সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে ১৪ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, উপজেলা জুড়ে আতংক



আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:: গোলাপগঞ্জে পৌর শহরে ১৪ ঘন্টা ব্যাপী সংঘাত আর সংঘর্ষে আতংকিত হয়ে পড়েছেন পুরো উপজেলার মানুষ। ঈদের আগে সংঘাতের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে হরতাল বা অবরোধের মতো অবস্থা বিরাজ করছে । পৌর শহওে সংঘর্ষে গোলা গুলি আর ইট পাটকেল নিক্ষেপ ক্রেতা- বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।

গত শনিবার সকাল ১০টা থেকেই গোলাপগঞ্জ বাজারের পশ্চিম প্রান্তে এমসি একাডেমী অস্থায়ী গরুর বাজারে সংঘর্ষ ও গোলা গুলি হয় বিকেল পর্যন্ত। পরে সন্ধ্যায় মাছ বাজারে আড়ৎদার ও ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংষর্ঘ শুরু হলে বিরোধটি যখন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চলা কালিন সময় চৌমুহনীতে রাবেল ও রুহিন দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে আতংক সৃষ্টি হয় ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।

গোলাপগঞ্জে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্রে দু যুবকের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতা হাতি জের ধরে রণকেলীর ব্যবসায়ী সেলিম আহমদের পুত্র হৃদয় আহমদ ছুরিকাহত হন। এতে হৃদয় বড় ধরনের যখম প্রাপ্ত হলে হৃদয়কে প্রথমে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশংকা জনক হলে তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শরীরে ১৪টি সেলাই দেয়া হয়েছে।

তবে হৃদয়ের পিতা সেলিম আহমদ প্রতিবেদককে জানান অবস্থা পুরোপুরি আশংকা মুক্ত নয় । হৃদয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রুহিন আহমদ খান ও আমিনুল ইসলাম রাবেলের গ্রুপের কার্যালয় ভাংচুর করা হয় গোলাপগঞ্জ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নারী-পুরুষসহ- বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রাণ বাঁচাতে মসজিদ ও বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। এসময় সিলেট-জকিগঞ্জ রাস্তায় বিভিন্ন ধরণে যান বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

প্রায় ঘন্টা খানিক পর পুলিশ উভয় পক্ষকে তাড়িয়ে দেয়। এতে আব্দুল হানিফ খান ও বদইসহ উভয় গ্রুপের ৫/৬ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। ঘটনার পর গভীর রাত পর্যন্ত গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। রোববারও গোলাপগঞ্জ বাজার ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ থাকতে দেখা যায়।গোলাপগঞ্জ মডেল থান সূত্রে জানাযায়, ঐসব বিষয়ে কোন মামলা হয়নি ।