মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ৩ যুবক নিখোঁজের এক সপ্তাহেও কোন হদিস মেলেনি



এম. শামীম আহমেদ : সিলেটে ৩ যুবক নিখোঁজের এক সপ্তাহ হলেও কোন হদিস মেলেনি তাদের। এদিকে পুলিশ বলছে তারা আত্মগোপন করছেন আর পরিবার বলছে তাদের অপহরণ করা হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর টিলাগড় থেকে কলেজে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাজ্জাদ আহমদ। কার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামে। তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী।

এর আগের সন্ধ্যায় টিলাগড় এলাকা থেকেই নিখোঁজ হন ইমাদ উদ্দিন (২৪) নামের এক যুবক। নিখোঁজ ইমাদ উদ্দিন কমলগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে। এই দু’জন নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নগরীর শাহপরান থানায় দুটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। আজ বুধবার পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান মিলেনি।
এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এই দুই যুবককে উদ্ধারে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে তাদের অপহরণ করা হতে পারে এমন কোনো আলামত আমরা পাইনি। হতে পারে তারা নিজেরাই কোনো কারণে আত্মগোপন করেছে। আমরা তাদের খোঁজে বের করতে সবধরণের তৎপরতা চালাচ্ছি।
তবে এই দুই যুবকের পরিবারের একাধিক সূত্রে জানা যায়, তারা পুলিশকেই সন্দেহ করছেন। পুলিশের কথাবর্তায় মনে হচ্ছে তারা এদের সন্ধান জানে। পুলিশই হয়তো তাদের নিয়ে গেছে।

এই দুই যুবক নিখোঁজের পর বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জকিগঞ্জ থেকে ডা. মাহফুজ আলম (৩০) নামে এক চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যায় একদল যুবক। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁরও কোনো সন্ধান মিলেনি। নিখোঁজ ডা. মাহফুজ কসকনকপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। এ ব্যাপারে তাঁর শ্বশুড় পুলিশ সুপার বরাবরেও আবেদন করেছেন।

মাহফুজের শ্বশুড় মুরাদ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে একটি হাইহেস মাইক্রোবাসে করে ৪ জন লোক মাহফুজকে তুলে নিয়ে যায়। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। তবে পুলিশের কেউ আমাদের কাছে তা স্বীকার করেনি।

মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তাও এই তিন যুবককে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী ধরে নিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন।
তবে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেছেন, তাদের পুলিশের কোনো বাহিনী আটক করেছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি।

নিখোঁজ ইমাদ উদ্দিন গত বুধবার মৌলভীবাজারের ভানুগাছ থেকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে সিলেটে অবস্থানরত এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সন্ধ্যায় তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার ১০ মিনিট পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। সিলেটের এমসি কলেজে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হন সাজ্জাদ হোসেন। টিলাগড় শাপলাবাগ এলাকার একটি মেসে থাকতেন তিনি। সাজ্জাদ এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

সাজ্জাদ আলীর বড় ভাই সুজিদ সুজাহিদ আলী বলেন, এখনো সাজ্জাদের কোনো সন্ধান মিলেনি। পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো সদুত্তর দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাই কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা নাশকতার কোনো কাজে জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন সুজাহিদ।

সাজ্জাদের সন্ধান দাবিতে রোববার কলেজের সামনে মানববন্ধন করেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও হবিগঞ্জ জেলা ছাত্র সমন্বয় পরিষদ।