বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন তেরা মিয়া



স্টাফ রিপোর্ট:: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের ছালিয়া কলারতল গ্রামের তেরা মিয়া নিজেদের বাঁচাতেই ইউপি সদস্যসহ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন বলে দাবি করেছেন ছালিয়ার ছৈদুর রহমানের ছেলে জাকির হোসেন। আজসোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে জাকির হোসেন উল্লেখ করেন, এসএ রেকর্ড অনুযায়ী ছালিয়া মৌজার ৬৭৯/৬৮২/৬৭৮ নং দাগে মোট ১৬২ শতক জায়গা রয়েছে। ৫ জন এসএ রেকর্ডীয় মালিকের মধ্যে তেরা মিয়ার দাদা আহমদ উল্লাহ মাত্র ৩২ শতক ৪০ পয়েন্টের মালিক ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে সইফুল্লাহ ও দুই মেয়ে তসলিমা ও মলিকা উত্তরাধিকারী সূত্রে মালিক হন। ২০০৭ সালে আহমদ উল্লাহর মেয়ে তসলিমা মারা যাওয়ার পর তার দুই মেয়ে সুরেজা ও নুরেজার কাছ থেকে স্থানীয় এমাল হুসেন ৮ শতক জায়গা কিনেন। পরবর্তীতে তিনি (জাকির হোসেন) ও তার ভাইরা এমালের কাছ থেকে ওই ৮ শতক জায়গা ক্রয় করে। যার দলিল নং-১৩৯১০/০৯। এর আগে আহমদ উল্লাহর অপর মেয়ে মলিকা বিবির কাছ থেকে ২০০৭ সালে তারা আরও ৮শতক জায়গা ক্রয় করেন। যার দলিল নং-৭৪৫৫/০৭। এছাড়া এসএ রেকর্ডীয় আরেক মালিক নৈম উল্লাহ মারা যাওয়ার পর তার উত্তরাধীকারী চুনু মিয়া গংদের কাছ থেকে ৩২ শতক ৫০ পয়েন্ট জায়গা ক্রয় করে তারা। যার দলিল নং-৪৭৪১/০৮। সব মিলিয়ে মোট ৪৮ শতক ৫০ পয়েন্ট জায়গার মালিক হিসেবে তারা ১০ বছর ধরে ভোগদল করে আসছেন। জায়গা ক্রয় করার পর সেই জায়গায় মাঠি ভরাটসহ সীমনা পিলার স্থাপন এবং দোকানকোটা নির্মাণকালে তেরা মিয়ার পরিবার কোনো বাধা দেয়নি। তার ভাইরা বিদেশ চলে যাওয়ায় পর বছর খানেক ধরে তারা নানা উৎপাত শুরু করে। একাধিকবার স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি শালিস আহবান করলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ডাকেও না। গত ১১ এপ্রিল এলাকার মুরবিবয়ান বসে শালিস করে সীদ্ধান্ত দেন যে, তেরা মিয়া ও তাহির আলী গংরা আইন কানুন মানেন না এবং তারা অসৎ চরিত্রের লোক। তারা গায়ের জোরে চলে। এতে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন দিলুসহ এলাকার ৪৮ জন মুরব্বি বা শালিসান সাক্ষর করেন। তারা শালিসনামায় আমাকে আইনের আশ্রয় নিতেও পরমর্শ দেন। এসব কারণে তারা ক্ষুব্দ হয়ে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন দিলুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ তুলে। মূলত কেউ তাদের মামলা দিয়ে হয়রানী কিংবা নির্যাতন করেনি। উল্টো তারাই নানাভাবে আমার জায়গা দখলের চেষ্টাসহ নানা অপকর্ম করে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে তাদের কোনো জায়গা নেই দাবি করে জাকির হোসেন বলেন, তাদের যন্ত্রনায় এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। অন্যায়ভাবে জায়গা দখলে রাখতে তারা প্রায়ই দা লাঠি নিয়ে বের হয়। তেরা মিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাকির হোসেন প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাজি মুজিবুর রহমান, ওয়ার্ড সভাপতি দুদু মিয়া, পঞ্চায়েত ও এলাকার পক্ষে হাফিজ হুসেন আহমদ, কুতুব উদ্দিন, হরফ উদ্দিন, রুবেল আহমদ, রিপন আহমদ, আলমগীর হোসেন, জাকির হোসেন, হাফিজ ছালিক আহমদ, লায়েক আহমদ প্রমুখ।

UA-126402543-3