বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেট-১: শেষবেলায় আ’লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন না কামরান



ডেস্ক নিউজ:: নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আর মাত্র তিন মাস পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে এখনও। এ আসনের বর্তমান এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় অনেকদিন ধরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে অনেকেরই নাম। তবে মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে প্রার্থী নির্বাচনে চমক থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

শেষবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের নাম চমক হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বেশ কয়েক বছর ধরে  আলোচনায় থাকলেও নির্বাচনের ব্যাপারে সরাসরি কখনও আগ্রহ দেখাননি তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে এ যাত্রায় নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রথমবারের মতো সমকালের কাছে এ কথা স্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, সিলেট আওয়ামী লীগের অনেকে যোগাযোগ করছেন তার সঙ্গে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সিলেট-১ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর দল সরকার গঠন করে আসার মিথ চলে আসছে। আধ্যাত্মিক নগরীর এই আসনে প্রার্থী নির্বাচনে তাই সবসময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে বড় দলগুলো। বড় দল থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরে বরাবর হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন এ আসনে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অধিকাংশ সময় এই আসনের বিজয়ী প্রার্থী জাতীয় সংসদের স্পিকার, অর্থ, পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০০৮ ও ২০১৪ সালে টানা দু’বার সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এই আসনের বর্তমান এমপি আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত কয়েক বছর ধরে দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর অবশেষে তিনি শারীরিক কারণে আগামীতে আর নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে নিজের ছোটভাই ড. এ কে আবদুল মোমেনের কথা বলেছেন তিনি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন অনেকদিন ধরে তৎপর রয়েছেন মাঠে।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. মোমেন সরাসরি নিজের প্রার্থিতার কথা প্রকাশ না করলেও কৌশলী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় ‘দেশে বড় দায়িত্ব’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন তাকে। এ ছাড়া নগরীর কাজীটুলার বাসিন্দা সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন এক-এগারোর সময়কার এই নির্বাচন কমিশনার। সাম্প্রতিক সময়ে ছহুল হোসাইন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এই দু’জনের আগেই সিলেট-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসেন ড. ফরাসউদ্দিন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসে তার নাম। কিন্তু সেবার বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নির্বাচন করায় বেশিদূর যায়নিসেই আলোচনা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ১৯৯৮ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন ড. ফরাসউদ্দিন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান তিনি। বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট। ‘মাধবপুরের মানুষ’ হিসেবে তিনি হবিগঞ্জের যে কোনো আসনে নির্বাচন করবেন বলে কেউ কেউ দাবি করেন। তবে ড. ফরাসউদ্দিন এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, মাধবপুরের সন্তান হলেও আমার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনের প্রায় পুরোটা কেটেছে সিলেটে। ওখানেই পড়াশোনা করেছি। তখন মাধবপুর বৃহত্তর সিলেট জেলার অধীন ছিল। সবমিলে সিলেটকে নিজের শহর বলেই মনে করি। তাই সিলেট-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তবে সবকিছু নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনি বিচার-বিবেচনা করছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা চাইলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব।

মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ‘গুড চ্যালেঞ্জ’ আখ্যায়িত করে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, সম্ভাব্য আর যারা আলোচনায় আছেন তারাও ভালো। সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষ আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা সবাই ভালো মানুষ। তাদের কারও ব্যাপারে নেতিবাচক কিছু বলার অবকাশ নেই। সাবেক তিন আমলার পাশাপাশি এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এ ছাড়া সিলেটের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নাম আলোচনায় থাকলেও সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি আর কোনো নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই আসনে দলের প্রার্থী প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেবেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে নামবেন তার পক্ষেই।

UA-126402543-3