বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নগরীতে তীর আর জুয়ার মদদদাতা এসআই শাহীন



ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটে ফের জমজমাট হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর তীর নামক জুয়া খেলা। এর আগে তীর খেলার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে গিয়েছিল মহানগর পুলিশ। এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশের ব্লকরেইডও চলেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে সিলেটে কম করে হলেও অর্ধশতাধিক জুয়ার আসর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তবুও থামছেনা তীর খেলা। নগরীর অলিতে গলিতে জমে উঠছে তীর নামক জুয়া খেলা।

ফাঁড়ি ও গোয়েন্দা পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কারণে তীর খেলা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সিলেটে। নগরীর এমন কোনো এলাকা নেই যে, যেখানে শিলংয়ের তীর খেলা হচ্ছে না। আর এসব আসরে কিছু কিছু পুলিশ সদস্যর অবাধে যাতায়াত রয়েছে। ‘তীর খেলা’ লটারি খেলা। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রচলন রয়েছে এ খেলার। কয়েক বছর ধরে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তীর খেলা শুরু হয়। তবে বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যক্তিদের কারনে তীর খেলা ছড়িয়ে পড়েছে নগরীর আনাচে কানাচে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর যেসকল তীর খেলা জমে উঠে এসব স্পটের নেতৃত্ব দিচ্ছে তালতলা পয়েন্টের আনা ম্যানশনের ২য় তলায় অবস্থিত কিছু তীরবাজরা। এখান থেকে বোর্ড বসিয়ে তীর খেলা জমানো হয়। নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে, মোড়ে তাদের এজেন্টরা রয়েছে। এদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। তালতলায় তীর খেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন লামাবাজার ফাঁড়ির এসআই মো. শাহিন মিয়া। তিনি নিজেও তীর খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও এসআই শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লামাবাজার ফাঁড়ি এলাকা জুয়ারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বেপরোয়া জুয়ারীদের সাথে আতাঁত রয়েছে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহীন মিয়ার। যেখানেই জুয়ার আসর সেখানেই শাহীন। তবে জুয়া বন্ধ করতে নয়, খেলতে। তিনি নিজেই খেলায় অংশ নেন জুয়ারীদের সাথে। তাদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তার জুয়া খেলার কারণে জুয়ারীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ফাঁড়ি এলাকায় বিশেষ করে তালতলা, কাজিরবাজার, লামাবাজার ও কাজলশাহ মেডিকেল এলাকায় বাড়ছে অপরাধের সংখ্যা। কোতোয়ালী থানায় সহ সব সেক্টর ম্যানেজ করেন এস আই শাহীন। থানায় সর্বপ্রকার অপরাধ কর্মকান্ড তার যোগসাজসেই ঘটে। এসকল জুয়ার আস্তানায় নিরাপদে জুয়া খেলার জন্য এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করছেন এসএমপির কোতোয়ালী থানার লামাবাজার ফাঁড়ির এসআই শাহীন মিয়া। তিনি সাপ্তাহিক বখরা আদায় করেন এসব জুয়ার স্পট থেকে। এমনকি নিজেও জুয়া খেলেন।
তালতলা নন্দিতা সিনেমা হলের বিল্ডিংয়ের নিচে বামের গলিতে ‘বউ খেলা’ নামক জুয়া এবং ডানে ভারতীয় তির খেলা নামের জুয়া এবং তীর নাইট নামক এটি জুয়ার আসর বসায় শাসক দলের দু-একজন নেতারা। তালতলার আনা ম্যানশনের দু’তলায় ভারতীয় তীর খেলা নামের জুয়া চালায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে এসব জুয়া চললেও সাপ্তাহিক টাকা পাওয়ার কারণে এসব জুয়ারীদের আস্তানায় তেমন পুলিশি অভিযান হয়না।
এছাড়া নগরীর মাছিমপুর এলাকায় চলে তীর ও জুয়ার আসর।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) সুহেল রেজা জানান, এসকল এলাকায় জুয়ার স্পট আছে বলে জানা নেই। প্রশাসন তথ্য পেয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার স্পটে অভিযান পরিচালনা করছেন। আটকও করেছেন অনেককেই। তিনি বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউই নন, যে অপরাধ করবে সে শাস্তি ভোগ করবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, তীর খেলার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর। তিনি বলেন, তীর খেলা নির্মূল করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষ সচেতন হলেই এই খেলা বন্ধ হবে।

UA-126402543-3