মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভোলাগঞ্জ বাংকারে রাতের অন্ধকারে আবারও বোমা মেশিনে পাথর লুট



ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকারে আবারও বোমা মেশিনে পাথর লুট করছে পাথর খেকোরা। পাথর খেকোদের সঙ্গ দিচ্ছেন খোদ কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাই ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সিলেট চৌকির চীফ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ। যেকারনে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যের ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকার এখন পুরোপুরি হুমকির মুখে। যেকোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রোপওয়ে বাংকারে অবস্থিত রেস্ট হাউস, মসজিদ, মেশিনঘর সহ কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন স্থাপনা। রেলওয়ের সংরক্ষিত এলাকায় পাথর লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না। কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা অপ্রতিরোধ্য ওসি আব্দুল হাই ও তার সহযোগী পাথর খেকোদের। যতই তার অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করা হচ্ছে ততই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। প্রতিবাদী লোকদের উপর করছেন একের পর এক মিথ্যা মামলা। কোম্পানীগঞ্জের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ওসি আব্দুল হাইয়ের মামলা আতঙ্ক। তার হাত থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না।

ওসি আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে বিএনপি-প্রীতিরও অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে তার গভীর সখ্যতা। অপরদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের এক খলিফার সাথেও রয়েছে ওসি আব্দুল হাইয়ের অহরম দহরম সম্পর্ক। একদিকে বিএনপি আর অপরদিকে এমপির খলিফার সাথে আতাত করে কোম্পানীগঞ্জের মূলধারার আ.লীগ রাজনৈতিক পরিবারকে কোনঠাসা করে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত ওসি হাই। আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভাঙ্গতে ও জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। অপরদিকে উপজেলার সব সেক্টরেই ওসির নিয়োজিত লোকজন অবৈধ লুটপাট ও বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জে যোগদানের পর ওসি আব্দুল হাইও তৈরী করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নিজস্ব খলিফা ও উপখলিফা। এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে ওসির খলিফা-উপখলিফারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব সেক্টর থেকেই ওসি তার খলিফাদের মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করছেন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন ওসি লাখ লাখ টাকা।
কোম্পানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, স¤প্রতি থানায় যে কয়েকটি মামলা হয়েছে তার সবই আওয়ামী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মূল অপরাধীদের পর্দার আড়ালে রেখে নির্দোষ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলার আসামী করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীরা ছাড় পেয়ে রোপওয়ে বাংকার, লিলাই বাজার, গুচ্ছ গ্রাম, জিরো পয়েন্ট, শাহ আরফিন টিলা ও ধলাই নদী বালু মহাল থেকে প্রতিদিন চাঁদাবাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক লাখ টাকা।

জানা যায়, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকারে সোমবার ৩৫-৪০টি বোমা মেশিন দিয়ে সন্ধ্যা নামার পর থেকে কাক ডাকা ভোর পর্যন্ত লুটপাট করেছে কয়েক লাখ টাকার পাথর। যার ধারবাহিকতায় পরদিন অর্থাৎ গতকাল মঙ্গলবার রাতেও পাথর খেকো সিন্ডিকেটরা বোমা মেশিনের কালো থাবার মাধ্যমে রোপওয়ে বাংকার এলাকা থেকে হাতিয়ে নিয়েছে আবারও কয়েক লক্ষ টাকা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জনশ্র“তি রয়েছে এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এসব পাথরখেকোদের সেল্টার দিচ্ছেন ওসি আব্দুল হাই। আর সাথে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের প্রধান খলিফা গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা।
তথ্য সূত্রে আরও জানা যায়, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সিলেট চৌকির চীফ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বাংকারে অবস্থান করা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাইয়ের মদদে পাথর খেকোদের সাথে আতাত করে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে। যার ধরুন প্রতিটি বোমা মেশিন থেকে ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করছে ওসির প্রধান খলিফা কলাবাড়ি গ্রামের বিল­াল, কাজল সিংহ ও উপখলিফা কলাবাড়ি গ্রামের আলীম উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল­া।

উপজেলাবাসীর দাবি, ওসির বেপরোয়া বাণিজ্য, অবৈধ পাথর লুটপাট, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার সহ সকল প্রকার অবৈধ কর্মকান্ডে কোম্পানীগঞ্জ জুড়ে চরম অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় উপজেলায় অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটতে পারে। তাই উপজেলাবাসী অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ ওসি আব্দুল হাইকে উক্ত থানা হতে প্রত্যাহার ও ওসির সহযোগী চাঁদাবাজ, পাথর খেকো সিন্ডিকেটদের গ্রেফতারে পুলিশের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।