বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রতিশ্রুতির রাজনীতি বাদ দিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করুন!



এমপি মন্ত্রী কিংবা নেতা হওয়া সহজ। ক্ষমতায় আসার আগে সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ করা যায়। ক্ষমতায় যাওয়ার পরে এসব প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় উড়ে য়ায়। ভূলে যায় সাধারণ মানুষের কথা। তবে রাজনীতিতে দেখা যায় তেলাতেলী করে অযোগ্য ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদদারী। রাজনীতি সম্পর্কে যাদের হিতাহিত জ্ঞান নেই যারা অন্যের উপর নির্ভরশীল। জনগনের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত। তারাই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নমুলক কাজের বরাদ্দগুলো লোপাট করছে।

এসব জনপ্রতিনিধিদের জন্যই জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের আলো থেকে অন্ধকারে ধেবে যাচ্ছে। প্রসঙ্গ দিরাই শাল্লার রাজনীতি নিয়েই একটা উদাহরণ। দিরাই শাল্লা(সুনামগঞ্জ-২) আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। দীর্ঘ ৪০ বছর দিরাই শাল্লাবাসী অন্ধ হয়ে ভোট দিয়ে এসেছেন। নির্বাচনের সময় আসলেই প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ করা হতো সাধারণ মানুষকে।

এলাকার সাধারণ লোকেরা এখন পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন প্রতিশ্রুতিই হচ্ছে দিরাই শাল্লাবাসীর উন্নয়ন। ৪০ বছর ধরে একই শব্দ শুধু ্উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। বাস্তব অর্থে এই প্রতিশ্রুতি থেকে মুক্ত পেতে আরো কত সময় লাগবে? এমনই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর সুনামগঞ্জ-২ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হোন উনার সহধর্মীনি ড. জয়া সেনগুপ্তা।

উনি নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য। এখন আসা যাক মুল বিষয়ে। সরজমিনে কথা হয় এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে। তারা জানান নির্বাচন মানেই প্রতিশ্রুতি। ভোটের সময় শেষ সাধারণ মানুষের কথাও শেষ। ভোট যখন আসে তখন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি এসে নানা প্রতিশ্রতি দিয়ে যান। পরে দেখা যায় এসব জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভিড়াতো বড় দুরের কথা, কথাই বলা যায় না।

তবে দিরাই শাল্লায় কি এমন অসমাপ্ত কাজ রয়েছে? যে সমাপ্ত করতে হবে। সাধারণ ভোটাররা আরো জানান, এবছর হাওর রক্ষা বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। আর এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা স্থানীয় এমপির মদদপৃষ্ঠ। তবে পরিবর্তন হলে বোঝা যেতে পারে উন্নয়ন হয় কি না?
একজন অযোগ্য ব্যক্তি রাজনীতিতে নামছেন তখন ভালো করে জানতে হবে রাজনীতি মানে কি ? রাজনীতি মানে কি যেমনি জানা

দরকার তেমনি জানা দরকার মানুষের অধিকারের বিষয়গুলো। রাজনীতির সাথে সবচেয়ে বেশী জড়িয়ে আছে মানুষের অধিকারের কথাটিই । পরাধীন দেশের কোন রাজনীতির দরকার নেই। পরাধীন দেশকে বলা যায় স্বাধীতার জন্য মরিয়া মানুষের আকুতির কথা। কিন্তু যখনই কোন দেশ স্বাধীন তখনই রাজনীতির প্রয়োগের কথা চলে আসে । মানুষ রাজনীতি করবে কিসের জন্য ? হ্যা রাজনীতি এমন একটি ব্যপার যা গন মানুষের কথাগুলোই একজনের মুখ থেকে উচ্চারিত হতে হবে, দেশের সার্বোভৌমত্ত্ব রক্ষার বিষয়গুলো জানতে হবে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখার জন্য কাজ করতে হবে এবং সর্বপরি দেশের কথাই বার বার চিন্তা করতে হবে ।
কিন্তু এখানেই যত গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে রাজনীতিতে । রাজনীতিতে সব ধরনের মানুষের উপস্থিতির কারণে রাজনীতির মানে দাঁড়াচ্ছে কি তা বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিকে ভাবছে ব্যবসা প্রসারের মাধ্যম হিসেবে, শিক্ষরা ভাবছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল হিসাবে আর অশিক্ষিতরা ভাবছে নিজেকে সবার সামনে আলাদা মানুষ হিসাবে ভাবানোর জন্য ।

সঠিক নেতৃত্ব গুণ না থাকা মানুষগুলো রাজনীতিতে চলে আসতে থাকলে রাজনীতির সঠিক অর্থ ভুন্ডুল হতেই থাকবে । একসময় রাজনৈতিক নেতা সম্মৃদ্ধ আমাদের এ বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতার সংকট তৈরী হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে বড় রাজনীতি বিদদের দিয়ে নিজেকে পরিচিত করার কৌশল অবলম্বন ! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি উপরে দিয়ে আর নিচে স্থানীয় এমপির ছবি ব্যবহার করে একটা ব্যানার করেই নেতা হয়ে যায়। প্রকৃত পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান মেধাবী লোকদের রাজনীতিতে বিকাশ ঘটুক।

কিন্তু দেখা যায় রাজনীতি কোন্দলের কারনে মেধাবীরা স্থান না পেয়ে হাবিল, কাবিল আর মদরিচের মত লোকদের আগমন ঘটে। ফলে বর্তমান রাজনীতিতে বিরুপপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃত্বের জন্য গন মানুষের রাজনীতি শেখাতে হবে প্রথম সারির নেতৃত্বদানকারী নেতাদেরই ।

যারা শুধু মাত্র নেতার প্রতিচ্ছবিতেই নিজেদের চেহারা অংকন করে ভাবতে শুরু করে দিচ্ছেন আমি বোধহয় রাজনীতি বিদ হয়ে গেছি তাদের কাছে অনুরোধ আপনার মানুষের কাছে যান, মানুষই আপনাদের নেতৃত্বের স্বাদ দেবে । রাজনীতি করার আসল মানেই হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা, দেশের সার্বোভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করা, অর্থনীতি গতিশীল করার জন্য কাজ করা সর্বপরি একটি সুন্দর দেশের জন্য কাজ করা । এহজন সাংবাদিক ও কলামিস্ট হয়ে রাজনীতিতে সঠিক নেতৃত্বের আশা করছি। আমরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হয়ে কাজ করতে চাই সাধারণ জনগনের সাথে।

লেখক: বিপ্লব রায়, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।