বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চুনারুঘাটে বালি উত্তোলন নিয়ে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ



চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি::  হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের সুতাং নদীর বালু উত্তোলন ও রাস্তা দিয়ে পরিবহন নিয়ে গ্রামবাসী প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ২৫’শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মহরম আলী।

এতে দেওরগাছ গ্রামে বিশিষ্ট মুরববী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন চুনারুঘাট রিপোর্টার্স ইউনিটির সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিতু মিয়া, সহ সভাপতি আশ্রাব আলী হাবিলদার, বাজার কমিটির সভাপতি রজব আলী, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইয়াকুত মিয়া, ইউপি সদস্য রজব আলী, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল মতিন, রুমন ফরাজী, আফজাল মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মানিক মিয়াসহ গ্রামের যুবকরা বক্তব্য রাখেন।

আজ ২৬’শে সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে গ্রামবাসী দক্ষিন দেওরগাছ সুতাং নদী রাস্তা দিয়ে আর বালু পরিবহন করতে দিবেনা। একই সাথে নদী থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনও করতে দিবেনা বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। প্রয়োজনে রক্ত দিব রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বালু পরিবহন করতে দিবেনা বলে গ্রামবাসী সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন রাস্তাঘাট ধ্বংস করে বালি পরিবহন এবং অবৈধ ভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা আজ ২৬’শে সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ করে দিবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ইকবাল ও অফিসার ইনচার্জ কে এম আজমিরুজ্জামান। তারা সাংবাদিকদের একথা জানিয়ে বলেন, সুতাং নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে আমরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্ত জিতু মিয়া পুনরায় রাস্তা দিয়ে বালু পরিবহন চালু করায় তার বিরোদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এছাড়া খনিজ উন্নয়ন ব্যুরো সুতাং নদী থেকে বালূ উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

উপজেলা প্রশাসনের কোন ভুমিকা নেই জানিয়ে উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সিলিকা বালি হওয়ার কারণে আমাদের হাতে লীজ নেই। খনিজ উন্নয়ন বুরো থেকে লীজ দেওয়া হয়। তারপর আমরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যেমে জরিমানা ও মেশিন পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন দক্ষিন দেওরগাছ গ্রামের আমতলী থেকে সুতাং নদীর রাস্তা বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করে দিলেও বালু খেকোরা ৪দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বালু পরিবহন শুরু করেছে। এনিয়ে গ্রামবাসী দুদফা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এ অবস্থায় গ্রামবাসী থানায় জিডি করেছে। এদিকে আজ ২৬’শে সেপ্টেম্বর বুধবার পুনরায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছে।
উপজেলার দক্ষিন দেওরগাছ গ্রামে বালু খেকো জিতু মিয়া সুতাং নদী থেকে বালু উত্তোলন করে দক্ষিন দেওগাছ- আমতলী রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালূ পরিবহনের কারনে রাস্তা একেবারে ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে উক্ত রাস্তা দিয়ে মানুষজন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনা এ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় দেওরগাছ গ্রামের জনৈক গিয়াস উদ্দিন, হারুন মিয়া ও ছাত্রলীগ নেতা মানিক মিয়ার নেতৃত্বে এ বিষয়ে জেলা প্রশাাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওযার পর উপজেলা প্রশাসন গত ১৬ সেপ্টেম্বর উক্ত রাস্তা দিয়ে বালু পরিবহন বন্ধ করে দেন। ৪দিন বন্ধ থাকার পর জিতু মিয়া পুনরায় বালু উত্তোলন ও উক্ত রাস্তা দিয়ে পরিবহন শুরু করেন। একই সাথে জিতু মিয়া তার বাহিনী দিয়ে হারুন মিয়া, মানিক মিয়াসহ গ্রামবাসীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এঅবস্থায় হারুন মিয়া চুনারুঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। এনিয়ে গ্রামবাসী গত ২৫’শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।