সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ট্রাফিক সপ্তাহে সরকারের রাজস্ব আদায় সোয়া কোটি টাকা



জাবেদ এমরান:: দেশব্যাপী পালিত হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহে দশদিনে সিলেটে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯ শত ৫০ টাকা। তার মধ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যানবাহনের ফিটনেস, নবায়ন, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট ও লার্নার থেকে আসে ৯৫ লক্ষ টাকা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। অপরদিকে সিলেট মহানগর ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক অভিযান বিভিন্ন সড়কে পরিচালিত হয়।

ট্রাফিক সাপ্তাহে ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ আইনে দশদিনে যানবাহনে জরিমানা করা হয় ২১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯ শত ৫০ টাকা। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৭ শত ৫৮টি মামলা দেয়া হয়। কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১৯৪টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন আটক করা হয়।

ট্রাফিক অফিস সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে পরিচালিত অভিযানে প্রথমদিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২২৪টি, চালকের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ২৫টি আর জরিমানা আদায় হয়। ২ লক্ষ ৩ হাজার ২০০ টাকা। দ্বিতীয় দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৩০১টি, চালকের বিরুদ্ধে ১৬১টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ২৩টি আর জরিমানা আদায় হয়। ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৩০০ টাকা।

তৃতীয় দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২৩৬টি, চালকের বিরুদ্ধে ১৫৪টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ১০টি আর জরিমানা আদায় হয়। ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা। চতুর্থ দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৭১টি, চালকের বিরুদ্ধে ২২২টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ১২টি আর জরিমানা আদায় হয়।

১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৫০ টাকা। পঞ্চম দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২১৬টি, চালকের বিরুদ্ধে ৩১৯টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ৭টি আর জরিমানা আদায় হয়। ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫৫০ টাকা। ষষ্ট দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ১১৯টি, চালকের বিরুদ্ধে ১৯৮টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ৬টি আর জরিমানা আদায় হয়।

১ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৫০ টাকা। সপ্তম দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৪৩টি, চালকের বিরুদ্ধে ২৬৮টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ৭টি আর জরিমানা আদায় হয়। ২ লক্ষ ৭ হাজার ৩৫০ টাকা। অষ্টম দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৩৬টি, চালকের বিরুদ্ধে ১৮৩টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ১৮টি আর জরিমানা আদায় হয়।

২ লক্ষ ৮০০ টাকা। নবম দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯৮টি, চালকের বিরুদ্ধে ১৩৬টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ২৬টি আর জরিমানা আদায় হয়। ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা। ও দশম দিন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২২৭টি, চালকের বিরুদ্ধে ৩২৪টি মামলা দেয়া হয় ও যানবাহন আটক করা হয় ৬০টি আর জরিমানা আদায় হয়।

৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৫০ টাকা। সিলেট বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলায় বৈধ যানবাহন রয়েছে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৬৮টি। একটি গাড়ির নাম্বার প্লেট দিয়ে একাদিক গাড়ি থাকলে সে গুলো আটক করে জরিমানাসহ মামলা দিয়ে অবৈধ গাড়ির নাম্বার খোলে রেখে দেয়া হয়। দেশে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হওয়ার পর থেকে বিআরটিএ অফিসে ভিড় বেড়ে যায়।

যানবাহনের ফিটনেস, নবায়ন, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট ও লার্নারের জন্য দ্বিগু গ্রাহক বাড়ায় ১৩ জন কর্মকর্তারা কর্মচারী নিয়ে রাত পর্যন্ত সেবা দেয়া হচ্ছে।

বলেন বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী কে, এম, মাহাবুব কবিরের সাথে। তিনি আরো বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সিলেট থেকে ৩৫ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কয়েকগুণ বেশি রাজস্ব আদায় হবে বলে মনে করছেন। কথা হয় সিলেট মেট্রোপলিটনের উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ এর সাথে।

তিনি জানান, ঈদে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে কদমতলীর হুমায়ূন রশিদ চত্বর ২৪ ঘন্টা পালাবদল করে ট্রাফিকপুলিশ কাজ করছে। প্রতিটি দূরপাল্লা বাসের কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে ছাড়তে দেয়া হচ্ছে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত সড়কে গাড়ি পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।