মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় আওয়ামী লীগ নেতা শামীমের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা



ডেস্ক রিপোর্ট: কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে পাথর কোয়ারিতে চাঁদাবাজি, দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগের তিন দিনের মাথায় মামলার আসামী হয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী শামীম আহমদ। গতকাল রোববার শামীম আহমদসহ ৫ জনের নামোল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১২। মামলার অপর আসামীরা হলো শামীমের ভাতিজা কেফায়েত উল্লাহ, শামীমের ভাগনে আনোয়ার চৌধুরী, কেফায়েতের শ্যালক জাকারিয়া হোসেন ও শামীমের কর্মচারি আনু।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টায় ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর বাংকার নামক স্থানে টাস্কফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে বোমা মেশিন মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাই। জব্দকৃত দুটি বোমা মেশিনের মালিক পাড়ুয়া গ্রামের শামিম আহমদ ও তার ভাতিজা কেফায়েত উল্লাহ বলে জানায় পুলিশ। গত শনিবার রাতে উপজেলার রেলওয়ে বাংকার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু লাইছের নেতৃত্বে ট্রাষ্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ২ টি বোমা মেশিন জব্দ করে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে এসআই খায়রুল বাশার বাদি হয়ে এজাহার দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী শামীম আহমদ বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নিজের দোষ ঢাকতে মিথ্যা মামলা করেছেন। গত ১৬ আগস্ট আমিসহ তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি, পাথর কোয়ারি ধ্বংসে ওসির শেল্টার দেওয়া, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করি পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপির মাধ্যমে । এ অভিযোগের কারণে ওসিসহ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে আমাদের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের বিতর্কিত ওসি আব্দুল হাইয়ের মদদে গোটা উপজেলাজুড়ে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর লুটপাট চলছে। গত এক মাস ধরে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এই পাথর লুটপাট চললেও ওসি আব্দুল হাই আইনের কোনো তোয়াক্কা করছেন না। টাকার নেশায় ওসি পর্যটনস্পট গুলোতেও পাথর লুটপাটকারী চক্রকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

এসবের প্রতিকার চেয়ে তিনি সহ কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে গত বৃহস্পতিবার লিখিত আবেদন করেন। এই আবেদনের খবর ইতিমধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন ওসি আব্দুল হাই। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং-১১, তারিখ- ১৯/০৮/২০১৮ খ্রি. ধারা-১৪৩/৪৪৭/২৮৭/৩৭৯/৪২৭/৪৩১)।

শামীম আরো বলেন, ওসির বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা হলে কোম্পানীগঞ্জের মানুষ বসে থাকবে না। এক ওসির কর্মকান্ড কোম্পানীগঞ্জের মানুষকে প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করাবে- এটি কোনো ভাবেই কাম্য হতে পারে না। তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটি শতভাগ মিথ্যা মামলা। এ মামলায় চক্রান্তমুলকভাবে তাকে তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানো হয়েছে। তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। অন্যথায় কোম্পানীগঞ্জের মানুষ ওসির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।