বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চুনারুঘাটে বালি উত্তোলন নিয়ে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ  » «   জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিষয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশ  » «   মহিউদ্দিন শিরু’র ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  » «   বিভিন্নক্ষেত্রে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ এক রোল মডেল: শিক্ষামন্ত্রী  » «   চুনারুঘাটে পরিত্যক্ত টং দোখান থেকে পেট্রোল বোমা ও ককটেল উদ্ধার  » «   শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সিলেটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই: ড. মোমেন  » «   জগন্নাথপুরে গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা  » «   জগন্নাথপুরের সুন্দর আলী পুত্রের কান্ড  » «   ভাষা সৈনিক আসাদ্দর আলীর জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   যান্ত্রীক ত্রুটিতে ৫ ঘন্টা ভোগান্তিতে পবিস কমলগঞ্জ জোনালের ৭৫ হাজার গ্রাহক  » «  

কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান বাছির পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা



ডেস্ক রিপোর্ট: কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায় রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রশাসনের এ অভিযানে ৮টি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়। এসময় হোসেন আহমদ নামে এক বোমা মেশিনের মালিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু ঐ দিন রাতে পুলিশের মামলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের পরিবারের ৫ জনকে আসামী করা হয়। যার নং- ১১, তাং- ০৯/০৯/২০১৮। মামলার আসামীরা হলেন, চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের পুত্র শামীম আহমদ ও বিল্লাল আহমদ, নাতি কেফায়েত উল্লাহ ও মাইনুল্লাহ এবং নাতিন জামাই মামুন চৌধুরী।

মামলার এজাহারে উলে­খ করা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জ থানার এস.আই স্বপন মিয়া ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে শাহ আরফিন টিলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ৮টি বোমা মেশিন ধবংস ও আনুসাঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রোববার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের পরিবারের ৫ সদস্যকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

অভিযান চলাকালীন সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা বোমা মেশিনের মালিক হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করলেও পুলিশ তাকে আসামী করেনি। হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা বলয়ের লোক হওয়ায় ওসির সাথে মোটা অংকের রফাদফার মাধ্যমে এ মামলায় হোসেনকে সম্পৃক্ত না করে তার বিরুদ্ধে থাকা পুলিশ এসল্ট মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করে।

অভিযান পরবর্তী সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আটককৃত বোমা মেশিনের মালিক হোসেনের বিরুদ্ধে চলমান আইনে মামলা হবে এবং তার বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট মামলাও রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা আফতাব আলী কালার সাথে ওসি আব্দুল হাইয়ের সখ্যতা থাকায় মামলার আসামী করা হয়নি তার বলয়ের লোক হোসেনকে।

শাহ আরফিন টিলায় অভিযান পরিচালনাকালে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে রোববার বোমা মেশিনের মালিক ও পরিবেশ ধবংসকারী হোসেনকে তার বোমা মেশিনের কাছ থেকে আটক করা হয়। সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলনা। এমনকি সেখানে তাদের পাথর উত্তোলনের সাথে সম্পৃক্ততা নেই। শাহ আরফিন টিলায় একদল পাথর খেকো চক্র নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অবাধে উত্তোলন করছে পাথর। আর সেই পাথরখেকো চক্রের সাথে ওসি আব্দুল হাইয়ের রয়েছে অহরম দহরম সম্পর্ক। যেকারনে ওসি আব্দুল হাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদের উপর মিথ্যা মামলা করে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের ওসি তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। বারবার বোমা মেশিন ধ্বংসের নামে অভিযান পরিচালনা করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। গতকাল শাহ আরফিন টিলায় যে অভিযান চালানো হয়েছে তাতে তার পরিবারের কেউ ছিলেন না। এমনকি অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, লুটপাট বন্ধ ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে তিনি ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সরকারের উর্ধ্বতন মহল ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিতও হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাইয়ের নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে ও তাকে থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেটে পৃথক দুটি সাংবাদিক সম্মেলনেও করেছি। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওসি আমার পরিবারের উপর আবারো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যার প্রমাণ হলো- সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা যখন শাহ আরফিন টিলায় অভিযান চালাচ্ছেন ঠিক সেই সময় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে আমার ছেলে বিলাল হোসেন পুলিশ সুপার অফিসে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে ওসি আব্দুল হাইয়ের দায়ের করা বিভিন্ন মামলা প্রসঙ্গে নিজ বক্তব্য প্রদান করে।

এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে আমার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলা থেকে প্রত্যাহার করা না হলে কোম্পানীগঞ্জে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাই ও তদন্ত ওসি দিলীপ কান্ত নাথকে বার বার ফোন দিলেও তারা সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন নি।