বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে অতিরিক্ত চা পাতা উত্তোলনে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ৪চা বাগানে কর্মবিরতি পালন



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: নিরিকের(পরিমাণের) অতিরিক্ত চা পাতা উত্তোলনে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ন্যাশনাল টি কোম্পানী(এনটিসি)-ও মালিকানাধীণ ৪টি চা বাগানে বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন সহস্রাধিক চা শ্রমকি কর্মবিরতি পালন করে। পাত্রখোলা, কুরমা ও কুরমা চা বাগানের অধীনে দুটি ফাঁড়ি চা বাগানে এক যোগে এ কর্মবিরতি পালন করে চা শ্রমিকরা।

পাত্রখোলা ও কুরমা চা বাগান সূত্রে জানা যায়, একজন নারী শ্রমিকের প্রতিদিন নির্ধারিত ২৩ কেজি করে কাঁচা চা পাতা উত্তোলন করতে হয়। দৈনিক ২৩ কেজির অতিরিক্ত চা পাতা উত্তোলনে কেজি প্রতি শ্রমিকদের অতিরিক্ত ৩ টাকা হারে মজুরি প্রদান করা হয়। এখন থেকে অতিরিক্ত চা পাতা উত্তোলনে কেজি প্রতি ৪ টাকা হারে বাড়তি মজুরি দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পাত্রখোলা, কুরমা কুরমা চা বাগানের ফাঁড়ি বাঘাছড়া ও কুরঞ্জি চা বাগানে একযোগে ৩ সহস্রাধিক চা শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করে। এর মাঝে পাত্রখোলা চা বাগানে ১৮৭০ জন চা শ্রমিক,কুরমা চা বাগানে ৮৫৭ জন,বাঘাছড়া চা বাগানে ৩৩২ জন ও কুরুঞ্জি চা বাগানে ২৩০ জন চা শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করে।

বৃহস্পতিবার সকালে উল্লেখিত ৪টি চা বাগানের নারী চা শ্রমিকরা চা পাতা উত্তোলনে না গিয়ে বাগান অফিসের প্রধান ফটক এলাকা অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে। পাত্রখোলা চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তী কুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশী জানান, এ অঞ্চলে একজন নারী চা শ্রমিককে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৩ কেজি কাঁচা চা পাতা উত্তোলন করতে হয়। এজন্য তাদের দৈনিক মজুরি হচ্ছে ১০২ টাকা। আর ২৩ কেজির অতিরিক্ত চা প্রতি কেজি চা পাতার জন্য অতিরিক্ত ৩টা করে মজুরি পাচ্ছেন।

এখন নারী চা শ্রমিকরা অতিরিক্ত প্রতি কেজি চা পাতার জন্য মজুরি দাবি করছেন ৪টাকা করে। এ দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পাত্রখোলা চা বাগানের ১৮০০ চা শ্রমিক বাগান অফিসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন। একই সাথে কুরমা চা বাগানের ৮৫৭ জন, বাঘাছড়া চা বাগানের ৩৩২ জন ও কুরুঞ্জি চা বাগানের ২৩০ জন শ্রমিক বাগান অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে চা বাগানের ব্যবস্থাপক আপাতত বাড়টি প্রতি কেজি চা পাতা উত্তোলনে ৩টা ৯০ পয়সা করে প্রদান করার আশ্বাস প্রদান করলে দুপুর ১২টা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়।

চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি সম্পর্কে জানার চেষ্টায় দফায় দফায় ফোন করেও পাত্রখোলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান ও কুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম ফোন ধরেননি। তবে পাত্রখোলা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তী ও কুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশী বলেন কর্মবিরতি চলাকালে চা বাগান ব্যবস্থাপকরা এখন থেকে অতিরিক্ত উত্তোরিত প্রতি কেজি চা পাতার জন্য আরও ৯০ পয়সা বৃদ্ধি করে ৩ টাকা ৯০ পয়সা প্রদানের সিদ্ধান্ত দেন। তাই দুপুর ১২টা থেকে চা শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির(অঞ্চলের) সভাপতি ধনা বাউরী ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা ৪টি চা বাগানের ৩২৮৯ জন চা শ্রমিকের কর্মবিরতি পালনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

UA-126402543-3