বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কোম্পানীগঞ্জে ওসির সিন্ডিকেটে চলছে বোমা মেশিন



কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা: সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ গুচ্ছগ্রাম ও লিলাই বাজারে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই অভিযানে পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করায় ইমাম উদ্দিন (৩৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি স্থানীয় পাড়ুয়া মাঝপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী দুদু মিয়ার ছেলে। অভিযানে ২০টি বোমা মেশিন ও একটি পেলোডার ধ্বংস করা হয়।
জানা যায়, ইমাম উদ্দিন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাই’র সেল্টারে পাথর উত্তোলন করে আসছেন। ইমাম উদ্দিনকে রাতে পরিবেশ বিধবংসী বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে সহযোগীতা করেন ওসি আব্দুল হাই। ওসিকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে রাতের আধারে গুচ্ছগ্রামে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে ইমাম উদ্দিন। ওসি আব্দুল হাই প্রতি রাতে পুলিশ পাহাড়া দিয়ে ইমাম উদ্দিনের সাথে হাত মিলিয়ে ধ্বংস করছেন গুচ্ছগ্রাম ও আশপাশ এলাকা। ১৪৪ ধারা জারির পরও দেশের একমাত্র রজ্জুপথ ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে রোপওয়ে বাংকারে প্রতিদিন রাতের আধারে ওসির নির্দেশনায় ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চীফ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে পাথর খেকো সিন্ডিকেট প্রধান কাজল সিংহ, কলাবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে শাহাব উদ্দিন, হাজী আব্দুল মনাফের ছেলে আলিম উদ্দিন, বিল­াল আহমদ, তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল­া, কালিবাড়ি গ্রামের আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বোমা মেশিন নামক দানব যন্ত্র দিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এদিকে উপজেলার দয়ার বাজার সংলগ্ন কালীবাড়ী গ্রাম ও লিলাই বাজার বোমা মেশিনের তান্ডবে হুমকির মুখে পড়েছে। লিলাই বাজার এলাকায় বোমা মেশিন দিয়ে রাতের আধারে পাথর উত্তোলনে ওসির রয়েছে বিশাল ভূমিকা। সেখানে প্রতি বোমা মেশিন থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ওসিকে দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে কারও কথা বলার কোন সাহস নেই। কোম্পানীগঞ্জে যেন ওসি আব্দুল হাই সর্বেসর্বা।
শুক্রবার সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে গুচ্ছগ্রামে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।
এ অভিযানে ইমাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ইমাম উদ্দিনের সেল্টারদাতা ওসি আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ওসি আব্দুল হাই গ্রেফতারের পর থেকে ইমাম উদ্দিনের স্বজনদের নানা হুমকি প্রদর্শন করে আসছে।
জানা যায়, ওসির মদদে দীর্ঘ দিন ধরে কোম্পানীগঞ্জে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে করে পাথরখেকোদের চক্রের কবলে পড়ে শারপিন টিলা, ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে রোপওয়ে বাংকার, কালাইরাগ গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, সাদা পাথর এলাকা, কালীবাড়ী গ্রাম এবং লিলাই বাজারের অস্তিত্ব বিলীন হতে যাচ্ছে। ওসি আব্দুল হাই কোম্পানীগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে বোমা মেশিন চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কমপক্ষে ৯০টি বোমা মেশিন সিন্ডিকেটের কাছ থেকে অগ্রীম হিসেবে ১ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এর বাইরে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি বোমা মেশিন চলে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। একেক এলাকার বোমা মেশিন সিন্ডিকেটদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫-৬ লাখ টাকা করে ওসির চাঁদাবাজ বাহিনী আদায় করছে।