বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পল্লীবিদ্যুতের ভুয়া বিলের অভিযোগ: তদন্ত দাবি



আব্দুস সালাম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আইন শৃঙ্খলার কমিটির মাসিক সভায় বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্টানের নিকট থেকে ভুয়া বিদ্যুৎবিল প্রদানের বিষয়ে অসন্তোষ ক্ষোভ ও হতাশা ব্যাক্ত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক সহ কমিটির সদস্যরা। তারা অবিলম্বে ভুয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

কামাল বাজার আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ একেএম মনোওয আলী সভায় অভিযোগ করেন যে, তার খুরমা গ্রামের বাড়িতে ৭০৩ হিসাব নম্বরে মে মাসে বিল ছিল ২৩৭০ টাকা, জুন মাসে ছিল, ২৪১২ টাকা , জুলাই মাসে ছিল ৪২৯০ টাকা, কিন্তু হঠাৎ করে আগষ্ট মাসে এসে বিল দাড়ায় ৮৯৩৫ টাকা।

রামপাশা ইউনিয়নের পুরান গাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের ৪৩১০৪৭ নং মিটারে জুন মাসে ছিল, ১২০০ টাকা, জুলাই মাসে ২৮০০ শত টাকা এবং আগষ্ট মাসে এসে ৩৫৬৫ বিল প্রদান করা হয়েছে। দৌলতপুর গ্রামের আশিক আলীর পুত্র আলী আহমদ সভায় এসে অভিযোগ করেন যে, জুলাই মাসে তার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ২৮০০ টাকা, আগষ্ট মাসে বিল দেয়া হয়েছে ২৬০০০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ বিশ্বনাথ প্রতিনিধি জানান তার বাড়িতে আগষ্ট মাসে অন্যন্য মাসের চেয়ে অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত হয়ে অনেকেই ভুয়া বিদ্যুৎ বিল প্রদানের অভিযোগ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা বিআরডিবি হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত পল্লীবিদ্যুৎতের এজিএম নাজমুল হাসানকে সভার সভাপতি নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথমে সন্তোষ জনক কোন জবাব দিতে পারেননি। তবে বিষটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এব্যাপারে উপস্থিত সদস্য বুন্দ একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম, উপজেলা দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাওলানা একেএম মনোওর আলী, উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, টিএইচও ডাঃ আব্দুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, তাহিদ মিয়া, এ্যাড. মোহাম্মদ আলমগির, নাজমুল ইসলাম রুহেল, তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছোরাব আলী, পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম নাজমুল হাসান, প্রেসক্লাব সভাপতি মোসাদ্দিক হোসেন সাজুল।

লক্ষ্যনীয় বিষয় যে, পল্লীবিদ্যুতের বিল প্রস্তুতকারিগণ অনেক সময় মিটারের রিডিং না দেখে অনুমানের উপর বিল তৈরী করেন কিংবা এক জনের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে অপর জনের বিলের অতিরিক্ত টাকা ডুকিয়ে দেন। আবার অনেক গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্য কিংবা বিদ্যুৎ জ্বালানির ইউনিট না বুঝলে এমন ধরনের গ্রাহককে চিহিৃত করে ফাঁকে ফাঁকে কৌশলে ভুয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়।