বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ : ৬ দিনপর রংপুর থেকে উদ্ধার



সুলতান সুমন:: সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া থেকে ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৩) অপহরণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে পীরমহল্লা গৌছ উদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঐ ছাত্রীকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অপহরণ করা হয়।

অপহরণ ও ধর্ষণের ৬ দিনপর তাকে রংপুর জেলা থেকে উদ্ধার করেছে এসএমপি’র বিমানবন্দর খানা পুলিশ। ধর্ষণের শিকার শিশূটি বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর সুবিধবাজার বনকলাপাড়ার বাসিন্দা ও পীরমহল্লা গৌছ উদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। এ সময় তার মা মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ছিলেন। পরবর্তীতে তার মা বাদী হয়ে এসএমপি’র বিমানবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে নাবালিকা। সে ৪র্থ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। তার মেয়ে স্কুলে যাওয়া আসার সময় দুই মাস থেকে প্রায়ই ইভটিজিং এর শিকার হত।

এ বিষয়ে তিনি ঐ এলাকার বিশিষ্টজনদের কাছে নালিশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুবিদবাজার বনকলাপাড়া নুরাণী ১০৫/৭/১ আব্দুল্লা মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা খোকন মিয়ার ছেলে মো. লিমন ইংলিশ (২০), তার বড় ভাই ইমন (২৩) ও ঐ এলাকার বাবু (১৯) সহ আরো ৪ থেকে ৫ জন তার বাসার সামনে এসে তার মেয়েকে নাম ধরে প্রতিদিন ডাকাডাকি করে ও বাসার সামনে জোর করে গান করে। এতেও তিনি বাধা দিতেন।

ফলে ওরাই ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনির অবর্তমানে ঘরে থাকা তার ছোট মেয়েকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে বড় মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন । তার দুই মেয়ে ঘরে ছিলো। আর তার স্বামী ছেলেকে নিয়ে সদাই করতে বাজারে যান। পরে তিনি বাসায় গেলে তার ছোট মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শুণেন ও স্থানিয়দের জানান এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে নগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গৌসুল হোসেন জানান, তিনি অভিযোগ পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালান। পরবর্তীতে সোর্সের মাধ্যমে ও প্রযুক্তির সাহায্যে জানতে পারেন অপহৃত শিশুটি রংপুরে রয়েছে। তাই রংপুর অভিযান চালিয়ে শিশূটিকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, চিকিৎসার জন্য মেয়েটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপহরনকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।