মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে আলোচনায় ২৪ রোভার



জাবেদ এমরান:: সম্প্রতি দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে দেশ। ক্লাস ছেড়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে প্রশাসনকে দেখিয়ে দেয় মোটরযান আইনের অনেক খুঁটিনাটি।

তাদের নিরাপদ সড়কের দাবির প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহ’র কর্মসূচী দেয়া হয়। কঠোর অবস্থানে থেকে যানবাহনের বিরুদ্ধে সড়কে রয়েছে পুলিশ। জনবল পর্যাপ্ত না থাকায় পুলিশের সহযোগি হিসেবে সারাদেশে সেচ্ছাসেবীর কাজ করছে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শত শত স্কাউটসের সদস্যরা। প্রতিদিন সিলেট নগরীর ৬ পয়েন্টে অবস্থান নেয়া রোভার স্কাউটসের ২৪ সদস্যদের নিয়ে চলছে আলোচনা।

তারা সকাল থেকে দুপুর কোথাও বিকাল পর্যন্ত পুলিশের সাথে চালকের ও যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাচাইয়ে সহযোগীতা করছে। যানজট প্রবন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখছে। বিভিন্ন মোড়ে ছোটছোট দলে অবস্থান করে মোটরযানের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা এ বিষয়গুলো দেখছে রোভার স্কাউটের সদস্যরা। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে রাখা চালকদের গাড়ি না রাখতে অনুরোধ করছে।

এছাড়া যে সকল মোটরসাইকেল চালকদের মাথায় হেলমেট নেই, তাদেরও অনুরোধ করছে হেলমেট মাথায় রাখতে। দুর্ঘটনা এড়াতে মোটরসাইকেলে তিনজন বহন না করতে বুঝানোসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে বলছে। আর যে সব মোটরযানের ফিটনেস বা ড্রাইভারদের লাইসেন্স নেই তাদেরকে স্কাউটরা ট্রাফিক সার্জেন্টের কাছে নিয়ে যায় এবং সার্জেন্ট কাগজপত্র দেখে যাদের মামলা দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন সে সকল গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেন।

জানা যায়, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ এর তত্ত্বাবধানে থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর প্রথমদিন থেকে সিলেট জেলা রোভার স্কাউটসের সদস্যরা নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌহাট্রা পয়েন্ট, রিকাবীবাজার পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট ও টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এসব রোভার স্কাউটসরা ৬টি পয়েন্টে ৪ জন করে প্রতিদিন ২৪ জন ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে গত রবিবার থেকে পালিত হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর দিনে জেলা প্রশাসক নূমেরী জামানের তত্ত্বাবধানে তার কার্যালয়ে রোভার স্কাউটসের রোভারদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সে সময় সহযোগীতায় করেণ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ, বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী কে, এম, মাহাবুব কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একদিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩৫ জন ছাত্রছাত্রী।

বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে সিলেট জেলা রোভার স্কাউটসের সদস্য, মদন মোহন কলেজের ছাত্র রাহিমুদ্দিন রাহি, সালেহ আহমদ রনি, মোস্তাকিম আহমদ জিন্নাহ, শাহরিয়ার নাসিম, বেলাল আজাদ জুয়েল, নাছির উদ্দিন, মো. বদরুল আহাদ, সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্র সুলতান আহমদ সৌরভ, শাকিল আহমদ চৌধুরী, রেজওয়ান হোসাইন, মুরারি চাদঁ কলেজের (এম সি কলেজ) ছাত্র হিমেল আহমদ, এফতেখারুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র জাহাঙ্গীর আলম, মাসুদ রানা, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র মো. ছাইফ হাসান, মো. সিয়াম, সিলেট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের, ইমন হোসেন, হযরত শাহজালাল ডিগ্রি কলেজের মামুন আহমদ, করিম আলী এছাড়াও, সিলেট মুক্ত রোভার স্কাউটস গ্রুফ এর জুবায়ের আহমদ, রায়হান উদ্দিন মাহি, তানজীল আহমদ, অলিউর রহমান ফরিদ ও নাঈম আহমদ প্রমুখ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কাজ করে যাচ্ছে।

ট্রাফিক সপ্তাহ ছাড়াও প্রতি বছর রমযানে তীব্র যানজট নিরসনে স্কাউটের পোষাকে দায়িত্ব পালনে রোভারদের নগরীতে কাজ করতে দেয়া গেছে। দেশের যে কোনো ক্রান্তিকালে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে স্কাউটসরা সেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনের কারনে ক্রমেই বাড়ছে তাদের সুনাম। সমাজ সচেতন এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সমাজসেবামূলক কাজ দেখে তাদের প্রশংসা করছেন দেশবাসী।

ইউকিপিডিয়ার তথ্যসূত্রে জানা যায়,
বাংলাদেশ স্কাউটস হলো বাংলাদেশের জাতীয় স্কাউট সংগঠন। এই অঞ্চলে স্কাউটিং কর্মকান্ড শুরু ১৯১৪ সালে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের ব্রিটিশ ভারতীয় শাখার অংশ হিসাবে। পরে পাকিস্তান বয় স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের অংশ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত এখানে স্কাউটিংয়ের কার্যক্রম চলে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্কাউট এসোসিয়েশন নামে জাতীয় পর্যায়ে স্কাউটিংয়ের সংগঠন গড়ে উঠে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক স্কাউট আন্দোলনের সদস্য হয়। পরে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ স্কাউট এসোসিয়েশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ স্কাউটস। ২০১৫ সালের হিসাবে বাংলাদেশে মোট স্কাউটের সংখ্যা ১,৪৭৪,৪৬০ জন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে রোভার স্কাউটসরা সারাদেশজুড়ে কাজ করছে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্কাউটরা দক্ষতার সাথে পুলিশের সাথে সড়কে কাজ করছে। তাদের সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সবার মাঝে সচেতনতা বাড়লে অপরাধ কমে আসবে। সে লক্ষেই স্কাউটসরা সর্বদা চেষ্টা করে চলেছে।