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

গত শনিবার দুপুরে ধলই চা বাগানের ১নং সেকশনে (প্লান্টেশন এলাকা) নারী চা শ্রমিকরা চা পাতা উত্তোলন করতে গিয়ে মস্তকবিহিন অজ্ঞাত এক মহিলার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাটি বাগান কর্তৃপক্ষকে জানালে, বাগান কর্তৃপক্ষকে পুলিশকে খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ আরো জানায় তথ্য অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে গত (২৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল কালিঘাট চা বাগানে চা শ্রমিক দেব তাতি বাড়ীতে গেলে তাদের মেয়ে ইরানী তাতি কোথায় জানতে চাইলে তার পরিবার জানায়, তাদের মেয়ে ফুলছড়া চা বাগাণ মন্দিরে রয়েছে,মস্তক বিহিন লাশের ছবি দেখালে এটা ইরানীর লাশ হিসাবে সনাক্ত করতে পারেনি।পরে ফুলছড়া মন্দির কমিটির নিকট থেকে জানা যায় গত বুধবার ইরানী মন্দিরের দায়িত্ব কমিটির কাছে হস্তান্তর করে চলে যায়। কিন্তু কোথায় গেছে তা ওরা জানে না।

এদিকে আটকদের পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে ইরানী গত বৃহস্পতিবার সকালে ধলাই চা বাগানে রামচন্দ্র পাশীর বাড়ীতে এসেছিলো, গোসল সেরে দুপুরে ইরানী ভিক্ষার উদ্দেশ্যে তাদের বাড়ী থেকে বেড় হয়ে আর ফিরে আসেনি। পুলিশ সন্দেহজনক ভাবে ধলাই চা বাগান থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধলাই চা বাগানের হাসান আলী (৩৫), প্রেমা সাধু (৫০), উত্তম সাধু (৩৫), দয়াল সাধু (৪৫), রাম চন্দ্র পাশী (৫০) ও রতন পাশী (৩৫) এ ৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দয়াল সাধু ব্যতিত বাকি ছয় জনের কাছে কোন তথ্য না পাওয়ায় তাদের কে চেয়াম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। আর দয়াল সাধুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।
অজ্ঞাত লাশের বিষয় নিয়ে বাগানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ছয় দিনের মাথায় কে কাহারা ইরানী তাতী রাধার ব্যবহৃত জিনিষ পত্র কাপড় ছোপর রাতের আধারে যে জায়গায় লাশ টি পাওয়া গিয়ে ছিলো তার উল্টো সাইডে চা বাগানের সেকশনের মধ্যে ফেলে যায়, নারী চা শ্রমিকরা গত বুধবার কাপড় দিয়ে মোড়ানো একটি গাইট দেখে বিষয় সরদার কে জানালে, সরদার ঘটনাটি বাগান ব্যবস্হাপক কে, তিনি পুলিশ কে খবর দিলে মামলাটির আয়ো কমলগঞ্জ থানার এসআই চম্পক ধাম ও এএসআই আনিছুর রহমান ঘটনাস্হলে এসে জন সম্মুখে কাপড় দিয়ে মোড়ানো গাইটটি খুললে ইরানীর ছবি সহ তার ব্যবহৃত জিনিষ পত্র বেশ কয়েকটি মোবাইল নং পাওয়া যায়।
এদিকে প্রেমা সাধু ও রাম চন্দ্রের স্ত্রী ছবির মানুষটি ইরানী ও যে কাপড় পাওয়া গেছে এগুলো ইরানীর বলে সনাক্ত করেন।পুলিশ একের পর এক ক্লু উৎঘাটন করতে পারলেও মূল ঘাতকরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
মামলাটি আয়ো কমলগঞ্জ থানার এসআই চম্পক ধাম জানান,আমরা মামলাটির নিকটে পৌছে গেছি, দু একদিনের মধ্যেই মূল আসামীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।