বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চুনারুঘাটে বালি উত্তোলন নিয়ে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ  » «   জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিষয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশ  » «   মহিউদ্দিন শিরু’র ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  » «   বিভিন্নক্ষেত্রে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ এক রোল মডেল: শিক্ষামন্ত্রী  » «   চুনারুঘাটে পরিত্যক্ত টং দোখান থেকে পেট্রোল বোমা ও ককটেল উদ্ধার  » «   শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সিলেটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই: ড. মোমেন  » «   জগন্নাথপুরে গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা  » «   জগন্নাথপুরের সুন্দর আলী পুত্রের কান্ড  » «   ভাষা সৈনিক আসাদ্দর আলীর জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   যান্ত্রীক ত্রুটিতে ৫ ঘন্টা ভোগান্তিতে পবিস কমলগঞ্জ জোনালের ৭৫ হাজার গ্রাহক  » «  

হবিগঞ্জ পৌরশহর অস্তিত্ব সংকটে, দায় কার?



আমাদের দেশের শহরায়ন বা পৌরসভা, তাতে সমস্যা যে থাকবে না তা নয়। একে সঙ্গে নিয়েই জীবন চালাতে হবে। কিন্তু সমস্যা যখন প্রকট হয়ে যায়, তখন শহরবাসীর কি করার থাকে? নিশ্চয়ই দু’একটা ‘গালি’ দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।

আর কিছু করা যাবে না বলেই হয়তো কর্তৃপক্ষ উদাসীন মনোভাবে দিন পার করে দেয়। না হলে কি আর দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হবিগঞ্জের আজ বেহাল অবস্থা থাকতো! আমাদের প্রাণের, অস্তিত্বের শহর হবিগঞ্জ আজ বড্ড জরাজীর্ণ। শহরের অলিগলিরতো হাল নেইই, এখন প্রধান সড়কও ভাঙাচোরা। খোয়াইমুখ থেকে শুরু করে যেভাবে ভাঙা রাস্তার শুরু হয়, দেখে মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগবে আমাদের এই শহরটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। শহরের যে প্রান্তেই যান ভেঙে যাওয়া রাস্তার মোকাবেলা করতেই হবে।

এমন কেনো? থমকে গেলো কেনো উন্নয়ন? কিছুদিন আগেওতো আমাদের শহরটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার দিকেই এগোচ্ছিলো। শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘাটিয়া বাজার, বগলা বাজার, পোস্ট অফিস রোড, কোর্ট স্টেশন পয়েন্ট, চৌধুরী বাজার পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার সড়ক এখন ভঙ্গুর! এর প্রধান কারণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন, শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু লোভাতুর কন্ট্রাক্টরদের।

তাদের মতে, আসাদু কন্ট্রাক্টরদের হবিগঞ্জ শহরের ভাঙাচোরা রাস্তার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এদিকে, শহরের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার মনে হচ্ছে, এ অনুন্নয়ন বা কন্ট্রাক্টরদের দুর্নীতির দায় কোনোভাবেই পৌর বা জেলা প্রশাসন কিংবা জেলা পরিষদের একার নয়।

তবে হ্যা, সঠিক কন্ট্রাক্টর নিয়োগ বা তাদের পেছনে তদারকি করলে এ দায়টা প্রশাসনকেও দেওয়া যেতো না। এছাড়া উন্নয়নকাজ সঠিক পরিচালনায় এবং পরিদর্শনে পৌর প্রশাসন বারবারই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে শহরবাসীর অভিযোগ রয়েছে। আমাদের পৌরসভা বলতে গেলে, তুলনামূলকভাবে অন্যান্য প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর চেয়ে আকারে-আয়তনে বা জনসংখ্যার দিক দিয়ে ছোট। তবে কেনো পৌরবাসী আজ এতো দুর্ভোগে? এ প্রশ্নটি পৌর শহরটির মেয়রকে তারা করতেই পারে। যদিও তারা এর সঠিক উত্তর পাবে না; তার কাছে নেই। কারণ মেয়র তার সেইসব প্রতিশ্রুতির কথা মনে রাখেননি।

জেলে থেকে যে নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরে শহরটির দায়িত্ব নিলেন, তার যে একটু দেখভাল করতে হবে সে ব্যাপারে তিনি আজ উদাসীন। নানা অজুহাত নিয়ে শহরবাসীর কাছে এখন তিনি ভালো ‘উপস্থাপক’। তিনি প্রায়ই কথায় কথায় বলছেন, তার দল ক্ষমতায় নেই। সেজন্য তিনি কিছু করতে পারছেন না।

তাহলে প্রশ্ন হলো- যেটা তিনি পারবেন না, সেটা বলেছিলেন কেনো? না-কি মিথ্যে প্রতিশ্রতি ছিল? পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে ঘোষণার পর থেকে আমরা যারা বাসিন্দা, আমাদের পৌর কর দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ। কিন্তু এ পৌরসভা তাদের সেবার মান কতটুকু বৃদ্ধি করেছে? আজকের হবিগঞ্জের চেয়ে আগের ‘পাজামা শহর’ হবিগঞ্জ কি খুব একটা বসবাস অনুপযোগী ছিল? এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় অনেকের মাথায় ঘুরপাক খায়। যাইহোক, এখন একটু অন্য ভাবে আলোচনা করি, পৌরসভার যা উন্নয়ন হয়, তার অধিকাংশ কাজের অর্থ আসে সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে।

যা দিয়ে ‘দামাচাপা’ দেওয়ার মতো কিছু কাজ করে বাকিটা লুটে নেন শহরের মাত্র কয়েকজন কন্ট্রাক্টর। তবে শুধু কন্ট্রাক্টর বললে ভুল হবে, কারণ এর সঙ্গে অবশ্যই প্রশাসনেরও বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছে। আর যদি প্রশাসন এতে জড়িত না থাকে, তাহলে বিগত পাঁচ বছরে হবিগঞ্জ পৌরসভার রাস্তাঘাটের যতো উন্নয়ন কাজ হয়েছে সেই কাজগুলো কোন কোন কন্ট্রাক্টর বা কোম্পানি করছেন তার একটা তালিকা দেওয়া হোক তাদের পক্ষ থেকে।

আমরা সাধারণ জনগণও চিনে রাখি দুর্নীতিবাজ কন্ট্রাক্টর কে কে। সবশেষে, আমরা যদি সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজ কন্ট্রাক্টরদের বর্জন করি, তবে হয়তো কোনো উন্নয়নই থেমে থাকবে না। তাই এগিয়ে আসুন দায়িত্বশীল হই সবাই। আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। আহ্বান রইল।

লেখক:

মাহবুবুর রহমান সানি, হবিগঞ্জ

সাবেক সহ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।